বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১৩ পি.এম
লামীণ ইয়ামাল যেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একের পর এক কীর্তি গড়ে চলেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে কম বয়সে সর্বাধিক গোল অবদানের রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে বার্সেলোনা ফেইনুর্দকে ৫-১ গোলে পরাজিত করেছে।
এই ম্যাচের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা ২১ এ পৌঁছেছে। এর ফলে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের পূর্ববর্তী রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছেন।
ফুটবল পরিসংখ্যান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘অপটা জো’-এর তথ্য অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের মোট গোল অবদান এখন ২১টি, যার মধ্যে ১১টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট রয়েছে।
এর আগে, টুর্নামেন্টে টিনএজার হিসেবে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ২০টি অবদান নিয়ে রেকর্ডটি ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের দখলে ছিল। এবার ইয়ামাল তাকে ছাড়িয়ে গেছেন।
এছাড়া এই ম্যাচে ইয়ামাল আরও একটি রেকর্ড গড়েন। তবে রাতটি ইয়ামালের জন্য বিশেষ হয়ে ওঠে ম্যাচের শেষভাগে। ৭১তম মিনিটে রাফিনিয়া মাঠ ছাড়ার পর তার হাতে ওঠে বার্সেলোনার অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। এর মাধ্যমে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন।
সূত্র : গোল ডট কম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী যেকোনো দলের বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এটি সম্ভব হয়েছে কারণ দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হন, তবে বিএনপির অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই। কারণ, দলীয় মনোনয়নও থাকছে না, দলীয় প্রতীকও থাকছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে দল সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকেও স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তবে মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না। তিনি বলেন, ‘সরকারের ভূমিকা থাকবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না। বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করবে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তারা যেন সঠিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক গৃহবধূ, স্মৃতি কর্মকার (২৬), আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি দরজা বন্ধ করে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেন। ওষুধ গ্রহণের পর তিনি গভীর ঘুমে চলে যান। এ সময় পাশে থাকা তার দুই মাসের শিশুর কান্না শুনে আশপাশের লোকজন সন্দেহে পড়ে। এরপর খবরটি তার স্বামীর কাছে পৌঁছায়। স্বামী পুলিশকে জানালে, পুলিশ দ্রুত ভাড়া বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ঘুমন্ত মা ও শিশুকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় মা ও শিশুর জীবন রক্ষা হয়।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পেকুয়া পৌরসভার ডিসি সড়কের একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের উদ্ধার কার্যক্রমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের কারণে স্মৃতি তার স্বামী পলাশের সঙ্গে অভিমান করে ঘুমের ওষুধ সেবন করেন। উদ্ধার হওয়ার পর জানা যায়, স্মৃতি উখিয়া উপজেলার মৃত মনমোহন কর্মকারের কন্যা। তিনি পলাশ কর্মকারের সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। পলাশ পেকুয়া বাজারে একটি ব্যবসা পরিচালনা করেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে স্মৃতি ঘুমের ওষুধ সেবনের পর অচেতন হয়ে পড়েন। বিকেলের দিকে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। অনেক ডাকাডাকি করেও স্মৃতির কোনো সাড়া না পেয়ে তার স্বামী পলাশকে খবর দেওয়া হয়। পলাশ এসে দরজা খুলতে ব্যর্থ হলে পেকুয়া থানার পুলিশকে জানানো হয়।
আরো পড়ুন
ধানমণ্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন
পুলিশ খবর পেয়ে পেকুয়া থানার এসআই উগ্যাজাই মার্মার নেতৃত্বে দ্রুত ওই ভাড়া বাসায় পৌঁছায়। তারা ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজার লক ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় স্মৃতি এবং পাশে থাকা শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
এসআই উগ্যজাই মারমা জানান, শিশুটিকে তার বাবার জিম্মায় দিয়ে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্মৃতিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়।
পেকুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ওই ভাড়াবাসায় পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে মা ও সন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে মা ও সন্তান উভয়েই প্রাণে বেঁচে যায়।’
আরো পড়ুন
যুবককে অপহরণ করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, গ্রেপ্তার ৩
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধরলা নদীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নৌকাবাইচ। বিকেলের সময় হলেই ধ্বনি তুলে জলের ওপর ছুটে চলে বাইচের নৌকা। বাইচ দেখতে নদীর দুই পারে মানুষের ভিড় জমে উঠেছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ উপস্থিত রয়েছে। কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ নৌকায় কিংবা আশপাশের উঁচু স্থানে। সবার মুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ দেখা যাচ্ছে।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ চলমান রয়েছে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে। স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত বাইচের উদ্বোধন করা হয় ২৬ আগস্ট। উদ্বোধনী দিন থেকে দূর-দূরান্তের ১২টি বড় নৌকা নিয়ে বাইচে অংশ নিচ্ছেন প্রতিযোগীরা।
গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিফাইনালে বিজয়ী হয় উলিপুর থেকে আসা তামিম বাংলা এবং হক বাজার এলাকার দাদাভাই নামে দুটি নৌকা।
রবি, সোম ও মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাইচ দেখতে ধরলা নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর নির্বিশেষে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতি আয়োজনকে উৎসবে পরিণত করেছে। বাইচ শুরু হলে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। প্রতিযোগী নৌকাগুলো বৈঠায় জল কেটে দ্রুতগতিতে ছুটছে। তাদের উৎসাহ দিতে দর্শকদের তুমুল করতালি চলছে; চিৎকার করে উচ্ছ্বাসপূর্ণ ধ্বনি ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
নদীমাতৃক এই দেশের বিভিন্ন এলাকায় একসময় নিয়মিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে এমন আয়োজন অনেক কমে গেছে। তাই ধরলা নদীতে এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এবং মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে, নৌকাবাইচের সাথে সাথে ধরলা নদীর পারে বসেছে মেলা। সড়ক থেকে ধরলা সেতু পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে।
নৌকাবাইচ দেখতে আসা অসীম কুমার রায়, ববিতা খাতুন ও রুবিন খাতুন জানান, তারা প্রত্যেকেই প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে বাইচ দেখতে এসেছেন।
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, "গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটি সত্যিই আনন্দদায়ক। খেলা দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় দেখে আমি মুগ্ধ। নদীর ঢেউয়ের মতো এ বাইচ মানুষের মনকে নির্মল আনন্দের স্রোতে ভাসিয়ে নেয়। আমাদের লোকজ সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যবাহী ধারা ধরে রাখার এ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।"
নৌকাবাইচ দেখতে আসা কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, "আমাদের ইউনিয়নে তেমন কোনো জলাশয় না থাকায় নৌকাবাইচ দেখার সুযোগ খুব একটা হয় না। তাই এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি আমার অত্যন্ত প্রিয়। প্রতিবছর ধরলাপারে টানা কয়েকদিনের বাইচ উপভোগ করি।"
নৌকাবাইচ কমিটির উপদেষ্টা ও খেলা পরিচালনাকারী শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম সোহেল এবং উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সামছুজ্জামান হাসু বলেন, "নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। এ ধরনের আয়োজন দেশের প্রত্যেক এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হলে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।"
আয়োজকরা জানান, দু-এক দিনের মধ্যে বাইচের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছর ধরলা নদীর তীরে নিয়মিত নৌকাবাইচ আয়োজন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ