প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবস্থা ভালো নয়, যদিও তারা একসাথে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে। অভিবাসন, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তার অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্ত। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে একজন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে, আর এ ঘটনা দুদেশের সম্পর্কের আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
৭ই জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-আইসিই-এর গুলিতে প্রাণ হারান লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো, যিনি মেক্সিকোর নাগরিক। আইসিই কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সালগাদো আরাউজো বেআইনি ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। তিনি একটি ট্রাফিক সিগনালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গাড়িকে ধাক্কা দেন এবং মৌখিক নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন, যার ফলস্বরূপ এজেন্টরা তাকে গুলি করে।
তবে তার পরিবার এই দাবিকে অস্বীকার করেছে। সাত সন্তানের পিতা ৫২ বছর বয়সী আরাউজোর পরিবার বলেছে, যদি তারা জানতেন যে গাড়িটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই গাড়িটি থামাতেন।
এছাড়া, লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো আইসিইর প্রথম শিকার নন। ২০২৫ বছরেই ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে আইসিই-র কাছে ১৭ জন মেক্সিকান মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন চিকিৎসায় অবহেলা বা প্রতিকূল পরিবেশে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ৩ জন আইসিই’র অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় নিহত হয়েছেন।
আরাউজোর মৃত্যুর ঘটনা যেন দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার আগুনে পেট্রল ঢেলে দিয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অভিযান কিংবা আটক কেন্দ্রগুলোতে ১৭ জন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়ানি ও ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানান। মেক্সিকান সরকার জানিয়েছে, এই তদন্তের দাবি মেক্সিকানদের মানবাধিকার রক্ষা করার উদ্দেশ্যে।
তবে প্রেসিডেন্ট শিনবাউমের এই ব্যতিক্রমী আহ্বান বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা উচিত ছিল এবং সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্য দাবি করাটা ঠিক হয়নি। আবার কিছু বিশ্লেষক বলছেন, আগে থেকেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ফাউস্তো প্রেতেলিন বলেন, সালগাদো আরাউজোর হত্যাকাণ্ডের ফলে দুদেশের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন, শিনবাউম এ সংবাদ সম্মেলনে কিছু রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন, তবে এটি ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো ভেলাস্কো সাংবাদিকদের বলেন, এই ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ১১টি কূটনৈতিক প্রতিবাদী চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তাতে কোনো ফলপ্রসূ হয়নি। তাই কূটনীতির বাইরে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা শিনবাউমের প্রকাশ্য দাবির বিরুদ্ধে থাকলেও কিছু মনে করছেন যে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট যথেষ্ট পদক্ষেপ নেননি। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক তোমাস মিল্টন মুনিয়োজ ব্রাভো মন্তব্য করেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের হাতে ১৭টি মৃত্যুর পর বিচারিক ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা অবিশ্বাস্য।
মুনিয়োজ ব্রাভো বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা যদি কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে এটি মেক্সিকোকে আলোচনার সুযোগ দিতে পারে। তবে বর্তমানে সম্পর্ক পুনর্গঠনের কোনো লক্ষণ নেই। দুই পক্ষের অনড় অবস্থান সম্পর্ককে আরো অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন