ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজার গণহত্যায় ইসরাইলকে অস্ত্র দিচ্ছে ভারত: অ্যামনেস্টি


গাজার গণহত্যায় ইসরাইলকে অস্ত্র দিচ্ছে ভারত: অ্যামনেস্টি

গাজায় চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে ইসরাইলকে অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে ভারত এখনও পিছিয়ে আসেনি। এই তথ্য মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, এসব অস্ত্র ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, তবুও ভারত সরবরাহ বন্ধ করে না। বুধবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্ব দরবারে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারত থেকে ইসরাইলের উদ্দেশ্যে পাঠানো ২,৫৯৬টি অস্ত্র, গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ ও সামরিক সরঞ্জামের চালান বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

এতে বলা হয়েছে, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ইসরাইলের সামরিক সরবরাহকারীদের কাছে অন্তত ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক অস্ত্রের উপাদান—যার মাঝে ড্রোনের ওয়ারহেড এবং আর্টিলারি শেলের খোলও রয়েছে এবং ২৯৮টি সামরিক যানবাহনের উপাদান সরবরাহ করেছে।

অ্যামনেস্টির দাবিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে এসব পণ্য ইসরাইলের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। যেগুলো পরে সেখানকার সেনাবাহিনীর কাছে সরবরাহ করা হয় এবং এসব দিয়ে গাজায় গণহত্যা চালানো হয়।

এর আগে আল জাজিরাও ভারতের কাস্টমসের ৯১টি রপ্তানি নথি সংগ্রহ করেছে, যেখানে ২০২৪ সালে ইসরাইলে বোমা এবং গ্রেনেড-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ রপ্তানির তথ্য আছে। এসব চালানের ক্রেতাদের মধ্যে ছিল ইসরাইলের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল এডভান্স ডিফেন্স সিস্টেমস, আইএমআই সিস্টেমস লিমিটেড এবং এমসিটি মেটারিয়ালস।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, গাজায় কী ঘটছে তা বিশ্ব প্রতিদিন দেখছে। তারপরও ভারত ইসরাইলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তিনি বলেন, ভারত শুধু অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে না, বরং ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করেছে।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যা ঠেকাতে ইসরাইলকে ব্যবস্থা গ্রহণের অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে পারে। এরপর থেকে জাতিসংঘের একাধিক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে।

Stockholm International Peace Research Institute (SIPRI)-এর তথ্যমতে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরাইলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ২৯ শতাংশ গেছে ভারতে, যা দেশটিকে ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা ক্রেতায় পরিণত করেছে। একই সময়ে ভারতের অস্ত্র আমদানির ১৫ শতাংশ আসছে ইসরাইল থেকে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে দুদেশের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সামরিক, শিল্প এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অতীতেও দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চরিত্রই ব্যক্তিত্বের মুকুট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ এম


চরিত্রই ব্যক্তিত্বের মুকুট

চরিত্র মানুষ হিসেবে প্রকৃত পরিচয় নির্দেশ করে। পৃথিবীর সকল জীবের মধ্যে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল উত্তম চরিত্র। যার চরিত্র নিষ্কলুষ নয়, তিনি যতই বিদ্বান, প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান না হন, মানুষের কাছে তিনি নিকৃষ্ট ও নিন্দিত বলে গণ্য হন। আল্লাহর কাছে তিনি অত্যন্ত অপছন্দনীয় হয়ে থাকেন।

মানুষকে বিপথগামী করার জন্য চারিত্রিক কেলেঙ্কারি শয়তানের বড় একটি ফাঁদ। প্রত্যেক মুমিনের জন্য এ বিষয়ে সর্বদা সচেতন ও সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ের উন্মুক্ত সংস্কৃতির যুগে চারপাশ থেকে পাপের হাতছানি আমাদের গ্রাস করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ সময় চরিত্র নিষ্কলুষ রাখা কঠিন, এটি যেন জ্বলন্ত কয়লা হাতে রাখার মতো।

প্রায় চৌদ্দ শ বছরেরও বেশি আগে নবী করিম (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীর চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা আমি রেখে যাইনি’ (সহিহ মুসলিম)। এই হাদিসের উদ্দেশ্য এটি নয় যে নারীরা কেবল ফিতনা অথবা ভয়ের কারণ; বরং এটি পুরুষদের জন্য নিজেদের চরিত্র, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ রক্ষার জন্য একটি বিশেষ সতর্কবার্তা। শয়তান যেকোনো সময় নারী-সংক্রান্ত প্রলোভনের মাধ্যমে মানুষকে বিপথে পরিচালিত করতে পারে। আর একবার যে এই ফাঁদে পা দেবে, তার ইমান, আমল ও ব্যক্তিত্ব ধুলোয় মিশে যাবে। তাই সর্বদা আল্লাহর কাছে এই ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং সতর্ক থাকা আমাদের কর্তব্য।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সফল মুমিনদের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে নামাজে একাগ্রতা এবং অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি বিশেষভাবে বলা হয়েছে, ‘আর যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে তারা সফল’ (সুরা মুমিনুণ)।

এই ক্ষেত্রে নবী করিম (সা.) আমাদের সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি ছিলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী। তাঁর চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব ছিল সব ধরনের কলুষতা থেকে পবিত্র। তাই প্রকৃত মুমিন হতে গেলে চরিত্রের নির্মলতা অপরিহার্য। বর্তমান সময়ে একজন মুমিনের জন্য নিজের চরিত্রের হেফাজত নিঃসন্দেহে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

আমরা ইউসুফ (আ.)-এর শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। চরিত্র রক্ষায় তিনি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত যুবসমাজের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবে। রাজপ্রাসাদের রুদ্ধদ্বার কক্ষে এক ক্ষমতাবান ও রূপবতী নারী যখন তাঁকে অবৈধ কাজে আহ্বান করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি’ (সুরা ইউসুফ)। প্রবল প্রলোভন ও অনুকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তিনি আল্লাহভীতির কারণে নিজেকে সংযত রেখেছিলেন। আজ আমরাও যদি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকওয়াকে সঙ্গী করতে পারি, তবে কোনো প্রলোভনই আমাদের চরিত্রকে কলুষিত করতে পারবে না।

চরিত্রের হেফাজতকারী সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অঙ্গ (জিহ্বা) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী অঙ্গ (লজ্জাস্থান)-এর হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিচ্ছি’ (সহিহ বুখারি)।

চারিত্রিক সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার প্রথম শর্ত হলো চোখের হেফাজত। চোখ একটি দেশের সীমান্তের মতো। সীমান্ত যদি অরক্ষিত থাকে, তবে রাজধানী অর্থাৎ হৃদয়কে নিরাপদ রাখা অসম্ভব। তাই আল্লাহতায়ালা মুমিন পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে’ (সুরা আন-নূর)।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ উপাদান আমাদের দৃষ্টিকে প্রতিনিয়ত কলুষিত করছে। মানুষ যখন একবার নিষিদ্ধ কোনো দৃশ্যের দিকে দৃষ্টি দেয়, তখন তার বিষ অন্তরে প্রবেশ করা শুরু করে। চুলকানি হলে যেমন চুলকাতে সাময়িক আরাম লাগে, তবে পরে সেই স্থানেই অসহ্য জ্বালাপোড়া শুরু হয়। পাপের অবস্থাও ঠিক তেমনই। এতে ক্ষণিকের বিকৃত আনন্দ থাকতে পারে, কিন্তু তার পরিণতি হলো ভয়াবহ।

আল্লাহর শাস্তির ভয় তো আছে; এর পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, চরিত্রই প্রকৃতপক্ষে মানুষের ব্যক্তিত্বের মুকুট। মাথার মুকুট যেমন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তেমনই মানুষের চরিত্রও সব সময় মানুষের চোখে পড়ে। তাই চরিত্রের হেফাজত করার অর্থ শুধু একটি গুনাহ থেকে দূরে থাকা নয়; আর এর সাথে নিজের ইমান, ব্যক্তিত্ব, সম্মান ও আখেরাতকেও রক্ষা করা। আসুন, ফিতনার এই যুগে আমরা চরিত্রের হেফাজতে সর্বদা সচেষ্ট থাকি। কারণ চরিত্র মানুষের ব্যক্তিত্বের মুকুট। এই মুকুট অক্ষুণ্ন রাখতে পারলেই মানুষ দুনিয়ায় সম্মানীয় জীবন লাভ করে, আর আখেরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের চিরস্থায়ী সফলতা লাভ করে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনসেবা প্রমাণ হলেই কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে : ডিএনসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪০ এম


জনসেবা প্রমাণ হলেই কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে : ডিএনসিসি প্রশাসক

আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যেসব নেতা তাদের নিজ নিজ এলাকার মধ্যে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন, তাদের কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে বললেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার, তিনি ডিএনসিসির অঞ্চল-১-এর আওতাধীন উত্তরা এলাকার সুধীজনদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথাটি উল্লেখ করেন।

প্রশাসক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুধুমাত্র পদ-পদবি বিবেচনা করে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দেবেন না। বরং জনগণের কাছে যেতে হবে, তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের বাস্তব প্রমাণ দেখাতে হবে।

তিনি তখন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের সরকার পরিচালনা করছেন। তাই জনগণের সেবাই আমাদের মূল দায়িত্ব। নগরীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মো. শফিকুল ইসলাম খান আরও বললেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার নেতৃত্ব অনুসরণ করে ডিএনসিসিও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

নগরীর পানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকার কিছু এলাকায় তীব্র পানি সংকট ছিল। ঢাকা ওয়াসার সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পানির পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধানে ইতিমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসক বলেন, বর্তমানে মশার উপদ্রব আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ডিএনসিসি এলাকাকে ডেঙ্গুবাহী মশামুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

হকার পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করলেও অনেকেই পুনরায় ফুটপাতে বসছেন। এর ফলে জনভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। হকার ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় পরিকল্পিত পুনর্বাসন কার্যক্রম সফল করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এলাকার সড়ক সম্প্রসারণ, স্ট্রিট লাইটিং ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের ট্যাক্স কমানোর দাবির প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, তাদের আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে করহারকে যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন নাগরিকদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার ফলে সংঘাত বিস্তারের শঙ্কা, জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ এম


মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার ফলে সংঘাত বিস্তারের শঙ্কা, জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ আরও বাড়িয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে ‘শক্তিশালী’ বিমান হামলা চালিয়েছে।

এই হামলার ফলে একটি আবাসিক ভবনে শিশুদের সহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। হামলার জবাবে, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরান ও তার সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের হুমকি দিয়েছে।

ইরানে হামলার পাশাপাশি কৌশলগত প্রণালিকে হরমুজ বন্ধ রাখা এবং ইরাকে যৌথ হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইরানের আইআরআইবি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যে প্রদেশে অবস্থিত, সেই বুশেহর প্রদেশের বুশেহর, জাম ও খোরমোজ এই তিনটি শহরের আশপাশে গভীর রাতে মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়।

আক্রমণের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও, দক্ষিণাঞ্চলের কেশম আইল্যান্ডের একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলায় বাবা, মা এবং তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়। অপর দুই সন্তান আহত হয়েছে।

মার্কিন হামলার পর, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরআইসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মহান আল্লাহর সহায়তায়, আগ্রাসীকে আজই কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।’

আইআরআইসি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূখণ্ড এবং বহিরাগত কোনো শক্তিকে এখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং মার্কিন হুমকি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ বন্ধ থাকবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।

জর্জিয়ায় মার্কিন-সৌদি যৌথ হামলায় ইরানে বাড়তি চাপের মধ্যে, তারা ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) বেশ কয়েকটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

ইরাক থেকে সৌদির তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। এতে অন্তত ২০ জন পিএমএফ সদস্য এবং ৪ জন ইরানি সামরিক উপদেষ্টা নিহত হন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই হামলাকে ‘অপরাধমূলক, অমানবিক ও উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। ১২ই আরবাইন উপলক্ষে কারবালামুখী ধর্মপ্রাণ পুণ্যার্থীদের বিশ্রামস্থল এবং রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা চালানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাগদাদ ও তেহরান।

এই পরিস্থিতির মধ্যে, সংঘাতের চতুর্থ দিনে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে লক্ষ্য করে অন্তত ৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছেন জর্ডানের সামরিক বাহিনী।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়। তবে লোহিত সাগর ও ইসরাইলের ভূমধ্যসাগর হয়ে বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত প্রভাব নষ্ট করা সম্ভব বলে মত দেন তিনি।

ভারতের পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার উপ-মুখপাত্র ফারহান হক জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জানান, সংঘাত যেন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য উভয় পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে পাকিস্তান, কাতারসহ অন্যান্যদের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অক্টোবরে কলকাতায় ব্রাজিল-ভারত প্রীতি ম্যাচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ এম


অক্টোবরে কলকাতায় ব্রাজিল-ভারত প্রীতি ম্যাচ

আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে ব্রাজিল। এটি হবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য প্রথম বার এশিয়ার দেশটির মুখোমুখি হওয়া।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ) ঐ ম্যাচের কথা নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক বিরতির পর ফিফার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ব্রাজিল প্রথমে অস্ট্রেলিয়া সফর করবে। আগামী ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে টাউন্সভিল ও ব্রিজবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে কার্লো আনচেলত্তির দল।

আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের এই উদ্যোগ সিবিএফ এবং আয়োজকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপ চলাকালীণ সময়ে এশিয়ায় ব্রাজিল সমর্থকদের বিপুল উপস্থিতির ফলে। প্রতিযোগিতার পুরো সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রাজিলের জার্সি পরিধান করে সমর্থকদের ছবিও ছড়িয়ে পড়েছিল।

ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন জানায়, ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কাতারও আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু আলোচনা কেবল ভারতের সঙ্গে এগিয়েছে। শুরুর দিকে এই ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে হতে পারে তা চূড়ান্ত হয়নি; তবে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারত জাতীয় দল ব্রাজিলের সিনিয়র দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%