১২:১৭ পি.এম
ইউরোপে অভিবাসন নীতি নিয়ে এখন পর্যন্ত নজিরবিহীন সতর্কতামূলক বিবৃতি প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। রাজনৈতিকভাবে একপেশে ডানপন্থী এবং বামপন্থী ঘরানার এই দুই নেতার যৌথ বিবৃতি ইউরোপের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা অভিবাসন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা উস্কে দিয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ইউরোপীয় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁরা সতর্কতা ব্যপ্ত করেন যে, অভিবাসনের কারণে অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে এবং সরকারি সেবার ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থার কারণে নাগরিকদের সরকারের ওপর আস্থা কমছে।
এ দুই রাজনীতিক যোগ করেছেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ ভিন্ন হলেও ইউরোপীয় মূল্যবোধ রক্ষার ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান একই। মেলোনি ইতালির ডানপন্থী দল ব্রাদার্স অব ইতালির নেতা। অন্যদিকে ফ্রেডেরিকসেন ডেনমার্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা। যদিও তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন, তবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তাঁদের মধ্যে ঐক্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বরাবরই অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকলেও, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন এবারে অবৈধ অভিবাসীদের ইউরোপের বাইরে রাখার পক্ষে তাঁর মত প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে উভয় নেতা জানিয়েছেন, তাঁরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে রিটার্ন সেন্টার বা ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁরা এটা উল্লেখ করেছেন যে, যদি কেউ সহিংস অপরাধ, মাদক ব্যবসা বা যৌন সহিংসতায় জড়িত হয়, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে উঠবে।
এছাড়াও, স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউতাকে নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ইউরোপে অভিবাসন বিতর্ককে আবার উস্কে দিয়েছে। এতে অভিবাসী বিরোধী ডানপন্থী দলগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। আগস্টের প্রথমে, মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় পৌঁছান, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই সাঁতরে আসেন। পরে তাঁদের দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। এই ঘটনার পর ইতালি স্পেনের সাথে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শুরু করে এবং পরে স্পেনও ইতালি থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহৎ রাজনৈতিক গ্রুপ ডানপন্থী ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির (ইপিপি) নেতা ম্যানফ্রেড ভেবার ইইউর বাইরের ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং আফ্রিকায় দ্রুত রিটার্ন হাব স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ এই ধরনের কেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতা করবে, তাঁদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
তবে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ কেন্দ্রে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো পরিকল্পনাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো তাদের মানবাধিকার বিষয়ক দায়িত্ব অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন