১১:৩৩ পি.এম
গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় অধিক স্থিতিশীল ও উন্নত হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এখন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় অধিক স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা, মতামত প্রকাশ এবং বিতর্কে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তৈরি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। চলতি বছরের ৭ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত, তিন সদস্যের একটি ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল ঢাকায় বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এখন স্বাধীনভাবে সংগঠন পরিচালনা, প্রচার চালানো, সমাবেশ আয়োজন এবং সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে। যদিও দেশে কিছু রাজনৈতিক সহিংসতা বিদ্যমান, তা মূলত স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং আধিপত্য বিস্তারের কারণে ঘটে।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে ২ নিহত, আহত ১
প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের নির্বাচনের বিষয়ে বলা হয়েছে যে, এটি সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ হবে এবং আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম সহিংসতা থাকবে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনার কারণে দলটির বিরুদ্ধে ব্যাপক জনক্ষোভ বিদ্যমান। তবে দুর্নীতি, সহিংসতা বা দমনপীড়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত না থাকা তৃণমূল বা নিচু স্তরের আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নিজেদের এলাকায় বসবাস করতে পারছেন। কিন্তু প্রকাশ্যে দলের প্রতি সমর্থন জানালে তাদের সামাজিক বৈরিতা, হয়রানি বা সহিংসতার মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। কিছু সাবেক নেতাকর্মী অন্য দলে যোগ দিয়েছেন, এলাকা পরিবর্তন করেছেন অথবা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থান ও পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার অপরাধের জন্য অনেক আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মী ও সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এবং নিয়মিত আদালতে মামলা চলছে। কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা জামিনে মুক্তি পেলেও অনেকেই বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে আটক রয়েছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পুরনো মামলাগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
আরও পড়ুন: মামদানির ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারকে আটক করল ইসরাইল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন