ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্বকাপে ৬৪ দলের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন আলোচনা


বিশ্বকাপে ৬৪ দলের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন আলোচনা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর টুর্নামেন্টটি ৬৪ দলে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এবং মূল্যায়ন করা হবে। ইনফান্তিনোর মতে, বিশ্বের প্রতিটি দেশের অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত।

সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় আমাদের শুধু ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার কথা ভাবলে চলবে না। এটি সম্পূর্ণ বিশ্বের জন্য। প্রতিটি দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত।’

তিনি আরো মন্তব্য করেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা (২০২৬) বিশ্বকাপের পর খতিয়ে দেখব। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দলের মান অনেক বেড়েছে এবং তারা উন্নতি করছে। ছোট দেশগুলোকে যদি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে তাদের উন্নতির অনুপ্রেরণাও কমে যাবে।’

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু

ইনফান্তিনো মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপ, যা প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত হয়েছে, দারুণ সফল হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, এবার আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে ৯টি নকআউট পর্বে উঠেছে। অথচ আগের বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মাত্র ৫টি দল।

ফিফা ২০১৭ সালে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা (কনমেবল) ২০৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়।

তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। প্রতিযোগিতার শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়ে অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল উরুগুয়ে।

যদিও সবাই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে নন। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (উয়েফা) সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন এই প্রস্তাবকে ‘বাজে ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা মনে করেন, আরো দল বাড়ানো হলে প্রতিযোগিতায় ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন: আট নম্বরে নেমে ২৫৭ রান ও ১২ ছক্কা! ইতিহাস লিখলেন ওয়াসিম আকরাম

এ ছাড়া উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার (কনকাকাফ) সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি বিশ্বাস করেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামোর জন্য ‘ক্ষতিকর’ হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ২০৩৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে বিড করতে পারে এবং টুর্নামেন্ট ৬৪ দলের হলেও তা সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব।’

এখন ফিফার অবস্থান হলো, সদস্যদের যেকোনো প্রস্তাব তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে এখনই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ফিফা কাউন্সিলের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ ইংল্যান্ডের, কতটা পাড়ি দেবে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ ইংল্যান্ডের, কতটা পাড়ি দেবে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা?

এই বছরের বিশ্বকাপে তিন দেশের সম্মিলিত আয়োজনের কারণে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে আগের যেকোনো আসরের তুলনায় অনেক বেশি ভ্রমণ করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ম্যাচগুলো। শিরোপার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গিয়ে কিছু দলকে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।

সেমিফাইনালে পৌঁছানোর পথে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করেছে ইংল্যান্ড। থমাস টুখেল পরিচালিত দলটি কানসাস সিটির বেসক্যাম্প থেকে বিভিন্ন ভেন্যুতে যেতে এবং ফিরে আসতে হয়েছে। সব মিলে বিমানের মাধ্যমে তাদের ভ্রমণের দূরত্ব ১৪ হাজার মাইলকে ছাড়িয়ে গেছে।

ইংল্যান্ডের এই ভ্রমণ ফাইনালে জায়গা দেওয়া অন্য দুই বড় দল ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার তুলনায় অনেক বেশি। একই বেসক্যাম্প শহর কানসাস সিটিতে অবস্থিত আর্জেন্টিনা এখনও পর্যন্ত ৮ হাজার মাইলের কম পথ পাড়ি দিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে যাওয়ার আগে দায়ী হতে হয়েছে দুই হাজার মাইলেরও কম দূরত্ব।

ফ্রান্সের কম ভ্রমণের একটি প্রধান কারণ হচ্ছে, তারা টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের নিকটস্থ অবস্থানে ছিল। বিপরীতে, ইংল্যান্ডকে কানসাস সিটি থেকে আটলান্টা, বোস্টন, মেক্সিকো সিটি এবং মায়ামির মতো বিভিন্ন শহরে যেতে হয়েছে।

জানা গেছে, ইংল্যান্ডের পাশাপাশি স্পেনও উল্লেখযোগ্য দূরত্ব পাড়ি দিয়েছে। সেমিফাইনালে পৌঁছানোর আগেই স্পেনের ভ্রমণ ১২ হাজার মাইল ছড়িয়ে গেছে। সুইজারল্যান্ডের ভ্রমণও ছিল ১০ হাজার মাইলের বেশি। মরক্কোও নিউ জার্সির বেসক্যাম্প থেকে বিভিন্ন শহরে যেতে গিয়ে ৮ হাজার মাইলের বেশি ভ্রমণ করেছে।

শেষ আটে উপস্থিত দলের মধ্যে সবচেয়ে কম ভ্রমণ করেছে ফ্রান্স, যেখানে বেলজিয়াম প্রায় ৪ হাজার মাইল হাঁটতে হয়েছে।

এত বেশি ভ্রমণের প্রভাব খেলার পারফরম্যান্সে কতটা পড়ছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। কিন্তু টুর্নামেন্টের ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাকেন। তার মতে, দীর্ঘ ভ্রমণ, বিমানে যাতায়াত, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সুবিধার পার্থক্য খেলোয়াড়দের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

নরওয়ের দল অবশ্য নকআউট পর্বে যাওয়ার পর ম্যাচের মধ্যে বেসক্যাম্পে ফেরার পথ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড প্রতিটি ম্যাচ পরে আবার কানসাস সিটিতে ফিরে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

যশোরের বাঘারপাড়ায় রুবেল হোসেন (৩৮) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের খাজুরা তেলপাম্পসংলগ্ন গাড়ি মাপার স্কেলের সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত রুবেল হোসেন ছিলেন উপজেলার তেলি ধান্যপোড়ার এলাকায় মৃত মুনতাজ ঢালীর ছেলে এবং বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দভিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ঘাতক রাব্বী নিহত রুবেল হোসেনের ছোট বোনের দেবর বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে একই এলাকার আব্দুর রবের ছেলে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেল হোসেনকে শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন এবং যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, "মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করে যাচ্ছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিবাসী নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সম্পর্কে নতুন সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


অভিবাসী নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সম্পর্কে নতুন সংকট

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবস্থা ভালো নয়, যদিও তারা একসাথে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে। অভিবাসন, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তার অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্ত। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে একজন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে, আর এ ঘটনা দুদেশের সম্পর্কের আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

৭ই জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-আইসিই-এর গুলিতে প্রাণ হারান লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো, যিনি মেক্সিকোর নাগরিক। আইসিই কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সালগাদো আরাউজো বেআইনি ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। তিনি একটি ট্রাফিক সিগনালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গাড়িকে ধাক্কা দেন এবং মৌখিক নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন, যার ফলস্বরূপ এজেন্টরা তাকে গুলি করে।

তবে তার পরিবার এই দাবিকে অস্বীকার করেছে। সাত সন্তানের পিতা ৫২ বছর বয়সী আরাউজোর পরিবার বলেছে, যদি তারা জানতেন যে গাড়িটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই গাড়িটি থামাতেন।

এছাড়া, লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো আইসিইর প্রথম শিকার নন। ২০২৫ বছরেই ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে আইসিই-র কাছে ১৭ জন মেক্সিকান মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন চিকিৎসায় অবহেলা বা প্রতিকূল পরিবেশে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ৩ জন আইসিই’র অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় নিহত হয়েছেন।

আরাউজোর মৃত্যুর ঘটনা যেন দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার আগুনে পেট্রল ঢেলে দিয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অভিযান কিংবা আটক কেন্দ্রগুলোতে ১৭ জন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়ানি ও ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানান। মেক্সিকান সরকার জানিয়েছে, এই তদন্তের দাবি মেক্সিকানদের মানবাধিকার রক্ষা করার উদ্দেশ্যে।

তবে প্রেসিডেন্ট শিনবাউমের এই ব্যতিক্রমী আহ্বান বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা উচিত ছিল এবং সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্য দাবি করাটা ঠিক হয়নি। আবার কিছু বিশ্লেষক বলছেন, আগে থেকেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ফাউস্তো প্রেতেলিন বলেন, সালগাদো আরাউজোর হত্যাকাণ্ডের ফলে দুদেশের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন, শিনবাউম এ সংবাদ সম্মেলনে কিছু রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন, তবে এটি ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো ভেলাস্কো সাংবাদিকদের বলেন, এই ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ১১টি কূটনৈতিক প্রতিবাদী চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তাতে কোনো ফলপ্রসূ হয়নি। তাই কূটনীতির বাইরে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা শিনবাউমের প্রকাশ্য দাবির বিরুদ্ধে থাকলেও কিছু মনে করছেন যে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট যথেষ্ট পদক্ষেপ নেননি। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক তোমাস মিল্টন মুনিয়োজ ব্রাভো মন্তব্য করেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের হাতে ১৭টি মৃত্যুর পর বিচারিক ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা অবিশ্বাস্য।

মুনিয়োজ ব্রাভো বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা যদি কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে এটি মেক্সিকোকে আলোচনার সুযোগ দিতে পারে। তবে বর্তমানে সম্পর্ক পুনর্গঠনের কোনো লক্ষণ নেই। দুই পক্ষের অনড় অবস্থান সম্পর্ককে আরো অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বর্ষণে কালিয়াকৈর পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে বাসিন্দারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


টানা বর্ষণে কালিয়াকৈর পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে বাসিন্দারা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা ও উপজেলা এলাকার বিস্তীর্ণ স্থান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ ও হরিনহাটি এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে, ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং সড়কে জমে থাকা পানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার।

সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভা এলাকার হরিনহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙা মসজিদ, খাজার ডেক, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, ডাইনকিনী, হরতকীতলা, আমতলা, মাইওয়ান, দিঘীরপাড় বটতলা, পূর্ব চান্দ্রা সহ ২০টিরও বেশি এলাকায় জলাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছু স্থানে হাঁটুসমান আবার কিছু স্থানে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে, যা সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।

এটি জানা গেছে, কালিয়াকৈর পৌরসভাটি কেবল নামেই প্রথম শ্রেণির। পৌরসভাটির গঠয হয়েছিল ২০০১ সালে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভা গঠনের পর থেকে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের ওপর দোকানপাট, আবাসন ও শিল্প কারখানা গড়ে ওঠার মতো নানা কারণে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগে পড়তে হয়। পৌরসভায় প্রায় দুই শতাধিক শিল্প কলকারখানা বিদ্যমান রয়েছে। অনেক শিল্প কারখানা পানিতে ডুবে গেছে, ফলে ১০ থেকে ১৫টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও জলাশয় ভরাট, পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য ভারি বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বাসপাড়া, হরিনহাটি ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর মুখ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ড্রেনের উপর দোকানপাট থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। অপরদিকে ৫ নং ওয়ার্ডের মাইওয়ান মোড় থেকে ওয়ালটন ফ্যাক্টরি পর্যন্ত ড্রেনের ওপর দোকানপাট গড়ার ফলে টানা বর্ষণের জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এবং গার্মেন্টস শ্রমিকরা স্কুল ও কারখানায় যেতে পারছে না। নিচু জমি ভরাট করে মিলকারখানা নির্মাণের ফলে ফসলের জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও খাবার পানির সংকটে হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। কোনো অবস্থাতেই মানুষের দুর্ভোগ থামছে না।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে খালগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা অতিক্রম করেছে। ফলে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রেন পরিষ্কার, খাল থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে খাল পুনঃখনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৃষ্টি হচ্ছে এবং রাস্তাঘাট এখনও জলাবদ্ধতায় রয়েছে। কিছু পানি নামলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে কালিয়াকৈর পৌরসভার ২০টির বেশি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেন-খাল দখলের কারণে হাজারো মানুষ পানিবন্দী। ইউএনও খাল পুনঃখনন ও ড্রেন পরিষ্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।

জলাবদ্ধতার কারণে সবথেকে বেশি ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিল্পকারখানার শ্রমিকদের কর্মস্থলে যাতায়াতে। বহু পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে গেছে, ফলে নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অনেক পরিবারে রান্না-বান্না বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%