০২:১৮ পি.এম
বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে’ বিলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ঘর থেকে ঘরে। পাঁচগুণেরও বেশি বিল এসেছে কারো কারো। দ্রুত এই বিষয়টির সমাধান দাবি জানানো হচ্ছে। রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি সংবাদের প্রকাশের তারিখ ২৮ জুন, ২০২৬, ১৩:৫৯।
গত মাসে গ্রাহক আলাউদ্দিনের বিদ্যুৎ বিল এসেছিল মাত্র ৬৭৭ টাকা, কিন্তু চলতি মাসে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩৭৭ টাকায়।
একইভাবে, বেলাল হোসেনের বিদ্যুৎ বিল ৩০০ টাকার স্থলে এ মাসে এসেছে এক হাজার ৭০০ টাকা।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
শুধু আলাউদ্দিন এবং বেলাল হোসেনরাই নয়, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার অধিকাংশ গ্রাহকের কাছে এমন ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল এসেছে। পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক এই বিল নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে তাদের মধ্যে।
আদনান শরীফ নামের এক বাসিন্দা জানান, গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল এক হাজার ৫০০ টাকা, কিন্তু এ মাসে সেখানে এসে তা সাত হাজার ১৯০ টাকায় পৌঁছেছে।
মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন গ্রাহকের জন্য পূর্বে বিল ছিল ৫০০ টাকা, বর্তমান মাসে এটাই এক হাজার ৫০০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। আওলাদ হোসেনের জন্য গত মাসে বিল ছিল ৪৫০ টাকা, কিন্তু এ মাসে এটি বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে।
গ্রাহকরা বলছেন, ‘ভূতুড়ে’ বিল নিয়ে গোটা উপজেলার গ্রাহকদের সঙ্গে বিদ্যুতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চলছে বাগবিতণ্ডা। বর্তমানে এ নিয়ে নেট দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: জামালপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত
কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, আন্দোলন করে সর্বত্র তাদের কাছে দ্বিগুণ-তিনগুণ এমনকি পাঁচগুণেরও বেশি বিল এসে হাজির হয়েছে এই মাসে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। গ্রাহকরা বিলের কপি ফেসবুকে প্রকাশ করছেন এবং তাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
তারা দাবি জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত ও সমাধানের প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, যেসব পরিবারে বিদ্যুৎ ব্যবহার একই রকম অব্যাহত রয়েছে, তাদেরও আগের মাসের তুলনায় অনেক বেশি বিল এসেছে।
আরও পড়ুন: কোনো পরাশক্তির কাছে মাথা নত করবেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: এমপি খোকন
কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানাতে গেলে যথাযথ সেবা না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমলনগরের বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডিতে এ নিয়ে অসংখ্য পোস্ট দেখা যাচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের মধ্যেও কিভাবে এত বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে।
কিছু গ্রাহক মিটার রিডিংয়ের অসংগতি এবং গড় বিল করার অভিযোগও তুলেছেন।
কমলনগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ উপজেলায় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের অধীনে প্রায় ৬১ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলে দুই থেকে তিনগুণ টাকা এসেছে ফলে গত তিন দিন ধরে চলছে প্রতিবাদ।
আরও পড়ুন: বরিশাল সদর উপজেলার কাউনিয়া থানার স্বনামধন্য ইনচার্জ সনজিত চন্দ্র নাথ সততার সহিত দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন আর কাজে কাউনিয়া থানার আশপাশের জনগণ খুব খুশি হয়েছে
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল সাধারণ মানুষের উপরে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। অনেকেই দ্রুত বিল সংশোধন ও সঠিক মিটার রিডিং অনুযায়ী নতুন বিল প্রস্তুতের দাবি জানাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে কমলনগর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিটার রিডিংয়ের ভুল অথবা সমন্বয়ের কারণে বিল বেশি আসতে পারে। অভিযোগ পেলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এ নিয়ে এত হৈচৈ করার কোনো মানে হয় না।‘ গ্রাহকদের বিলের সঙ্গে মিটার রিডিং মিলিয়ে দেখার পরামর্শ তিনি দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন