মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২৯ এম
ইতালি থেকে অস্ট্রেলিয়াগামী কোয়ান্টাস এয়ারলাইনসের একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, কারণ বিমানে ছারপোকার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রোম থেকে পার্থগামী বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটির উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটটির পূর্ববর্তী যাত্রায়, পার্থ থেকে রোম পর্যন্ত প্রায় ১৭ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রায় কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন যে বিমানে তাদের পোকা কামড়াচ্ছে। কামড়ের কারণে যাত্রীদের অস্বস্তি ও চুলকানি কমানোর জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া হলেও একপর্যায়ে সেগুলোর সরবরাহ শেষ হয়ে যায়।
ঘটনার পর কোয়ান্টাস এয়ারলাইনসের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, বিমানে ছারপোকার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে শনিবারের রোম-পার্থ ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। তিনি বলেন, ইকোনমি ক্লাসের কিছু আসনে সমস্যাটি দেখা দেওয়ার পর প্রকৌশলী ও রক্ষণাবেক্ষণ দল বিমানটি গভীরভাবে পরিষ্কার করে। সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য আমরা যাত্রীদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
বিমান সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সকল যাত্রীর জন্য হোটেল থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং মূল যাত্রার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সকলকে বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আসবাবপত্র, পোশাক ও বিছানায় মানিয়ে নেওয়া ডানা-বিহীন এই ছোট ছারপোকা সাধারণত মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে না, তবে এর কামড়ের ফলে তীব্র চুলকানি ও অস্বস্তি হয়। বিমানে ছারপোকার কারণে ভ্রমণ সূচিতে বিঘ্ন ঘটার ঘটনা এটি প্রথম নয়। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও ট্রেন পরিষেবায় ছারপোকার উপদ্রবের কারণে যাত্রা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনের জন্য ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে কারখানাটিতে বছরে ৬০ লাখ পিস অন্তর্বাস ও ব্রা উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকায় বেপজা কমপ্লেক্সে জমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চুক্তি সাক্ষরের সময় বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান লি কিয়াংকিয়াং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বেপজার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মোংলা ইপিজেডে ১৬ হাজার ৪২৬ দশমিক ৩৭ বর্গমিটার জমিতে কারখানাটি স্থাপন করা হবে। উৎপাদিত অন্তর্বাস ও ব্রা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড যেমন এয়ারি, ক্যালভিন ক্লেইন, জারা, ফ্লোরেন্স অ্যান্ড ফ্রেড (টেসকো), এএসওএস ও প্রাইমার্কের জন্য রপ্তানি করা হবে।
লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের উল্লেখযোগ্য ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে এইচঅ্যান্ডএম, ওয়ালমার্ট, এমঅ্যান্ডএস ও গ্যাপ। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের পাশাপাশি আলজেরিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, মেক্সিকো, ইরাক, জাপান ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা করছে।
বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে স্বাগত জানান বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বাংলাদেশ ও বেপজার ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মসিহউদ্দিন বিন মেসবাহ, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজ এবং অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) ফজলুল হক মজুমদারসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোংলা ইপিজেডে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে এবং ১০টি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ইপিজেডটি থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এখানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭১ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কর্মসংস্থান হয়েছে ১৬ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশির।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি আলেম মাওলানা নসরুল্লাহ বদরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য, তাঁর পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার দাবিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরের সঙ্গে আলেমদের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছে।
এই সাক্ষাৎটি সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নিহত মাওলানা নসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরে, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নুরিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, নিউ স্কাটন দিলু রোড মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি সালাউদ্দিন, ইসলামবাগ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনি জামে মসজিদের খতিব মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, নিউমার্কেট মাদ্রাসাতুন নাজাতের প্রিন্সিপাল মাওলানা সানাউল্লাহ খান, মাওলানা সুলতান মহিউদ্দিন ও মাওলানা ইলিয়াস আরাবীসহ অন্যান্যরা।
সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর নিহত মাওলানা নসরুল্লাহ বদরের বাবা-মা ও বড় দুই ভাইয়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি সৌদি আরবে অবস্থানরত সংশ্লিষ্ট ট্রাভেলসের মালিক এবং নিহতের মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করেন।
মাওলানা নসরুল্লাহ বদরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রতিমন্ত্রী সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে যেকোনো উপায়ে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। স্বজনদের প্রত্যাশা, প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগ পাবেন তাঁরা।
আলেম প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, মাওলানা নসরুল্লাহ বদর পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে হামলায় তাঁর মৃত্যুতে পরিবার গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তাঁরা মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিধি দলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি মাওলানা নসরুল্লাহ বদরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একসময় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার জন্য যে পরিমাণ শ্রমিক প্রয়োজন হতো, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সেই কাজটি কমসংখ্যক কর্মী দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়ে উঠছে। যদিও উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তবে শ্রমিকদের জন্য এটি কর্মসংস্থানের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। যদি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং বিকল্প কাজের সুযোগ তৈরি না করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়তে পারেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, অটোমেশনের ফলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে সর্বোচ্চ ১২ লাখ ২০ হাজার চাকরি ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। এই ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের ঝুঁকি আরও বেশি বলে গবেষণায় দেখা গেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে পোশাক খাতের প্রায় ৬০ শতাংশ নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
শুধু পোশাক খাতই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এশিয়ার শ্রমবাজারেও পরিবর্তন আনছে। এআইয়ের প্রভাবে কিছু পেশায় নিয়োগের চাহিদা কমছে, আবার প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। ফলে শ্রমিকদের নতুন দক্ষতা অর্জন এবং পরিবর্তিত কর্মবাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
গতকাল সোমবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভায় ‘এআইয়ের যুগে এশিয়ার শ্রমবাজার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের অর্থনীতিবিদ দিব্যা কীর্তি উপস্থাপনাটি করেন। গবেষণায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপনের তথ্য বিশ্লেষণ করে শ্রমবাজারে এআইয়ের প্রভাব এবং কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।
আইএমএফের গবেষণা উপস্থাপনায় দেখা গেছে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশায় এআই-সংশ্লিষ্ট দক্ষতার চাহিদা তুলনামূলক কম প্রভাবিত পেশার প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে, কিছু এআই-প্রভাবিত পেশায় নিয়োগের চাহিদা প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। তবে এর অর্থ সামগ্রিক কর্মসংস্থান ১০ শতাংশ কমে যাওয়া নয়। বরং নিয়োগদাতাদের চাহিদায় পরিবর্তন এবং কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি এতে উঠে এসেছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রচলিত কাজের ধরনও বদলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এআই পরিচালনা, তথ্য বিশ্লেষণ, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য কাজে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ফলে যাঁরা সময়মতো নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন, তাঁদের কর্মবাজারে টিকে থাকার সুযোগ তুলনামূলক বেশি হবে।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাকশিল্প। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে বিপুলসংখ্যক নারী কাজ করছেন। কিন্তু উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় অটোমেশনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে তাঁদের একটি বড় অংশের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সিপিডির গবেষণাটি করেছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, তৌফিকুল ইসলাম খান, মামতাজুল জান্নাত ও মালিহা রহমান। গবেষণায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দক্ষতার ঘাটতি, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষার দুর্বলতাকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নারী শ্রমিকদের ঝুঁকি বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, তাঁদের অনেকেই উৎপাদনের এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে করানোর সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে উন্নত প্রযুক্তি পরিচালনা, উৎপাদন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মতো কাজে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং পদোন্নতির সুযোগ সবার জন্য সমান নয়।
ফলে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও নতুন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে নারী শ্রমিকদের একটি অংশ পিছিয়ে পড়তে পারেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন ও পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আইএমএফের গবেষণা উপস্থাপনায় এআই ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান, বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানের কাজের সঙ্গে এআই যুক্ত করার সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের জন্যও বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। পোশাকশিল্পে অটোমেশনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে যন্ত্র পরিচালনা, উৎপাদনের মান যাচাই, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন পরিকল্পনার মতো কাজে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। এ জন্য শ্রমিকদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকার ও প্রশিক্ষণপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি যাঁরা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে চাকরি হারাবেন, তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশসহ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে আগামী এক দশকে প্রায় ১৫ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিপুলসংখ্যক তরুণকে কর্মবাজারে যুক্ত করার এই সময়ে এআইয়ের দ্রুত বিস্তার নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। একদিকে প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং নতুন ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে তরুণদের একটি অংশ কর্মবাজারে প্রবেশের সুযোগ হারাতে পারে।
এ অবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার ঠেকিয়ে রাখার পরিবর্তে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। তবে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ না থাকলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে না।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই সময়ে তাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ নয়; বরং শ্রমিকদের দক্ষ করে তোলা, বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি এবং কর্মবাজারে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা মহানগরীর বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দেবী দুর্গার প্রতিমা পাকা চিনিগুঁড়া ধানের শীষ দিয়ে সাজানো হয়েছে। দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলার জন্য ধানের সোনালি শীষের ব্যবহার প্রচলিত অলংকারের পরিবর্তে করা হয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে আসা শিল্পী নিমাই পাল এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরিতে এক মাসেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন। বাংলার কৃষি ও লোকজ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিমার এই সাজ তৈরি করা হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মন্দিরে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধানের শীষে সজ্জিত প্রতিমা ঘিরে একটি ভিন্নধর্মী আবহ তৈরি হয়েছে। চিনিগুঁড়া ধানের সোনালি শীষে দেবীর সাজে ফুটে উঠেছে স্বতন্ত্র নান্দনিকতা। প্রতিমার গড়ন ও শীষের বিন্যাসে শিল্পীর নিপুণতার ছাপ স্পষ্ট। প্রকৃতির উপাদানকে শিল্পের ভাষায় রূপ দেওয়ার এই প্রয়াসে প্রচলিত প্রতিমাসজ্জার বাইরে নতুন এক ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে।
তবে, এমন প্রতিমা তৈরি করা সহজ ছিল না। দেবীর সাজের উপযোগী চিনিগুঁড়া ধানের শীষ সংগ্রহ করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি শীষ যথাযথভাবে বসিয়ে দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হয়েছে ধৈর্য, দক্ষতা ও দীর্ঘ সময়ের। শিল্পীরা প্রতিমা তৈরির পুরো কাজ শেষ করতে এক মাসেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন।
মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ প্রশান্ত গাইন বলেন, "ধানের শীষ দিয়ে প্রতিমা সাজানোর কাজটি ছিল বেশ শ্রমসাধ্য। শীষ সংগ্রহ থেকে শুরু করে সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিমায় বসানো সব ক্ষেত্রেই বিশেষ যত্ন নিতে হয়েছে।"
[[
মন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জিত কুমার রায় বলেন, "প্রতিমা সাজানোর উপযোগী চিনিগুঁড়া ধানের শীষ সংগ্রহ করা বেশ কঠিন ছিল। নানা চেষ্টা করে সেগুলো জোগাড় করতে হয়েছে। এমনভাবে শীষ বসানো হয়েছে, যাতে দেবীর রূপের পাশাপাশি ধানের স্বাভাবিক সৌন্দর্যও ফুটে ওঠে।" বাগমারা তেঁতুলতলা মন্দির প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি তেঁতুলগাছকে ঘিরে পরিচিত। সেখানে গত ৫৫ বছর ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে।
নিরালার সাবেক পাইকারি কাঁচাবাজারের পাশের সফেদাতলা দিয়ে যেমন মন্দিরে যাওয়া যায়, তেমনি নিরালা আবাসিক এলাকার প্রধান সড়ক হয়ে পাঁচ নম্বর সড়কের পাশ দিয়েও প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই পূজার আয়োজনে এবার ধানের শীষে সাজানো প্রতিমা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মাঠের ফসলকে শিল্পের উপকরণ করে দেবীর রূপ ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে মন্দিরের আয়োজকরা প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। সোনালি ধানে সজ্জিত দুর্গাপ্রতিমা তাই শুধু উৎসবের ব্যতিক্রমী আকর্ষণ নয়, বাংলার কৃষিজীবন ও শেকড়ের প্রতি ভালোবাসারও এক নান্দনিক প্রকাশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ