১০:৪১ এম
রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সরকার ‘রুট রেশনালাইজেশন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে, প্রশ্ন উঠেছে, আগের মতো এবারও কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ব্যর্থ হবে কি না। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নিয়ম না মানলে পরিবহন কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করে উদ্যোগ শুরু করলে আবারও ব্যর্থতার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধে বাস রুট রেশনালাইজেশনের নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজধানীতে বাস চলাচলের জন্য অনুমোদিত মোট ৪১৮টি রুট রয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ৯৮টি। কাগজে-কলমে ১২০টি কোম্পানির বাস চলার কথা থাকলেও বাস্তবে চলছে ৬৬টি কোম্পানির বাস। সরকার এসব বাসকে ৩২টি রুটে ভাগ করে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ব্যবস্থায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এবারের উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল শুরু করার জন্য অন্তত চারবার উদ্যোগ নেয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবহন মালিকদের অনীহা ও বিরোধিতা, রাজনৈতিক প্রভাব, চাঁদাবাজি, নির্ধারিত রুট না মেনে বাস চলাচল, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং বাসের সংকট আগের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ। তবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) দাবি করছে, এবার উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আরও পড়ুন: মজলুম থেকে জালিম হলে আবার গণমাধ্যমের কাছে বলবেনÑ বাঁচান: মাসুদ
ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম বলেন, “এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর যে প্রবণতা রয়েছে, তা চলতে পারে। তবে আমরা যে নির্দিষ্ট এলাকাগুলো নিয়ে কাজ করব, সেখানে এসব অনিয়ম চলবে না।”
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম জানান, “যারা এই নির্দেশনা মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করব।”
তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করে উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করলে আবারও ব্যর্থতার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম সামছুল হক বলেন, “সমস্যা থাকবেই। এসব সমস্যা দেখভালের জন্য মাঠপর্যায়ে সরাসরি লোকবল থাকতে হবে। পরিকল্পনায় ঘাটতি থাকলে আগের মতোই উদ্যোগটির পুনরাবৃত্তি ঘটবে।”
প্রথম ধাপে প্রাথমিক পর্যায়ে রোববার (১ নভেম্বর) মহানগরীর ছয়টি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রুটগুলো হলো- গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে সায়েন্সল্যাব, ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে চট্টগ্রাম রোডের কাঁচপুর ব্রিজ, ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং টঙ্গী থেকে আব্দুল্লাহপুর।
আরও পড়ুন: জামায়াতের কৃতজ্ঞতা: খুলনা বিভাগে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ
রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশন নতুন করে আশার সঞ্চার করলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় আগের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার অভাব ও মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতি রেখে বৈঠকনির্ভর সমাধান খুঁজতে গিয়ে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। এবার এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক ব্যবস্থার আওতায় এনে সরকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন