ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ নেচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশনের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সেমিনার


বাংলাদেশ নেচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশনের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সেমিনার

বাংলাদেশ নেচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সেমিনারটি মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়।

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব। উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ নেচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএমএইচের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আলোচনা সভা আর সেমিনারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না; এর জন্য প্রয়োজন সরকারের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ।’

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ

তিনি উল্লেখ করেন, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু দমনে এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, ‘ইতোমধ্যে লাখেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও এটি প্রতিরোধে সরকারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। রাজনীতি যদি কেবল ক্ষমতার জন্য হয়, তাহলে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে সরকারের চেয়ে বিরোধী দল ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে বেশি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। তবে ডেঙ্গু যেভাবে মহামারির দিকে যাচ্ছে, তা মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল ও সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি জরুরি।’ তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য।

সেমিনারে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করোনার মতো ডেঙ্গুও দেশে মারাত্মক আকার ধারণ করছে। কিন্তু ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও আক্রান্তদের সুচিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অভাব রয়েছে, যার ফলে রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ

উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধ পর্যালোচনা করে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খোরশেদ আলী মিয়া।

এছাড়া সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেনÑ সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল হালিম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ডা. মারুফ শাহরিয়ার এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুর উদ্দিন তালুকদার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রসিক প্রশাসক: নগরবাসীকে উন্নয়ন কাজের আপডেট জানানো হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


রসিক প্রশাসক: নগরবাসীকে উন্নয়ন কাজের আপডেট জানানো হবে

রংপুর, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনের জন্য ১ হাজার ৮১৩ কোটি টাকার দু’টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, তবে কাজ শুরু হতে এখনও সময় লাগবে। প্রকল্পের অর্থ ছাড় পেতে আরও তিন থেকে চার মাসের প্রয়োজন হতে পারে। অর্থ ছাড়ের পর প্রকল্পের কাজ শুরু হবে এবং নগরবাসীকে দুই মাস পরপর এর অগ্রগতি জানানো হবে, এমন তথ্য জানিয়েছেন রসিকের প্রশাসক অ্যাড. মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন।

গতকাল সোমবার রাতে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন চত্বরে ‘রংপুর নগরবাসী’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশাসক জানান, প্রকল্পের অর্থ পেতে ন্যূনতম ৩-৪ মাস সময় লাগবে বলে তাদের প্রত্যাশা রয়েছে। অর্থ ছাড় হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। তাই আগামীকাল থেকেই রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। কাজ শুরু হলে প্রতি ২ মাস পর পর এর অগ্রগতি জনগণকে জানানো হবে।

নগর উন্নয়নে নাগরিকদের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকার নগরীর নাগরিকদের কাছ থেকে কর আদায় করে। সেই অর্থের মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। নাগরিকরা নিয়মিত কর দিলে সিটি করপোরেশনের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং নগরবাসীকে আরও বেশি সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

নিজের দায়িত্ব গ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রশাসক ডন বলেন, বিগত ৫ বছরে সিটি করপোরেশনের বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কোটি টাকা। এই সীমিত আয় দিয়ে নগরবাসীর সব অধিকার ও প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন। তাই সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি হাটবাজারসহ বিভিন্ন রাজস্ব উৎসের ব্যবস্থাপনায় সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রংপুর নগরীকে সুন্দর ও বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। একইসঙ্গে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নগরবাসীর জীবনমান পরিবর্তনে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রশাসক ডন বলেন, রংপুরের উন্নয়নে অনুমোদিত ১ হাজার ৮১৩ কোটি টাকার দু’টি প্রকল্প নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান। প্রকল্প বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা এবং সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে উৎসাহ প্রদানের জন্যও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রংপুর মহানগর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়নের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ সদস্য কাওছার জামান বাবলা, বিএনপি নেতা ডা. নিখিলেশ চন্দ্র গুহ রায়, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক, সদস্য সচিব আতিকুল ইসলাম লেলিনসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে নগরীর বিভিন্ন এলাকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী ও ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিরা রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় মহানগর বিএনপি’র বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাদের পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষক দল ও জাসাসের নেতারাও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রীর স্বামীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অফিস সহকারী বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


ছাত্রীর স্বামীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অফিস সহকারী বরখাস্ত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী বিদ্যুৎ দেবনাথকে মুঠোফোনে ছাত্রীর স্বামীকে হুমকি দেওয়ার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভায় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যুৎ দেবনাথের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত বিদ্যুৎ দেবনাথ পশ্চিম কুমারপুর গ্রামের সুনীল চন্দ্র দেবনাথের পুত্র।

এর আগে, ওই ছাত্রীর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ দেবনাথের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৮ অক্টোবর বিদ্যুৎ দেবনাথকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছিল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ দেবনাথের কাছে গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়া এক মুসলিম ছাত্রীকে নিয়ে তিনি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ছাত্রীর পরিবার তাকে অন্যত্র বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকে বিদ্যুৎ দেবনাথ ওই ছাত্রীর স্বামীর মোবাইলে ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন এবং তার ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের হুমকি দেন। এ ঘটনার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এছাড়া, বিদ্যুৎ দেবনাথ ১ অক্টোবর থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ বিষয়ে গত ৮ অক্টোবর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কারণ দর্শানোর শেষ সময় ছিল ১১ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে তার কোনো জবাব না দেওয়ায় ১২ অক্টোবর বিকেলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরি সভা ডাকা হয়। সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেবনাথকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল হক বলেন, "ছাত্রীর বাবার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রযোজ্য বিধি বিধান অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পলাতক অবস্থায় বিদ্যুৎ দেবনাথের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তর মেরু হয়ে ইউরোপে প্রথম কনটেইনার জাহাজ পাঠালো দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


উত্তর মেরু হয়ে ইউরোপে প্রথম কনটেইনার জাহাজ পাঠালো দক্ষিণ কোরিয়া

উত্তর মেরু অঞ্চল হয়ে ইউরোপে যাতায়াতকারী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম কনটেইনারবাহী জাহাজ দেশে ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার, বন্দরনগরী বুসানে জাহাজটির ক্যাপ্টেন ও কর্মীদের স্বাগত জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। রবিবার, ৫০ দিনের যাত্রা শেষে দেশে ফেরে জাহাজটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্যানস্টার অ্যাক্রো’ নামের জাহাজটি যাত্রাপথে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো, নেদারল্যান্ডসের রটারডাম ও পোল্যান্ডের গদানস্ক বন্দরে থামা ছিল। বিভিন্ন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাধা সত্ত্বেও, দক্ষিণ কোরিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে এই পথে নিয়মিত জাহাজ চলাচল শুরু করার পরিকল্পনা করছে।

অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট লি উল্লেখ করেন, প্রচলিত সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে গেলে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচলে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা থেকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উত্তর মেরু হয়ে নতুন এই সমুদ্রপথ চালু হলে সংকটের সময় পণ্য পরিবহনের জন্য একটি বিকল্প পাওয়া যাবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্র ও মৎস্যমন্ত্রী হোয়াং জং উ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে এই পথে আরও কয়েকটি পরীক্ষামূলক যাত্রা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কনটেইনারবাহী জাহাজ ও গাড়ি পরিবহনের জাহাজ অংশগ্রহণ করবে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এই পথে নিয়মিত জাহাজ চলাচল শুরু করতে চায়। মন্ত্রীর আশা, ২০৪০ সালের দিকে এই পথটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠবে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বছরের ছয় মাসের বেশি সময় এই পথে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে বলেও তিনি মনে করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে উত্তর মেরু অঞ্চলের সমুদ্রের বরফ কমছে। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল আগের চেয়ে সহজ হয়ে উঠছে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপে যাওয়ার তুলনায় উত্তর মেরুর এই পথে যাত্রার সময় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম পথ ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছেন হোয়াং।

উত্তর মেরু হয়ে প্রস্তাবিত সমুদ্রপথটি রাশিয়ার উপকূল ঘেঁষে গেছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। তাই এই পথে জাহাজ চলাচল নিয়ে কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন বলেন, রাশিয়া এখন পর্যন্ত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, "এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও রয়েছে।"

প্রেসিডেন্ট লি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা বজায় রেখেই এই সমুদ্রপথের উন্নয়ন করা হবে। তিনি এ নিয়ে অন্যান্য দেশগুলোর উদ্বেগ দূর করতে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এই পথে জাহাজ চলাচল লাভজনক হবে কি না, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির আইনপ্রণেতা কাং সেউং কিউর কার্যালয় এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সমুদ্র ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক যাত্রায় জাহাজটির লক্ষ্য ছিল ১ হাজার ৩০০ টিইইউ পণ্য পরিবহন করা। টিইইউ হলো ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কনটেইনারের সমপরিমাণ পণ্য পরিবহনের হিসাব।

কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর সময় জাহাজটিতে রপ্তানিপণ্য ছিল মাত্র ৭৩৭ টিইইউ। দেশে ফেরার সময় জাহাজটিতে ছিল ১ হাজার ৭৪৩ টিইইউ খালি কনটেইনার। ফেরার পথে কোনো আমদানি পণ্যও আনা হয়নি। প্রেসিডেন্ট লি বলেন, ইউরোপে পণ্য খালাস করার পর ফেরার পথে জাহাজে পণ্য তোলার ব্যবস্থা করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পথে নিয়মিত জাহাজ চলাচল লাভজনক করতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা, বরফের মধ্যে জাহাজের গতি, বিশেষ বিমার বাড়তি খরচ এবং অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়।

এসব বাধা কাটিয়ে উঠতে পারলে উত্তর মেরু হয়ে নতুন এই সমুদ্রপথ দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যের আরেকটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। তবে পথটি বাণিজ্যিকভাবে কতটা সফল হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসএসসিতে অকৃতকার্যদের ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


এসএসসিতে অকৃতকার্যদের ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন সাধারণ শিক্ষায় বারবার অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এসএসসি পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার সাধারণ শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যশিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী প্রতিটি শিশুকে সুশিক্ষার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করা ৬১২ কর্মকর্তার ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষকস্বল্পতা কাটানোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি এবং পাঠদানে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী সরকারি কলেজকে সাধারণ মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ। শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে সরকারি বরাদ্দের অপচয় রোধেরও আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%