ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল, অধিনায়কত্বের কীর্তি অর্জন


চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল, অধিনায়কত্বের কীর্তি অর্জন

লামীণ ইয়ামাল যেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একের পর এক কীর্তি গড়ে চলেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে কম বয়সে সর্বাধিক গোল অবদানের রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে বার্সেলোনা ফেইনুর্দকে ৫-১ গোলে পরাজিত করেছে।

এই ম্যাচের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা ২১ এ পৌঁছেছে। এর ফলে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের পূর্ববর্তী রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছেন।

আরও পড়ুন: তেলের দাম কমবে কবে: রুশ উপপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

ফুটবল পরিসংখ্যান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘অপটা জো’-এর তথ্য অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের মোট গোল অবদান এখন ২১টি, যার মধ্যে ১১টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট রয়েছে।

এর আগে, টুর্নামেন্টে টিনএজার হিসেবে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ২০টি অবদান নিয়ে রেকর্ডটি ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের দখলে ছিল। এবার ইয়ামাল তাকে ছাড়িয়ে গেছেন।

এছাড়া এই ম্যাচে ইয়ামাল আরও একটি রেকর্ড গড়েন। তবে রাতটি ইয়ামালের জন্য বিশেষ হয়ে ওঠে ম্যাচের শেষভাগে। ৭১তম মিনিটে রাফিনিয়া মাঠ ছাড়ার পর তার হাতে ওঠে বার্সেলোনার অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। এর মাধ্যমে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন।

সূত্র : গোল ডট কম

আরও পড়ুন: অরেগনের স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ২; শোকে স্তব্ধ শহর

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান বিরোধী যুদ্ধে মক্কা জোট বা মুসলিম রাষ্ট্র যে-ই যাক তার ধ্বংস অনিবার্য!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


ইরান বিরোধী যুদ্ধে মক্কা জোট বা মুসলিম রাষ্ট্র যে-ই যাক তার ধ্বংস অনিবার্য!
 
মক্কা জোট: মুসলিমদের রক্ষাকবচ, নাকি ইরানবিরোধী পশ্চিমা শক্তির যুদ্ধ জোট?
===========================
 
প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হওয়া এবং সন্দেহ আর অবিশ্বাসের মধ্যে তৈরি হওয়া এই মক্কা জোট ইতিমধ্যে তার কিছুটা পরিচয় প্রকাশ করেছে। কারণ ইতিমধ্যে ইরানপন্থী ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে মক্কা জোটের সদস্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, সৌদি আরবের কোন স্বার্থে হামলা করলে তাদের দুই দেশীয় প্রতিরক্ষা জোট কিংবা ত্রিদেশীয় মক্কা জোট সক্রিয় হবে এবং প্রয়োজনে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে। এবার তাহলে প্রশ্ন, এই মক্কা'র নামে মুসলিম'দের নামে কিংবা ইসলামের নামে তৈরি জোট আসলে কি ইজরাইল-আমেরিকা বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে, নাকি অপর মুসলিম রাষ্ট্রের ভাইদের ধ্বংস করার জন্য আমেরিকা ইসরাইলের দালাল বা প্রক্সি গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পাবে?
 
মুসলমানের বিরুদ্ধে মুসলমানের অস্ত্র—আর সেই অস্ত্রের পেছনে যদি থাকে আমেরিকান সামরিক ছায়া ও ইসরাইলি স্বার্থ, তাহলে সেই যুদ্ধকে মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা বলা হবে কীভাবে? প্রশ্নটি সরাসরি অস্বস্তিকরও বটে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার আর সুযোগ নেই।
 
মুসলিম বিশ্বের নামে যদি কোনো জোট তৈরি হয়, মক্কার পবিত্র নাম যদি সেই জোটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম রাষ্ট্র যদি তাতে যুক্ত হয়, তুরস্ক যদি তার অংশ হয় এবং সৌদি আরব যদি তার নেতৃত্বে থাকে—তাহলে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত: এই জোটের শত্রু কে?
ইসরাইল?
আমেরিকা?
নাকি ইরান?
আর যদি উত্তর হয়—ইরান ও ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধশক্তি—তাহলে আরও বড় প্রশ্ন সামনে আসে:মুসলিমদের নিরাপত্তার নামে গঠিত জোট কি শেষ পর্যন্ত মুসলিমদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করবে?
এই প্রশ্নই আজ মক্কা জোটের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক, নৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রশ্ন।
 
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ, আর মুসলিম বিশ্বের বিভক্তি
===============================
ইরানের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইল ও তার প্রধান মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ছয় মাস অতিক্রম করেছে—এমন দাবি ও বর্ণনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যেই আক্রমণকারী শক্তির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশ্ন উঠছে আমেরিকার সামরিক শক্তির ক্ষয় ও ধ্বংস নিয়েও এবং ইরান তার প্রতিরোধক্ষমতা প্রদর্শন করছে এবং এমন প্রতিরোধ তৈরি করেছে যার ফলে ইহুদীবাদী ইজরাইল ও মার্কিন শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে কোনঠাসা হয়ে যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছে। 
 
কিন্তু এই যুদ্ধকে কেবল ইরান-ইসরাইল বা ইরান -আমেরিকার সংঘাত হিসেবে দেখলে মধ্যপ্রাচ্যের আসল চিত্রটি ধরা পড়বে না। কারণ গত কয়েক দশকের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়—জায়ানবাটি তথা ইহুদীবাদী ইসরাইল ও মুসলিম বিরোধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি সম্মিলিতভাবে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনে যুদ্ধ করে সে সেই রাষ্ট্রগুলোকে ইতিমধ্যে ধ্বংস করেছে কোন কারণ ছাড়াই, এসব মুসলিম রাষ্ট্রে আগ্রাসন, ধ্বংস ও প্রাণহানির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এসব সংঘাতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর পড়েছে। যাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে আরব রাষ্ট্রগুলো। অর্থাৎ অপর মুসলিম দেশ ধ্বংসকারী ইহুদিবাদী ইজরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ শক্তি হয়েছে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহারাইন, আরব আমিরাত জর্ডান ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলো।
 
প্রশ্ন হলো—এই দীর্ঘ ধ্বংসযজ্ঞের সময় মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো কোথায় ছিল?
 
কেন মুসলিম রাষ্ট্রগুলো একে একে ধ্বংসের মুখে পড়ল? কেন তাদের প্রতিরোধে একটি কার্যকর মুসলিম সামরিক ঐক্য গড়ে উঠল না? আর কেন আজ, যখন ইরান পশ্চিমা ও ইসরাইলি শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে বলে তার সমর্থকেরা দাবি করছে, তখন মুসলিম বিশ্বের একাংশ ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে? মুসলিম পরিচয়, কিন্তু কার সঙ্গে সামরিক জোট?
 
সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। এসব রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও রয়েছে।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের সামরিক অভিযান, গাজায় বিপুল প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ এবং লেবাননসহ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত মুসলিম বিশ্বের সামনে এক কঠিন প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে আসলে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্র নামক রাষ্ট্রগুলো কি সত্যিই মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করছে নাকি ইহুদিবাদী ইজরাইল ও পশ্চিমা রাষ্ট্রের গোলামী করছে?
 
যারা নিজেদের মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের দাবিদার, তারা কি কেবল নিজেদের সীমান্ত ও রাজতন্ত্র রক্ষা করবে? নাকি ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, লেবানন ও অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের মুসলিম জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নেও কার্যকর অবস্থান নেবে?
 
এই প্রশ্নের উত্তর এখনো সন্তোষজনক নয়।
বরং মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশের কাছে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মুসলিম রাষ্ট্র পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে এমনভাবে সম্পর্কিত হয়ে পড়েছে, যেখানে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং বৃহত্তর মুসলিম স্বার্থ সবসময় এক নয়।
 
এ কারণেই তাদের ভূমিকা নিয়ে ‘মুনাফিক’, ‘গাদ্দার’ কিংবা ‘পশ্চিমা শক্তির সহযোগী’—এ ধরনের তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভাষা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মহলে ব্যবহৃত হচ্ছে। মক্কার নামে জোট—কিন্তু লক্ষ্য কার দিকে? এমন এক সময়ে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে ঘিরে কথিত ‘মক্কা জোট’ বা মুসলিম প্রতিরক্ষা কাঠামোর ধারণা সামনে এসেছে।
 
নামটি মক্কা। অর্থাৎ মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র নগরীর নাম। স্বাভাবিকভাবেই এর সঙ্গে মুসলিমদের নিরাপত্তা, ঐক্য ও সংহতির আবেগ জড়িত।
কিন্তু নাম দিয়ে তো ইতিহাস লেখা হয় না।
ইতিহাস লেখা হয় কর্মকাণ্ড দিয়ে।
তাই প্রশ্ন একটাই—
মক্কা জোট কাকে রক্ষা করবে?
মুসলিমদের?
নাকি সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে?
ইসরাইলি আগ্রাসনকে প্রতিহত করবে?
নাকি ইরান ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করবে?
ফিলিস্তিনকে রক্ষা করবে?
নাকি ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানো প্রতিরোধশক্তিগুলোকে দমন করবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ‘মক্কা জোট’ নিয়ে সন্দেহ দূর হওয়ার কোনো কারণ নেই।
ইরান কি শত্রু, নাকি মুসলিম বিশ্বের প্রতিরোধের একটি কেন্দ্র?
 
ইরান গত প্রায় অর্ধশতক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে সামরিক চাপ—সবকিছুর মধ্যেও তেহরান তার নিজস্ব প্রতিরোধনীতি বজায় রেখেছে। আজ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত যখন মধ্যপ্রাচ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন ইয়েমেনের হুতি, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সসহ বিভিন্ন প্রতিরোধশক্তি ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে বলে তাদের সমর্থকেরা দাবি করছে।
এখানেই মুসলিম বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।
 
যদি ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রতিরোধশক্তিকে মুসলিম বিশ্বের শত্রু হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে সামরিকভাবে দাঁড় করানো হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—
তাহলে মুসলিম প্রতিরোধের সংজ্ঞা কী?
আর যদি ইরান সেই প্রতিরোধশক্তিগুলোর অন্যতম প্রধান সমর্থক হয়, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে মুসলিম সামরিক জোট দাঁড় করানোর অর্থই বা কী?
সৌদি আরবকে ঘিরে প্রশ্ন আরও তীব্র
ইয়েমেনের হুতি ও সৌদি আরবের সংঘাত বহু বছরের। যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে এই সংঘাত নানা পর্যায় অতিক্রম করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের স্বার্থে পাকিস্তান বা তুরস্ক যদি সামরিকভাবে হুতিদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—
এটি কি মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা, নাকি সৌদি নিরাপত্তার সামরিক গ্যারান্টি?
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের হুতিদের উদ্দেশে সতর্কবার্তার যে আলোচনা সামনে এসেছে, সেটিও এই প্রশ্নকে আরও তীব্র করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
যদি সৌদি আরবের ওপর হামলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি কাঠামো সামরিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে এই জোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
কারণ একজন মুসলিমের কাছে প্রশ্নটি অত্যন্ত সরল:
যে জোট মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য তৈরি, তার সম্ভাব্য অস্ত্র কি একজন মুসলিম প্রতিরোধশক্তির দিকে তাক করা হবে?
তাহলে মুসলিমদের শত্রু কে?
এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ‘মুসলিম ঐক্য’ শব্দটি উচ্চারণ করা অর্থহীন।
ফিলিস্তিনে মুসলমান নিহত হচ্ছে।
গাজা ধ্বংস হচ্ছে।
লেবাননে হামলা হচ্ছে।
ইয়েমেন বছরের পর বছর যুদ্ধের ক্ষত বহন করছে।
ইরান ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে রয়েছে।
 
এই বাস্তবতায় মুসলিম বিশ্বের সামরিক শক্তির প্রধান অগ্রাধিকার কী?
ইসরাইলি আগ্রাসন প্রতিহত করা?
ফিলিস্তিনকে রক্ষা করা?
মুসলিম ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা?
নাকি ইরানকে পরাজিত করা?
এই একটি প্রশ্নের উত্তরই মক্কা জোটের প্রকৃত চরিত্র উন্মোচন করতে পারে।
 
পাকিস্তানের সামনে আরও বড় বিপদ
পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর।
একদিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা। অভ্যন্তরে বেলুচিস্তান কেন্দ্রিক বিদ্রোহ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা। তার সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ সীমান্ত।
এর ওপর পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র।
এমন একটি রাষ্ট্র যদি ইরানবিরোধী বৃহত্তর যুদ্ধে প্রবেশ করে, তাহলে সেটি আর কেবল একটি সীমান্ত সংঘাত থাকবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে যাবে ভারত, আফগানিস্তান, ইরান, উপসাগরীয় রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের স্বার্থ।
পাকিস্তানের জন্য তখন প্রশ্ন হবে—একসঙ্গে কতগুলো ফ্রন্ট সামলাবে?
ইরান সীমান্ত?
আফগানিস্তান?
ভারত?
বেলুচিস্তান?
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা?
আর পারমাণবিক শক্তিধর একটি মুসলিম রাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটিও পাকিস্তানকে হিসাব করতে হবে।
মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মুসলিম রাষ্ট্র—কার লাভ?
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ইরান ও সৌদি আরব যদি সংঘাতে জড়ায়, কার লাভ?
ইরান ও পাকিস্তান যদি যুদ্ধে জড়ায়, কার লাভ?
তুরস্ক যদি ইরানবিরোধী সামরিক সংঘাতে নামে, কার লাভ?
আর মুসলিম প্রতিরোধশক্তিগুলো যদি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সেনাবাহিনীর হাতে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে লাভবান হবে কারা?
এই প্রশ্নের উত্তর মুসলিম বিশ্বের মানুষ জানতে চাইতেই পারে।
কারণ ইতিহাসে দেখা গেছে, মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন যখন তীব্র হয়েছে, তখন বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ আরও সহজ হয়েছে।
মুসলমানের শক্তি যখন মুসলমানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে, তখন লাভবান হয়েছে তৃতীয় পক্ষ।
তাই মক্কা জোটের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—তারা মুসলিম বিশ্বের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করবে, নাকি মুসলিম বিশ্বের শক্তিকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবে?
ধর্মের ভাষায়ও প্রশ্নটি গুরুতর
মুসলিম হয়ে মুসলিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং অমুসলিম শক্তির স্বার্থ রক্ষা করা—এই অভিযোগ মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত গুরুতর।
 
ইসলামী পরিভাষায় ‘মুনাফিক’, ‘গাদ্দার’, ‘কাফের’ কিংবা ‘মুশরিক’—এসব শব্দের ধর্মীয় তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। তাই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাষ্ট্রকে চূড়ান্তভাবে এসব পরিচয়ে চিহ্নিত করার আগে ধর্মীয় ও প্রামাণ্য ভিত্তি বিবেচনা করা জরুরি।
 
কিন্তু রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্নটি থেকেই যায়।
যদি কোনো মুসলিম রাষ্ট্র এমন সামরিক পদক্ষেপ নেয়, যার ফলাফল হয় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী অন্য মুসলিম শক্তিকে দুর্বল করা, তাহলে সেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার মুসলিম জনগণের রয়েছে।
আর সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ওই রাষ্ট্রকেই।
মক্কা জোটের সামনে এখন ইতিহাসের পরীক্ষা
মক্কার নামে জোট তৈরি হয়েছে—এটি নিজেই যথেষ্ট নয়।
 
প্রশ্ন হলো, সেই জোটের অস্ত্র কোন দিকে তাক করা?
ইসরাইলের দিকে?
আমেরিকার সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে?
নাকি ইরানের দিকে?
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে?
নাকি ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিরোধশক্তির বিরুদ্ধে?
মুসলিম বিশ্বের সামনে এখন আর আবেগের জায়গা নেই। এখন দরকার জোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝা।
যদি মক্কা জোট সত্যিই মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা জোট হয়, তাহলে তার প্রথম দায়িত্ব হবে মুসলিম ভূখণ্ডের নিরাপত্তা, ফিলিস্তিনের প্রশ্নে কার্যকর অবস্থান এবং বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের সার্বভৌমত্ব রক্ষা।
কিন্তু যদি সেই জোট শেষ পর্যন্ত ইরান, হুতি, হিজবুল্লাহ, হামাস কিংবা অন্য কোনো মুসলিম প্রতিরোধশক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়, তাহলে ইতিহাসের প্রশ্ন আরও কঠিন হয়ে যাবে:
এটি কি মুসলিম প্রতিরক্ষা জোট, নাকি মুসলিমদের বিভক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর নতুন সামরিক কাঠামো?
শেষ কথা: নাম নয়, অস্ত্রের দিকই পরিচয় নির্ধারণ করবে
মক্কা মুসলিম বিশ্বের হৃদয়।
পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র।
তুরস্ক মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও ভূরাজনৈতিক শক্তি।
এই তিন শক্তির সমন্বয়ে কোনো প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে উঠলে সেটি নিঃসন্দেহে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
কিন্তু সেই শক্তি কোন দিকে ব্যবহৃত হবে—সেটিই আসল কথা।
মুসলিমদের রক্ষায়?
নাকি মুসলিমদের বিরুদ্ধে?
ইসরাইলি আগ্রাসন ঠেকাতে?
নাকি ইরানকে মোকাবিলা করতে?
ফিলিস্তিনকে রক্ষা করতে?
নাকি ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিরোধকে দমন করতে?
মক্কা জোটের ভবিষ্যৎ এখানেই নির্ধারিত হবে।
কারণ ইতিহাস শেষ পর্যন্ত জোটের নাম মনে রাখে না—মনে রাখে তার কর্মকাণ্ড।
 
যে জোট মুসলিমদের রক্ষার নামে গঠিত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুসলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলে, তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
আর যদি সত্যিই কোনো মুসলিম রাষ্ট্র ইরান কিংবা ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধশক্তির বিরুদ্ধে পশ্চিমা ও ইসরাইলি স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সামরিক অবস্থান নেয়, তাহলে সেই রাষ্ট্রকে মুসলিম বিশ্বের কাছে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে হবে। তখন আর ‘মুসলিম জোট’ শব্দটি যথেষ্ট হবে না।
তখন প্রশ্ন হবে—
কার মুসলিম জোট?
কাদের বিরুদ্ধে?
কার স্বার্থে?
আর শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি দাঁড়াবে—
মুসলমানের হাতে মুসলমানের রক্ত—এই যুদ্ধের বিজয়ী আসলে কে?
সময়ের সঙ্গে মক্কা জোটের উত্তর স্পষ্ট হবে।
তখন বোঝা যাবে—এটি মুসলিম বিশ্বের রক্ষাকবচ ছিল, নাকি মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন যুদ্ধের দরজা।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেকোনো দলের বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


যেকোনো দলের বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী যেকোনো দলের বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এটি সম্ভব হয়েছে কারণ দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হন, তবে বিএনপির অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই। কারণ, দলীয় মনোনয়নও থাকছে না, দলীয় প্রতীকও থাকছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে দল সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকেও স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তবে মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না। তিনি বলেন, ‘সরকারের ভূমিকা থাকবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না। বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করবে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তারা যেন সঠিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে।’

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের সহায়তায় ২ মাসের শিশুর টানা কান্নায় দরজা ভেঙে উদ্ধার হলো মা-সন্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৯ পি.এম


পুলিশের সহায়তায় ২ মাসের শিশুর টানা কান্নায় দরজা ভেঙে উদ্ধার হলো মা-সন্তান

কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক গৃহবধূ, স্মৃতি কর্মকার (২৬), আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি দরজা বন্ধ করে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেন। ওষুধ গ্রহণের পর তিনি গভীর ঘুমে চলে যান। এ সময় পাশে থাকা তার দুই মাসের শিশুর কান্না শুনে আশপাশের লোকজন সন্দেহে পড়ে। এরপর খবরটি তার স্বামীর কাছে পৌঁছায়। স্বামী পুলিশকে জানালে, পুলিশ দ্রুত ভাড়া বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ঘুমন্ত মা ও শিশুকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় মা ও শিশুর জীবন রক্ষা হয়।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পেকুয়া পৌরসভার ডিসি সড়কের একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের উদ্ধার কার্যক্রমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের কারণে স্মৃতি তার স্বামী পলাশের সঙ্গে অভিমান করে ঘুমের ওষুধ সেবন করেন। উদ্ধার হওয়ার পর জানা যায়, স্মৃতি উখিয়া উপজেলার মৃত মনমোহন কর্মকারের কন্যা। তিনি পলাশ কর্মকারের সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। পলাশ পেকুয়া বাজারে একটি ব্যবসা পরিচালনা করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে স্মৃতি ঘুমের ওষুধ সেবনের পর অচেতন হয়ে পড়েন। বিকেলের দিকে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। অনেক ডাকাডাকি করেও স্মৃতির কোনো সাড়া না পেয়ে তার স্বামী পলাশকে খবর দেওয়া হয়। পলাশ এসে দরজা খুলতে ব্যর্থ হলে পেকুয়া থানার পুলিশকে জানানো হয়।

আরো পড়ুন

ধানমণ্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন

পুলিশ খবর পেয়ে পেকুয়া থানার এসআই উগ্যাজাই মার্মার নেতৃত্বে দ্রুত ওই ভাড়া বাসায় পৌঁছায়। তারা ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজার লক ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় স্মৃতি এবং পাশে থাকা শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

এসআই উগ্যজাই মারমা জানান, শিশুটিকে তার বাবার জিম্মায় দিয়ে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্মৃতিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়।

পেকুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ওই ভাড়াবাসায় পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে মা ও সন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে মা ও সন্তান উভয়েই প্রাণে বেঁচে যায়।’

আরো পড়ুন

যুবককে অপহরণ করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, গ্রেপ্তার ৩

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধরলায় উৎসবের মাঝে ছুটছে বাইচের নৌকা, দুই পারে জমেছে ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩১ পি.এম


ধরলায় উৎসবের মাঝে ছুটছে বাইচের নৌকা, দুই পারে জমেছে ভিড়

ধরলা নদীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নৌকাবাইচ। বিকেলের সময় হলেই ধ্বনি তুলে জলের ওপর ছুটে চলে বাইচের নৌকা। বাইচ দেখতে নদীর দুই পারে মানুষের ভিড় জমে উঠেছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ উপস্থিত রয়েছে। কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ নৌকায় কিংবা আশপাশের উঁচু স্থানে। সবার মুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ দেখা যাচ্ছে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ চলমান রয়েছে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে। স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত বাইচের উদ্বোধন করা হয় ২৬ আগস্ট। উদ্বোধনী দিন থেকে দূর-দূরান্তের ১২টি বড় নৌকা নিয়ে বাইচে অংশ নিচ্ছেন প্রতিযোগীরা।

গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিফাইনালে বিজয়ী হয় উলিপুর থেকে আসা তামিম বাংলা এবং হক বাজার এলাকার দাদাভাই নামে দুটি নৌকা।

রবি, সোম ও মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাইচ দেখতে ধরলা নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর নির্বিশেষে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতি আয়োজনকে উৎসবে পরিণত করেছে। বাইচ শুরু হলে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। প্রতিযোগী নৌকাগুলো বৈঠায় জল কেটে দ্রুতগতিতে ছুটছে। তাদের উৎসাহ দিতে দর্শকদের তুমুল করতালি চলছে; চিৎকার করে উচ্ছ্বাসপূর্ণ ধ্বনি ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

নদীমাতৃক এই দেশের বিভিন্ন এলাকায় একসময় নিয়মিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে এমন আয়োজন অনেক কমে গেছে। তাই ধরলা নদীতে এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এবং মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এদিকে, নৌকাবাইচের সাথে সাথে ধরলা নদীর পারে বসেছে মেলা। সড়ক থেকে ধরলা সেতু পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে।

নৌকাবাইচ দেখতে আসা অসীম কুমার রায়, ববিতা খাতুন ও রুবিন খাতুন জানান, তারা প্রত্যেকেই প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে বাইচ দেখতে এসেছেন।

নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, "গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটি সত্যিই আনন্দদায়ক। খেলা দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় দেখে আমি মুগ্ধ। নদীর ঢেউয়ের মতো এ বাইচ মানুষের মনকে নির্মল আনন্দের স্রোতে ভাসিয়ে নেয়। আমাদের লোকজ সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যবাহী ধারা ধরে রাখার এ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।"

নৌকাবাইচ দেখতে আসা কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, "আমাদের ইউনিয়নে তেমন কোনো জলাশয় না থাকায় নৌকাবাইচ দেখার সুযোগ খুব একটা হয় না। তাই এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি আমার অত্যন্ত প্রিয়। প্রতিবছর ধরলাপারে টানা কয়েকদিনের বাইচ উপভোগ করি।"

নৌকাবাইচ কমিটির উপদেষ্টা ও খেলা পরিচালনাকারী শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম সোহেল এবং উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সামছুজ্জামান হাসু বলেন, "নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। এ ধরনের আয়োজন দেশের প্রত্যেক এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হলে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।"

আয়োজকরা জানান, দু-এক দিনের মধ্যে বাইচের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছর ধরলা নদীর তীরে নিয়মিত নৌকাবাইচ আয়োজন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%