বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:০৯ এম
টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, উপজেলার ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের ৭-১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
রাস্তা ডুবে গেছে, এমনকি বাড়ি-ঘরেও প্রবেশ করেছে পানি। এর ফলে কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকার পুরাতন মসজিদের সামনে বাঁধটি ভেঙে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙার ফলে মখাবিল, শ্রীপুর ও ভান্ডারীগাঁও, আদমপুরের কোনাগাও, মধ্যভাগের আশপাশের ৭-১০টি গ্রাম বন্যায় তলিয়ে গেছে।
পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে বিভিন্ন গ্রাম।
এ ছাড়া ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে হাঁটু পানি জমা হয়েছে। ফলে, আজকের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধান শিক্ষক খুরশেদ আলী।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির মিয়া ও শাব্বীর এলাহী জানিয়েছেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে ধলাই নদীর বাঁধটি হঠাৎ করেই ভেঙে যায়।
ভাঙনের পরিধি প্রায় ১০০ মিটার। এতে ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘বন্যায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। বন্যার্তদের সহায়তায় প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে। ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানিয়েছেন, ‘ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিএসএফের বাধার কারণে মখাবিলের এই অংশটুকুতে পুরোপুরি কাজ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিকূলতার মধ্যেই যতটুকু কাজ করা সম্ভব কর্তৃপক্ষ ততটুকু করেছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম বলেছেন, যদি একটি রাজনৈতিক দল জনগণের কাছে যাওয়ার সময় ভয় পায় এবং তার পুলিশ প্রটেকশন অথবা আর্মি প্রটেকশনের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক অবস্থান খানিকটা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। সম্প্রতি বাংলানিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়গুলি উল্লেখ করেছেন।
মোকছেদুল ইসলাম বলেছেন, সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পথযাত্রায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছিল—এটি তিনি সমর্থন করেন না। কোন রাজনৈতিক দল যখন তার কর্মসূচি পালন করার সময় অন্য রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বাধা দেয়, তখন এটি তিনি মোটেও সমর্থন করেন না। এমন পরিস্থিতিতে এনসিপিরও শিক্ষা নিয়ে নিতে হবে, কারণ অন্য রাজনৈতিক দলও যখন তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চাইবে, তখন তাদের বাধা দেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেছেন, সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতবার যখন টুঙ্গিপাড়ায় গিয়েছিল, তখন তারা মুজিববাদ মুর্দাবাদ, মুজিববাদ মুর্দাবাদ স্লোগান দিয়েছিল—এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেছেন, জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য যদি কোন রাজনৈতিক দলকে ট্যাংকের ভেতরে ঢুকে পালিয়ে আসতে হয় কিংবা তাদের আর্মির প্রয়োজন হয় বা পুলিশের প্রয়োজন হয়, তাহলে তাদের রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু, সেটিও যাচাই করা উচিত।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে রাজনীতিতে গুজব একটি বড় বিষয়। সর্বত্র গুজব দিয়েই আমরা রাজনীতি করি। আমরা চাঁদে কারোর মুখ দেখি বা বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দিয়েই জনগণকে প্রতারণা করছি।
বর্তমানে ফেসবুকে অথবা বিভিন্ন লোকের মুখে শুনতে পাচ্ছি যে যাঁরা এই ককটেল ফুটিয়েছেন, তাঁরা এনসিপির কর্মী ছিলেন। যদি এনসিপি সত্যিই এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটিয়ে নিজেদের জন্য আর্মি বা পুলিশ চায়, তাহলে এটি তাদের প্রতারণার একটি পরিকল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরেক দফা কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে সংগঠনটি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। এই কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুধু ইরান, ইসরাইল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার একটি সামরিক সংঘাত নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতারও কঠিন পরীক্ষা। প্রশ্নটি আজ আর কেবল তেহরানের নয়, বরং বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের সামনে—যদি কোনো দেশ আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলে, তবুও তার ওপর হামলা হয়, তাহলে সে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কীভাবে?
গত কয়েক বছরে ইরান একদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা চাপের মুখে পড়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারাবাহিক সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযান, নিষেধাজ্ঞা, বিজ্ঞানী হত্যা এবং সরাসরি হামলারও শিকার হয়েছে। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন অনেক বিশ্লেষকই প্রশ্ন তুলছেন—ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের নীতিই কি শেষ পর্যন্ত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে ঠেলে দিচ্ছে?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্রাফিকজ্যাম কমানোর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট রুটে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যানজট শুল্ক চালু হচ্ছে। এই শুল্কটি গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করে করিডোর ভিত্তিক ধার্য করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বিকল্পভাবে শক্তিশালী গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু না হয় তবে সুফল পাওয়া যাবে না। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ জানায়, যানজটমুক্ত শহর গঠনে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উন্নত বিশ্বের বিপরীতে অনেক দেশেই কনজেশন চার্জ বা যানজট শুল্ক কার্যকর আছে। মূলত পিক আওয়ার বা ব্যস্ততম সময়ে সড়কে গাড়ির চাপ কমানোর জন্য এই শুল্ক ধার্য করা হয়ে থাকে। বিকল্প হিসাবে, যদি পর্যাপ্ত গণপরিবহন সুবিধা থাকে, তবে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বের হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট ফি কেটে নেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, সুইডেন এবং সিঙ্গাপুরের মতো অনেক দেশে নির্দিষ্ট সড়কে এই শুল্ক ব্যবস্থার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিজ্ঞতার আলোকে রাজধানী ঢাকায়ও যানজট শুল্ক চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। সেসব এলাকায় যেখানে গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত, সেখানে করিডোর ধরে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ট্রাকের ওপর নির্দিষ্ট শুল্ক নির্ধারণ করা হবে। মেট্রোরেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট এবং উন্নত বাস সেবা থাকলে সেসব জায়গাকে এই শুল্কের আওতায় আনা হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিকল্প হিসেবে পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ বড় বাধা হতে পারে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, "জনসাধারণকে আগে বিকল্প দিতে হবে। মেট্রোরেলসহ গণপরিবহনের বিভিন্ন সংস্করণ তাদের জোগান দিতে হবে। সবাইকে গণপরিবহনে নেয়ার ক্যাপাসিটিও থাকতে হবে।" তিনি অতিরিক্ত বলেন, "ট্রাকের ওপর শুল্ক ধার্য করাকে আমি প্রহসন হিসেবে দেখছি।"
এদিকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, যানজটমুক্ত রাজধানী গড়তে সরকারের সবগুলো সংস্থা একসাথে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। বিকল্প হিসেবে শক্তিশালী গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, "ঢাকা নগরী ও এর চারপাশকে যানজট মুক্ত করতে আমরা ২০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। এমআরটি-১ থেকে ৬ পর্যন্ত লাইনগুলো যখন পর্যায়ক্রমে শুরু করবো, তখন কিছু করিডোরে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো ডিজিটাল চার্জ নেয়ার ব্যবস্থা করবে। তবে বর্তমানে আমরা কোন করিডোরে কত টাকা নেবো তা নির্ধারণ করতে পারিনি।"
অর্থায়নসহ সব বাধা অতিক্রম করে প্রকল্পটি দ্রুত আলোর মুখ দেখবে বলে আশাবাদী ডিটিসিএ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ