০৬:৪১ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নির্মাণাধীন কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কটি প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে, যেখানে শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি খুঁটি সড়কের ভেতরে অবস্থিত। খুঁটি সরাতে হলে সদ্য নির্মিত সড়কের অংশ কাটতে হবে এবং পরে মেরামত করতে হবে। অথচ সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) নির্মাণের পূর্বেই খুঁটি সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তা নতুন, কংক্রিটও নতুন; কিন্তু বাধাগুলো পুরনো। সদ্য নির্মিত সড়কের মাঝখানে একের পর এক বিদ্যুতের খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। কিছু খুঁটি মাঝ বরাবর, কিছু চলাচলের অংশে এবং কিছু রাস্তার একেবারে গা ঘেঁষে রয়েছে। সড়কটি এখনও উদ্বোধন হয়নি, তাই বড় যানবাহনের নিয়মিত চলাচল শুরু হয়নি। তবে স্থানীয় ছোট যানবাহন, বিশেষ করে অটোরিকশা, চলাচল করছে এবং নতুন সড়কে তাদের পথ আগলে রেখেছে এসব খুঁটি।
সড়কের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এসব খুঁটির কারণে দিনের আলোতেই ছোট পরিবহনকে পাশ কাটাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের উদ্বেগ, সড়ক পুরোপুরি চালু হলে বড় যানবাহন নামলে ঝুঁকি বাড়বে। রাতের অন্ধকার কিংবা ঘন কুয়াশায় এসব খুঁটি দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
জানা যায়, রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভা ও ভোলাবো ইউনিয়নের সঙ্গে নরসিংদীর পলাশ ও ঘোড়াশালসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগের জন্য কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ৫ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ ব্যয় ২৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নেয়া প্রকল্পে ২৪ ফুট প্রশস্ত করে সড়কটি নতুনভাবে নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে সাগর ইনফো বিল্ডার্স লিমিটেড। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৯৫ শতাংশ। কিন্তু প্রকল্পের এই অদ্ভূত সমীকরণ হলো, সড়ক নির্মাণ হয়েছে, কংক্রিটের ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে, কাজও প্রায় শেষ। কিন্তু এখন আবার নতুন সড়কের অংশ কাটতে হবে। কারণ, সড়কের ভেতরে থাকা ৪৬টি খুঁটি সরাতে হবে নতুন জায়গায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সদ্য নির্মিত অংশ কাটতে হবে এবং খুঁটি সরানোর পর আবার মেরামত করতে হবে। অর্থাৎ আগে রাস্তা নির্মাণ, পরে খুঁটি সরানো, তারপর আবার রাস্তা মেরামত।
এই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। সড়ক নির্মাণের শুরুতেই খুঁটি সরানোর জন্য নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাছে আবেদন করেছিল সওজ। পল্লী বিদ্যুৎ খুঁটি স্থানান্তরের ব্যয় নির্ধারণ করে অর্থ জমা দিতে বলে। কিন্তু সওজ সেই অর্থ সময় মতো পরিশোধ করেনি, ফলে সড়ক থেকে খুঁটি সরানো হয়নি। তবে সড়কের কাজ থেমে থাকেনি। নির্মাণ এগিয়েছে, ঢালাই হয়েছে, কাজ ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে, কিন্তু খুঁটি সেখানেই রয়ে গেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ জানায়, ২০২৫ সালে সওজকে খুঁটি সরানোর ব্যয়ের হিসাব দেয়া হয়েছিল। টাকা জমা না পড়ায় তখন খুঁটি সরানো হয়নি। তবে সরকারি সড়কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ জানান, "২০২৫ সালে আমরা সওজকে খুঁটি সরানোর একটি হিসাব দিয়েছিলাম। তারা সেই অনুযায়ী টাকা জমা না দিয়েই সড়কের কাজ করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর আমরা খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছি। আগামী দুই মাসের মধ্যে সব খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে।" তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে চেষ্টা থাকবে যেন উভয় পক্ষের সমন্বয় ঠিক থাকে।
তবে হিসাব দেয়ার পরও কেন নির্মাণের আগেই খুঁটি সরানো গেল না, এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি পল্লী বিদ্যুতের এই কর্মকর্তা।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, বরাদ্দের অভাবে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। খুঁটি সরানোর টাকা তখন দেয়া যায়নি। এখন প্রধান কার্যালয়ে চাওয়া বরাদ্দের টাকা চলে এসেছে। দ্রুত সেই অর্থ পল্লী বিদ্যুৎকে দেয়া হবে। সদ্য নির্মিত সড়ক কাটার পর আবার মেরামতের খরচ কে দেবে? এমন প্রশ্নে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, "সেই ব্যয় হবে সামান্য। ব্যবস্থা করবে তার দফতর।"
পল্লী বিদ্যুৎ আগামী দুই মাসের মধ্যে সব খুঁটি সরানোর আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু এর আগেই কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়ক সামনে এনেছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের পুরনো এক প্রশ্ন, যে খুঁটি সরানোর প্রয়োজন নির্মাণের আগেই জানা ছিল, সেই খুঁটি রেখেই কেন প্রায় পুরো সড়ক শেষ করা হলো? আর যে সড়ক এখনও উদ্বোধন হয়নি, কেন সেই সড়কেই করতে হবে পুনঃকাজ? দুই সরকারি সংস্থার সমন্বয়ের ঘাটতিতে তৈরি এই বাড়তি কাজের ব্যয় যতই ‘সামান্য’ হোক, শেষ পর্যন্ত সেই অর্থও তো জনগণের।
আরও পড়ুন: সাম্য ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে মানবিক দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার : ডেপুটি স্পিকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন