ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড পুনরায় বন্ধ, কারণ কারিগরি সমস্যা


চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড পুনরায় বন্ধ, কারণ কারিগরি সমস্যা

চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) পুনরায় বন্ধ হয়ে গেছে, প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর চালু হওয়ার মাত্র দুদিন পর। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কারিগরি সমস্যার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরী এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "কারিগরি সমস্যার কারণে ভোর চারটার দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। আগামী রবিবার অথবা সোমবারের দিকে কারখানাটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।"

গত মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে সিইউএফএলে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছিল। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর কারখানাটি উৎপাদনে ফিরে আসে। প্রথমে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয় এবং পরে ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হয়।

আরও পড়ুন: ঢাকার ধামরাইয়ে আজ সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যারা

তবে উৎপাদন শুরুর ৪৬ ঘণ্টার মধ্যে আবারও কারিগরি সমস্যার কারণে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়।সিইউএফএল সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৪ মার্চ গ্যাস-সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ২৫ আগস্ট কারখানাটিতে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতির কারণে তাৎক্ষণিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।

প্রস্তুতি শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু উৎপাদন শুরুর পর কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষ তখন জানিয়েছিল, সেগুলো সমাধান করে উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হবে। কিন্তু এর মধ্যেই নতুন করে কারিগরি সমস্যায় উৎপাদন আবার বন্ধ হয়ে গেল।

 

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে কারখানাটির যন্ত্রপাতির ওপর এর প্রভাব পড়ে। ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরও উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগে।

আরও পড়ুন: বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুর বিরুদ্ধে মামলা, মব আতঙ্কে বাড়িছাড়া মা-মেয়ে

সিইউএফএলে দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ টন। গ্যাস-সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে প্রথমবার দুই শিশুর চিকিৎসায় দাতার হৃদপিণ্ডের ব্যবহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে প্রথমবার দুই শিশুর চিকিৎসায় দাতার হৃদপিণ্ডের ব্যবহার

সৌদি আরবের কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার-এর চিকিৎসকরা একজন দাতার হৃৎপিণ্ড ব্যবহার করে দুই শিশুর চিকিৎসা সম্পন্ন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে প্রথমবারের মতো ‘ডমিনো’ পদ্ধতি নামে পরিচিত ধারাবাহিক হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন কৌশলের মাধ্যমে এমন একটি জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের সময়, ১২ বছর বয়সী এক শিশু, যে শেষ পর্যায়ের হৃদ্‌যন্ত্রের রোগে ভুগছিল, তার দেহে একজন দাতার হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়। একই সময়ে, ওই শিশুর পুরনো হৃৎপিণ্ড অপসারণের পর সেটি থেকে সুস্থ পালমোনারি ভালভ ও রুট সংগ্রহ করে ৯ বছর বয়সী আরেক শিশুর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম শিশুটি প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় হাসপাতালে ভর্তি ছিল এবং এই সময় তাকে হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রমে সহায়তাকারী ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল। যদিও তার পুরো হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল, পালমোনারি ভালভ ও রুট সুস্থ ছিল এবং অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত ছিল।

অন্যদিকে, ৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় শিশুটি গুরুতর অ্যাওর্টিক ভালভ স্টেনোসিস ও ভালভের অকার্যকারিতায় ভুগছিল। তার চিকিৎসায় ‘রস পদ্ধতি’ ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে শিশুটির ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাওর্টিক ভালভের জায়গায় তার নিজের সুস্থ পালমোনারি ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর, প্রথম শিশুর হৃৎপিণ্ড থেকে সংগ্রহ করা পালমোনারি ভালভ ও রুট ব্যবহার করে দ্বিতীয় শিশুর পালমোনারি ভালভের স্থানটি পুনর্গঠন করা হয়।

হাসপাতাল জানিয়েছে, এই পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপন করা ভালভ জীবন্ত টিস্যু হওয়ায় এটি শিশুর শরীরের সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ভালভ প্রতিস্থাপনের জন্য আবার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন কমতে পারে। কৃত্রিম ভালভের ক্ষেত্রে এমন সুবিধা নেই, কারণ শিশুর শরীরের বৃদ্ধির সঙ্গে কৃত্রিম ভালভ নিজে থেকে বড় হয় না।

হার্ট সেন্টার অব এক্সিলেন্সের নির্বাহী পরিচালক ড. হানি আল-সারাজানি বলেন, "শিশুদের আংশিক হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের এটি অত্যন্ত বিরল একটি পদ্ধতি।" হাসপাতালের বিশেষ দক্ষতার কারণে, হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন এবং জটিল জন্মগত হৃদ্‌রোগের অস্ত্রোপচারে তারা বিশ্বের অল্প কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রের মতো এই জটিল পদ্ধতি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।

হাসপাতালের মতে, অস্ত্রোপচারটি সফল করতে একই সময়ে দুটি জটিল সার্জারির মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। এতে পারফিউশন, নার্সিং, অঙ্গ প্রতিস্থাপন সমন্বয়, টিস্যু মূল্যায়ন ও প্রস্তুতির মতো বিভিন্ন বিভাগের পাশাপাশি হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন, শিশুদের কার্ডিয়াক সার্জারি, কার্ডিওলজি, হার্ট ফেইলিওর, কার্ডিয়াক ইমেজিং, অ্যানেস্থেশিয়া ও ক্রিটিক্যাল কেয়ারের বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। হাসপাতালটি জানিয়েছে, এই সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি শিশুদের জটিল হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুইজারল্যান্ডে ছোট বিমান বিধ্বস্ত, আরোহীদের কেউ বেঁচে নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


সুইজারল্যান্ডে ছোট বিমান বিধ্বস্ত, আরোহীদের কেউ বেঁচে নেই

সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনের উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা তিনজনই নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সুইসইনফোর বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য প্রকাশ করে।

ভ্যালাইস আঞ্চলিক পুলিশের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে টিকিনো অঞ্চলের লুগানো শহর থেকে উড্ডয়ন করা ‘সিরাস এসআর২২টি’ মডেলের একক-ইঞ্জিনবিশিষ্ট বিমানটি লয়কারবাড পৌরসভার কাছে একটি পাহাড়ের ঢালে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয়। এই ঘটনায় বিমানে থাকা তিনজনের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান, কিন্তু বিমানের ভেতরে থাকা তিনজনকেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন ব্রিটিশ নাগরিক বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে তিনটি হেলিকপ্টার ও দুজন উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞসহ জরুরি সেবাদানকারী দল উপস্থিত হয়। এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুষ্টিয়ায় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল ২ কৃষকের, আহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


কুষ্টিয়ায় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল ২ কৃষকের, আহত ৩

কুষ্টিয়ায় বজ্রাঘাতে দুই কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন এবং তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে মাঠে কাজ করার সময় জেলার সদর ও দৌলতপুর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের দহকোলা ও দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির মধ্যে আকস্মিক বজ্রপাতে দহকোলা কারিগরপাড়া ও জোতপাড়ার তিনজন তড়িতাহত হন। তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. রওশন আলী (৫০) মারা যান।

এ ঘটনায় একই গ্রামের মৃত হারেজ আলীর ছেলে সমেজ আলী ও জোতপাড়ার মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আরোজ আলী (৫৫) বজ্রপাতে আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. আকুল উদ্দিন এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম তুহিন দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রঙিন পোস্টারে ষাটের দশক বদলে দেওয়া পিটার ম্যাক্স মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


রঙিন পোস্টারে ষাটের দশক বদলে দেওয়া পিটার ম্যাক্স মারা গেছেন

রঙিন ও সাইকেডেলিক শিল্পকর্মের মাধ্যমে ষাটের দশকের যুক্তরাষ্ট্রের হিপ্পি আন্দোলনের সাংস্কৃতিক আবহকে তুলে ধরার জন্য পরিচিত শিল্পী পিটার ম্যাক্স মারা গেছেন। দীর্ঘ অসুস্থতার পর সোমবার ম্যানহাটনের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু ঘটে। তাঁর বয়স ছিল ৮৮ বছর। বুধবার তাঁর পরিবারের মুখপাত্র মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পিটার ম্যাক্সের শিল্পকর্মে মহাকাশ, জ্যোতির্বিজ্ঞান, শান্তি ও প্রকৃতির নানা প্রতীক ফুটে উঠতো। উজ্জ্বল রং, মহাজাগতিক দৃশ্য, নক্ষত্রের বিস্ফোরণ, শান্তির প্রতীক, প্রজাপতি, মেঘ ও ফুলের নকশা ছিল তাঁর কাজের পরিচিত বৈশিষ্ট্য। ষাট ও সত্তরের দশকে তাঁর পোস্টার যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত অংশ হয়ে উঠেছিল।

 

পিটার ম্যাক্সের সংগীতজগতের অনেক তারকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল। দ্য বিটলস, জিমি হেনড্রিক্স ও মিক জ্যাগারের মতো তারকারা ছিলেন তাঁর শিল্পকর্মের বিষয় এবং তাঁদের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বও ছিল।

তাঁর শিল্পকর্ম শুধুমাত্র গ্যালারিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পিটার ম্যাক্স প্রায় ৭০ ধরনের পণ্যে নিজের শিল্প ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। তাঁর নকশা দেখা গেছে উড়োজাহাজ, ক্রুজ জাহাজ, বিছানার চাদর, চশমা, নারীদের সাঁতারের পোশাক, দাবার বোর্ডসহ নানা পণ্যে।

২০০৭ সালে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্স বলেছিলেন, "গ্যালারিতে কাজ প্রদর্শনের মাধ্যমে যে পরিমাণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব, বাণিজ্যিকভাবে তাঁর শিল্প ব্যবহারের ফলে তার চেয়ে অনেক বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছিলেন তিনি।"

বাণিজ্যিকভাবে শিল্পকর্ম ব্যবহারের কারণে তাঁকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল। তবে ম্যাক্সের বক্তব্য ছিল, "মানুষ যাতে তাঁর শিল্প কিনতে পারে এবং তা থেকে আনন্দ পায়, সেটিই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।" তাঁর মতে, শিল্পীর কাজ শুধু গ্যালারিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।

ষাটের দশকের পর কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও ১৯৮৭ সালে নিউইয়র্কে একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে আবারও আলোচনায় ফেরেন ম্যাক্স। পরে তাঁর কাজে আরো ইমপ্রেশনিস্টিক ধাঁচ দেখা যায়। সংগীত তারকা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি স্ট্যাচু অব লিবার্টিও তাঁর শিল্পকর্মের বিষয় হয়ে ওঠে।

তিনি বিভিন্ন বড় ক্রীড়া আয়োজনেরও শিল্পী ছিলেন। পাঁচটি সুপার বোল, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ, ২০০৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের শীতকালীন অলিম্পিক দল এবং ২০০০ সালের কেনটাকি ডার্বির জন্য অফিসিয়াল শিল্পী হিসেবে কাজ করেন।

এ ছাড়া কন্টিনেন্টাল এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৭৭, নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের একটি জাহাজ এবং ন্যাসকার তারকা ডেল আর্নহার্টের একটি রেস কারও তিনি রং ও নকশায় সাজিয়েছিলেন।

 

২০০০ সালে কেবল টেলিভিশনের শপিং নেটওয়ার্ক কিউভিসিতে গিয়ে নিজের পোস্টার বিক্রিও করেন তিনি। ২০০০-এর দশকে তাঁর নিউইয়র্কের স্টুডিওতে কর্মীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায় এবং বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি ডলারের বিক্রি হতো বলে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে।

পিটার ম্যাক্সের পুরো নাম ছিল পিটার ম্যাক্স ফিঙ্কেলস্টাইন। ১৯৩৭ সালের ১৯ অক্টোবর জার্মানির বার্লিনে জন্ম তাঁর। জীবনের শুরুর দিকে চীন ও ইসরায়েলে থাকার পর তাঁর পরিবার নিউইয়র্কে স্থায়ী হয়। আর্ট স্কুলে তিনি বাস্তবধর্মী চিত্রকলা পড়লেও পরবর্তী কাজগুলোতে সেই ধারার তেমন ছাপ দেখা যায়নি।

১৯৬০-এর দশকের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে তাঁর শিল্পের বড় ভূমিকা ছিল। ১৯৬৭ সালে ভিলেজ ভয়েস-এর এক সমালোচনায় তাঁর পোস্টারকে সময়, মহাকাশ ও বিবর্তন নিয়ে এক দূরদর্শী শিল্পীর কাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানও ম্যাক্সের ভক্ত ছিলেন। ম্যাক্স রিগ্যান প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরিতে স্ট্যাচু অব লিবার্টির একটি চিত্র উপহার দিয়েছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও একবার জানিয়েছিলেন, কলেজজীবনে তাঁর ডরমিটরির দেয়ালে ম্যাক্সের পোস্টার ছিল।

তবে তাঁর জীবন পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত ছিল না। ১৯৯৭ সালে নিজের শিল্পকর্ম বিক্রি থেকে ১১ লাখ ডলার আয় গোপনের অভিযোগে কর ফাঁকির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। তাঁকে দুই মাস হাফওয়ে হাউসে থাকতে এবং সমাজসেবামূলক কাজ করতে হয়। সেই কাজের অংশ হিসেবে শিশুদের শিল্প শেখাতেও তিনি সহযোগিতা করেন।

আরো পড়ুন

মিস ইউনিভার্সের মঞ্চ পেরিয়ে গুগলের চাকরিতে ফিরলেন উমাঙ্গা

২০১৯ সালে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, পিটার ম্যাক্সের মধ্যে আলঝেইমার রোগের উপসর্গ এবং অগ্রসর ডিমেনশিয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তখন প্রায় চার বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে ছবি আঁকছিলেন না।

মৃত্যুর সময় তিনি রেখে গেছেন মেয়ে লিব্রা ও ছেলে অ্যাডামকে। মেয়ের ভাষায়, "তাঁর বাবা শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, ছিলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু।" তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, অসাধারণ শিল্পকর্মের পাশাপাশি মানুষ পিটার ম্যাক্সের দয়া, কোমলতা এবং মানুষের জীবনে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষাকেও মনে রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%