০৯:২৬ পি.এম
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকার দেশের শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত বাজেটে এবছর শিক্ষা খাতে জিডিপির দুই শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত এই বাজেটের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা আবশ্যক।
তিনি আলোচনা করে যে, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানবসম্পদ। যা তৈরিতে শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা অপরিহার্য। এজন্য সরকার দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। দেশ সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ‘আনন্দময়’ করতে চায়। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে একটি আনন্দময় শিক্ষার দিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য শ্রেণিকক্ষে আনন্দময় শিক্ষা বা ‘লার্ন উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণা পাঠ্যবইয়ের সিলেবাস ও কারিকুলামে সংযোজন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
তিনি আরো বলেন, সেই দিন আসবে, যেদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা আগামী বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। এই প্রত্যয় নিয়ে আজ যারা পুরস্কৃত হয়েছেন, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও যারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাই। তিনি আশা করেন, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা ১৮০০ শতাব্দীতে ব্রাহ্ম স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। স্বাধীনতার পরে এটি জগন্নাথ কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং পরে বিভিন্ন ধাপে উন্নীত হয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। আমি যখন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলাম, তখন এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বহু বৈঠক করতে হয়েছে। কীভাবে নীতিমালা নির্ধারণ ও কীভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে সংগঠিত করা হবে, সে সম্পর্কে আমরা কাজ করেছিলাম। শেষে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, আমি যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম, তখন পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণ নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। ১ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে হতো। আমার মনে আছে, একদিন গভীর রাতে হামিদ, সাত্তার, টিপু ও পারভেজদের সঙ্গে বাংলাবাজারে বই চোরাচালান রোধে অভিযান চালিয়েছিলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় আমরা সেই কার্যক্রম বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৬ দিনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং শিক্ষার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও নেতৃত্বের গুণাবলি ছিল অসাধারণ। তাঁর শিক্ষার উন্নয়নের জন্য দুরদর্শিতা এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিল, যেখানে আমরা এখনো পুরোপুরি পৌঁছাতে পারিনি।
তিনি বলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং শিক্ষার প্রসারে তিনি ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’ কর্মসূচি চালু করেছিলেন। পরে ‘টাকার বিনিময়ে শিক্ষা’ কর্মসূচিও চালু করেন। তিনি মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি চালু করেন, যা উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। তিনি বলেছিলেন, আবার দায়িত্ব পেলে ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি দেবেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি আমাদের মাঝে নেই। তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েক দিন আগে ঘোষণা করেছেন যে ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি প্রদান করা হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. পরিমল বালা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর মোর্শেদ ভুঁইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন