বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৫ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত জি২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠককে ‘খুবই ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে জানান, অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত জি২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে ‘খুবই ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা’ হয়েছে। তিনি বৈঠক আয়োজনের জন্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে প্রশংসা করেন।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অনুসরণ করে কর ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং সম্ভব হলে তেল উৎপাদন বাড়ানো। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে তিনি তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
জি২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকটি ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য ভারসাম্য, ঋণ, আর্থিক খাত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তবে সদস্য দেশগুলো সব বিষয়ে একমত হতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ভারসাম্য এবং ‘অ-বাজারভিত্তিক’ নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানে ১৯টি দেশ সমর্থন জানালেও চীন এতে ভিন্নমত পোষণ করেছে বলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন। তথ্যসূত্র: তাস, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বটতলা বাজার হয়ে জমাদ্দার হাট বাজারে যাওয়ার সড়কে ৪টি ছোট গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের অভাবে ওই সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকূলীয় ও নদী-জলাশয়বেষ্টিত হওয়ায় কাঁঠালিয়া উপজেলায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের কারণে বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে অনেক স্থানে সড়কের অংশবিশেষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও স্থানীয়দের বাঁশের সাঁকোসহ অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে চলাচল করতে হয়।
বিশেষ করে বটতলা বাজার হয়ে জমাদ্দার হাট বাজারে যাওয়ার সড়কের কয়েকটি স্থানে ছোট গার্ডার ব্রিজ না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এ সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। পানি বৃদ্ধি পেলে তাঁদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং অনেক সময় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ রাজিব তালুকদার। আবেদনে তিনি জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে সড়কটির প্রয়োজনীয় স্থানসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন ও কারিগরি যাচাই করে জরুরি ভিত্তিতে ৪টি ছোট গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সড়কটির Road ID: 542434093 এবং Location: Koikhali Manik Mia House–Zomadderhat Bazar–Battala Bazar।
আবেদনকারী মোঃ রাজিব তালুকদার বলেন, “এই সড়কটি প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ব্রিজগুলোর অভাবে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও সহজ হবে এবং শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হবে। তাঁরা জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজদিখান উপজেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২৭৫৬৫৫ জন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ১৪টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৪৪টি।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২৭৫৬৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪২৩১৯ জন এবং মহিলা ভোটার ১৩৩৩৩৬ জন। সিরাজদিখান উপজেলায় মোট ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৪টি।
কোলা ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ৯২৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৭১০ জন এবং মহিলা ৪৫৮৮ জন। এখানে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৯টি। জৈনসার ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৫৯৮৮ জন, যেখানে পুরুষ ৮২৬১ জন এবং মহিলা ৭৭২৭ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০টি।
মধ্যপাড়া ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৪৯২৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ৭৭৫০ জন এবং মহিলা ৭১৭৩ জন। এখানে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৯টি। মালখানগর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৫৩২৬ জন, পুরুষ ৭৭৩৯ জন এবং মহিলা ৭৫৮৭ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৯টি।
বয়রাগাদি ইউনিয়নে মোট ভোটার ১২৩৩৬ জন, পুরুষ ৬৩২১ জন এবং মহিলা ৬০১৫ জন। এখানে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৯টি। ইছাপুরা ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৩৮২১ জন, পুরুষ ১২২৫৫ জন এবং মহিলা ১১৫৬৬ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১০টি। রসুনিয়া ইউনিয়নে মোট ভোটার ২০৯৭৭ জন, পুরুষ ১০৭৪৫ জন এবং মহিলা ১০২৩২ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০টি।
বালুরচর ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩৫৪৩২ জন, পুরুষ ১৮৭৩২ জন এবং মহিলা ১৬৭০০ জন। এখানে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৫টি। লতব্দি ইউনিয়নে মোট ভোটার ২০৫০৬ জন, পুরুষ ১০৭৩৫ জন এবং মহিলা ৯৭৭১ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৯টি। বাসাইল ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৪৭৯৫ জন, পুরুষ ১২৮৫০ জন এবং মহিলা ১১৯৪৫ জন। মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১২টি।
কেয়াইন ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৪৪০১ জন, পুরুষ ১২৪৩৬ জন এবং মহিলা ১১৯৬৫ জন। এখানে মোট ভোট কেন্দ্র ১২টি। রাজানগর ইউনিয়নে মোট ভোটার ২২১৭৭ জন, পুরুষ ১১৩৭৫ জন এবং মহিলা ১০৮০২ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১১টি। শেখরনগর ইউনিয়নে মোট ভোটার ২০২৭৩ জন, পুরুষ ১০৪২৩ জন এবং মহিলা ৯৮৫০ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১০টি।
চিত্রকোট ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৫৪০২ জন, পুরুষ ৭৯৮৭ জন এবং মহিলা ৭৪১৫ জন। এখানে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৯টি।
জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বাসস’কে জানিয়েছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য খসড়া ভোটার এবং কেন্দ্র তালিকা প্রকাশের পর আপত্তি বা সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ভোটার এবং কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য সিরাজদিখান উপজেলায় ১৪ ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৬টি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৮৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ তথ্য আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৩ জন, লালবাগ বিভাগে ৩০ জন, ওয়ারী বিভাগে ৬৫ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪৩ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৭৮ জন, মিরপুর বিভাগে ১১৬ জন, গুলশান বিভাগে ৩৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৩১ জন, গোয়েন্দা বিভাগে ১ জন এবং সিটিটিসিতে ৪ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অভিযানের সময় ১ হাজার ৫৫ পিস ইয়াবা, ১৪ পুরিয়া গাঁজা, ২৬ পুরিয়া হেরোইন, ৯টি মোবাইল ফোন, একটি চাকু, একটি কাটার, নগদ ১ লাখ ১১ হাজার ৫৮৯ টাকা এবং একটি ভুয়া স্টুডেন্ট আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে কিছু ভুল ধারণা এখনও প্রচলিত রয়েছে। একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো যে, কেবল ধূমপায়ীদেরই এই রোগ হয়; আরেকটি ধারণা হলো, এই রোগ শনাক্ত হলে মৃত্যু নিশ্চিত। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।
যুক্তরাষ্ট্রের 'সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন' (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২,১৮,৫২০ জন এবং ওই বছর এই রোগে মারা যান ১,৪২,০৮০ জন। বিশ্বব্যাপী ২০২০ সালে স্তন ক্যানসারের পর ফুসফুসের ক্যানসার ছিল দ্বিতীয় সর্বাধিক সাধারণ ক্যানসার; সে সময় প্রায় ২২ লাখ ১০ হাজার মানুষ এতে আক্রান্ত হন এবং ১৮ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।
নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাইয়ের 'টিশ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট'-এর 'থোরাসিক অনকোলজি সেন্টার'-এর নির্বাহী পরিচালক ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডা. ফ্রেড আর. হার্শ ফুসফুসের ক্যানসার সম্পর্কিত কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন—
১. কেবল ধূমপায়ীদেরই ফুসফুসের ক্যানসার হয়
ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ডা. হার্শের মতে, যারা ধূমপান করেন না, তাদেরও এই রোগ হতে পারে। এই ভুল ধারণা রোগীদের প্রতি সামাজিক কলঙ্ক বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। সিডিসির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের মধ্যে প্রায় ১০% থেকে ২০% রোগী কখনোই ধূমপান করেননি অথবা সারা জীবনে ১০০টিরও কম সিগারেট পান করেছেন। পরোক্ষ ধূমপান এবং রেডন গ্যাসের সংস্পর্শে আসাও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২. ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর কোনো উপায় নেই
অনেকে মনে করেন ফুসফুসে ক্যানসারে ঝুঁকি কমানোর কোনো উপায় নেই। তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে ধূমপান থেকে বিরত থাকা এবং ধূমপায়ী হলে তা ছেড়ে দেওয়া। সিডিসির মতে, বাড়িতে বা কর্মক্ষেত্রে ধূমপায়ীদের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ২০% থেকে ৩০% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি, তাদের জন্য 'লো-ডোজ সিটি স্ক্যান'-এর মাধ্যমে স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করালে ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুর হার ২০%-এরও বেশি কমানো সম্ভব। অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে বাড়িতে রেডন গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
৩. কেবল বয়স্কদেরই ফুসফুসের ক্যানসার হয়
ফুসফুসের ক্যানসার কেবল বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যদিও এই রোগে আক্রান্ত অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, তবুও কম বয়সি—এমনকি ৫০ বছরের কম বয়সিদের মধ্যেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কম বয়সি নারীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি হার্শ উল্লেখ করেছেন। সুতরাং, কম বয়স মানেই যে ফুসফুসের ক্যানসার থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যাবে, তা নয়।
৪. ধূমপানের চেয়ে দূষিত শহরে বসবাস করা বেশি বিপজ্জনক
বায়ু দূষণের সাথে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং সূক্ষ্ম বস্তুকণার সংস্পর্শে আসাকে এই রোগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষণ এবং ধূমপানের ঝুঁকির মধ্যে সরাসরি তুলনা করা কঠিন।
দূষিত শহরে বসবাস করা একটি ঝুঁকির কারণ ঠিকই, কিন্তু একে ধূমপানের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক হিসেবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। একই সাথে এই দুটি ঝুঁকির কারণ বিদ্যমান থাকলে তা ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
৫. আমি বহু বছর ধরে ধূমপান করছি, তাই এখন ধূমপান ছাড়লে কোনো লাভ হবে না
অনেকের মধ্যে এই ভুল ধারণা রয়েছে। হার্শের মতে, ধূমপান ছেড়ে দিলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। ধূমপান বর্জন করলে হৃদরোগ, হাড়ের দুর্বলতা এবং ডায়াবেটিসসহ আরও অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকিও কমে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং’-এর মতে, যেকোনো বয়সেই ধূমপান ছাড়লে মানুষ উপকৃত হতে পারে। ধূমপান ছাড়লে শ্বাস-প্রশ্বাসের উন্নতি ঘটে, শারীরিক শক্তি বা কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সম্ভাব্যভাবে আয়ুও বাড়তে পারে।
৬. গাঁজা সেবনে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে না
হার্শ বলেন, চিকিৎসকরা গাঁজাকে ফুসফুসের ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করেন, যদিও এ বিষয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। গাঁজা সেবন এবং ফুসফুসের ক্যানসারের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে প্রাপ্ত মহামারী-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ এখনও সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি। এই সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে একটি জটিলতা হলো, গাঁজা ব্যবহারকারীদের অনেকেই তামাকও সেবন করেন; ফলে উভয়ের প্রভাব আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৭. ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়ার পর ধূমপান ছেড়ে কোনো লাভ নেই
ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে ধূমপান ছেড়ে দেওয়াটা অর্থহীন। হার্শের মতে, রোগ শনাক্ত হওয়ার পর ধূমপান বন্ধ করলে অনেক উপকার পাওয়া যেতে পারে এবং তা রোগীর সামগ্রিক চিকিৎসার ফলাফল বা রোগমুক্তির সম্ভাবনাকে উন্নত করতে পারে। তাই ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়ার পরেও ধূমপান ত্যাগ করা উপকারী হতে পারে।
৮. অস্ত্রোপচারের ফলে ফুসফুসের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে
এটি আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা। হার্শ বলেন, অস্ত্রোপচারের কারণে ফুসফুসের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে না। ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং শুরুর দিকে রোগটি ধরা পড়লে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব। বড় টিউমার বা স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসারের ক্ষেত্রে, ক্যানসার কোষের ঝুঁকি কমাতে অস্ত্রোপচারের আগে কেমোথেরাপি বা ইমিউনোথেরাপি দেওয়া যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এ ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি রোগীর বেঁচে থাকার হার বাড়াতে এবং এই রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
৯. ট্যালকম পাউডার শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে ফুসফুসের ক্যানসার হয়
হার্শ বলেছেন, ট্যালকের সংস্পর্শে আসা এবং ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার মধ্যে কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক নেই। এই ভুল ধারণাটি সম্ভবত ট্যালক খনি ও উৎপাদন কারখানায় কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়ে করা গবেষণা থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যেখানে কিছুটা বেশি ঝুঁকি পরিলক্ষিত হয়েছিল। তবে, এই ঝুঁকিটি খনিজ পদার্থটির কারণে নাকি ভূগর্ভস্থ অন্যান্য উপাদানের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, তা অস্পষ্ট ছিল।
ফুসফুসের ক্যানসার সম্পর্কে ভুল ধারণা মানুষকে সতর্কতামূলক লক্ষণ উপেক্ষা করতে কিংবা চিকিৎসায় বিলম্ব করতে প্ররোচিত করতে পারে। ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে জানা, ধূমপান বর্জন করা, পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শ কমানো এবং উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যথাযথ স্ক্রিনিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা—এসব পদক্ষেপ রোগটির প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফুসফুসের ক্যানসারকে কেবল ধূমপায়ীদের রোগ বা অনিবার্যভাবে নিরাময়-অযোগ্য কোনো অসুস্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ