বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:১৬ পি.এম
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের যে কোন নতুন হামলার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও আরও ব্যাপক আকারে পাল্টা জবাব দেওয়ার ব্যাপারে একটি হুঁশিয়ারি প্রকাশ করেছে। তেহরানের একটি উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্র আল মায়াদিনকে জানিয়েছে যে, চলমান উত্তেজনার আগে ইরান তার এই কঠোর অবস্থানের কথা ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়। সূত্রটি এ নিয়ে মন্তব্য করেছে যে, মার্কিন আগ্রাসন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বলেছে, "ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তেলের চড়া দাম চান, তবে আমরা তাকে স্বাগত জানাই।"
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, দেশটির ওপর যেকোনো ধরনের আঘাতের ফল হবে তাৎক্ষণিক এবং আরও বড় পরিসরে। তেহরানে নিযুক্ত আল মায়াদিনের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে এটিই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা। এবারের হামলায় দক্ষিণ ইরানের চাবাহার বন্দর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় চাবাহার বন্দরের দুটি সামুদ্রিক জেটি এবং একটি নেভিগেশন কন্ট্রোল টাওয়ারসহ বেশকিছু বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়াও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের গোলার আঘাতে ইমাম আলী হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাবাহার ছাড়াও কোনারাক, সিরিক, জাস্ক, বুশেহর প্রদেশ, আবু মুসা দ্বীপ এবং উত্তর ইরানের যোগাযোগ অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এই মার্কিন হামলার পরপরই ইরান তার পাল্টা জবাবের প্রথম ধাপ শুরু করে দিয়েছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেহের নিউজ এজেন্সি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবরও নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। পরবর্তীতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায় যে, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী কুয়েতে এবং বাহরাইনের আরিফজান, আলী আল-সালেম, জুফায়ার এবং শেখ ঈসা ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে যে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় আগ্রাসন চালায়, তবে অঞ্চলের অন্য সব মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা আরও জোরদার করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হবে, এই কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সসচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানো আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক নাকি অন্তবর্তী সরকার থাকবে, এই বিষয়ে সব শ্রেণীর মানুষের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এছাড়া, তিনি জানান, জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়েই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যা যা করা দরকার সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ‘রায়ে ৫৪টি বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়ে ৫৪টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া এই রায়ে অন্তত চারটি বিষয়ে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং জন আকাঙ্ক্ষা সামনে রেখেই রায় বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন উত্থাপন করা হবে।’
এর আগে, এদিন সকালে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই আদেশের ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরেছে, এই বিষয়ে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবাদে পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়।
রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল করেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন উচ্চ আদালত। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি এ রায়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা ইরানে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে পাল্টা হামলা পরিচালিত হয়েছে, এমনটি জানায় দেশটির সেনাবাহিনী।
এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনী জানায়, কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, কাতারে একটি স্যাটেলাইটভিত্তিক আগাম সতর্কতা অ্যান্টেনা এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সংরক্ষণাগারকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এই আক্রমণে বিভিন্ন ধরনের বিপুলসংখ্যক আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানায় সেনাবাহিনী।
এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানি সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এই নতুন আক্রমণ সংঘটিত হয়েছে। এর আগে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারসহ বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ হামলার খবর দিয়েছে বা নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানে নতুন দফায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের উপর ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এটি সংঘটিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেছেন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬, পাশাপাশি জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬।
এই উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও কিছু পাঠ করা হয়। পরে বর্তমান সরকারের সাফল্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে প্রদর্শিত হয়।
উপস্থিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ তুলে দেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শেষে, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি করে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরবর্তীতে তিনি পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীতে পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি, সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলায় অংশগ্রহণ করেছে ১২০টি স্টল।
অতিরিক্তভাবে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণকে রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালে তাঁর উদ্যোগে দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করা হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন এবং সামাজিক বনায়নের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই বনায়ন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।
এর আগে, গত ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ