বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩০ পি.এম
চীনের একটি গবেষক দল পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন পরিচালনা করে নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছে। ড্রোনগুলো নির্ধারিত পথে চলাচল করে, যা মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সম্ভব হয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তারা গত ২৯ আগস্ট আয়োজিত প্রদর্শনীতে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এই রেকর্ডটি স্বীকৃতি দেন।
উইয়ন নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি ও জিয়ান তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের গবেষকরা ড্রোনগুলো তৈরি করেছেন। প্রদর্শনীতে পানিতে নামানোর পর প্রতিটি ড্রোনের অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেভিগেশন ও সমন্বয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর ১১৬টি ড্রোন একসঙ্গে পানির নিচে প্রায় ১ হাজার ৬৪০ ফুট পথ অতিক্রম করে। ড্রোনগুলোর চলাচল সমন্বয়ের জন্য রিয়েল-টাইম তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। যদি কোনো ইউনিট নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তবে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সেটিকে পুনরায় সঠিক রুটে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। ফলে পুরো দলটি একসঙ্গে ঝাঁকের মতো সমন্বিতভাবে চলাচল করতে সক্ষম হয়।
পানির নিচে যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালনা করা প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। বিশেষ করে সেখানে রেডিও সিগন্যাল স্থলভাগের মতো নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে না। এমন পরিস্থিতিতেও মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এতগুলো ড্রোনের সমন্বিত চলাচলকে গবেষকেরা স্বয়ংক্রিয় জলীয় প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। প্রকল্পে ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর মডেল টিএইচ-৬১৮। প্রতিটি ড্রোনের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চি। ওজন প্রায় ৫ কেজি। একবার চার্জে ড্রোনগুলো ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে এবং টানা আট ঘণ্টার বেশি কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা রয়েছে।
ড্রোনগুলোতে ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে পানির নিচে অবস্থান নির্ণয় ও আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য। পানির স্রোতসহ বিভিন্ন কারণে চলার পথে বিচ্যুতি তৈরি হলেও স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিস্থিতি অনুযায়ী গতিপথ সংশোধন করতে পারে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতে সমুদ্রতলের জরিপ, পানির নিচের অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো কাজে বাড়ানো সম্ভব। নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পানির নিচের সেন্সিং, অ্যাকোস্টিক যোগাযোগ ও ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মন্তব্য করেছেন যে, হুতিদের হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি আরব কোনো আপস করতে প্রস্তুত নয়। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বছরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের পক্ষে যুবরাজ এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ বিন সালমান ভাষণে বলেন, হুতিরা ‘বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছে’। তিনি জানান, সৌদি আরব দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। যুবরাজ বলেন, নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো হুমকি বা হামলার বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে সৌদি আরব দ্বিধা করবে না।
তিনি তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে আগস্টে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। যুবরাজ বলেন, ‘এই চুক্তি সৌদি নেতৃত্বের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরো শক্তিশালী করা, সংঘাত ও উত্তেজনার ক্ষতি থেকে অঞ্চলকে রক্ষা করা এবং নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যকে তুলে ধরে।’
এছাড়াও, তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস না করেই উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
লোহিত সাগর রক্ষায় সামুদ্রিক জোট
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের জাহাজে হামলার বিষয়েও আলোচনা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ তৈরির বিরোধিতা করেন।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলপথে সবার স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি বহুজাতিক প্রতিরক্ষামূলক সামুদ্রিক জোট গঠন করা হয়েছে।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে হুতিরা সৌদি আরবে হামলার সংখ্যা বাড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের তাইফ এবং লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর এলাকায় ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ইয়ানবুতে সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে পাকিস্তান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর ১০টির বেশি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় প্রতিদিনের খাবার অপচয়ের হিসাব রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপচয়ের পরিমাণ ভোক্তাদের সামনে তুলে ধরা, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার অর্ডারে উৎসাহিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে মাইজদীর নাইস গেস্ট হাউজ-২-এ খাদ্যক্ষয় ও অপচয়বিষয়ক আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক খানি বাংলাদেশ ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক প্রান যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার অর্ডার, বেশি রান্না এবং অবশিষ্ট খাবার সংরক্ষণ না করায় অপচয় বাড়ছে। কোনো কোনো হোটেলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি বা তারও বেশি খাবার নষ্ট হয়। অপচয় কমাতে ভোক্তা সচেতনতা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পরিমাণ অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে খাদ্য অপচয় রোধ সম্ভব নয়। শৈশব থেকেই খাবারের মূল্য ও অপচয় রোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, এনজিও বন্ধন'র ইডি আমিনুজ্জামান মিলন, প্রান'র কর্মসূচি সমন্বয় প্রধান উম্মে সালমা পপি, পপিপার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক- প্রান'র মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার নুরে আলম সিদ্দিকি রনি, প্রথম আলো নোয়াখালীর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহবুবুর রহমান, আরটিভি ও দৈনিক আগামীর সময়ের নোয়াখালী প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি।
সভা শেষে রেস্তোরাঁ প্রতিনিধিদের মধ্যে ‘ফুড ওয়েস্ট’ পোস্টার ও টেবিল স্ট্যান্ড বিতরণ করা হয়। এসবের মাধ্যমে প্রতিদিন ও মাসে কী পরিমাণ খাবার অপচয় হচ্ছে, তার হিসাব রাখা এবং ভোক্তাদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলায় মামা ওবায়দুর রহমানকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী এই ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসামিকে আদালতে হাজির করার পর রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি আদালতে বলেন, "মরিয়মকে কি আসলে আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, এ জন্য তদন্তের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ দরকার।"
অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে, গত বুধবার আসামি ওবায়দুরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) কাছে যান। এরপর তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগ পত্রটি জমা দেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি জাতীয় সংসদে উপস্থিত হন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ওইদিন মধ্যরাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া, মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও অভিযোগ ছিল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নও উঠেছে।
দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার পাশাপাশি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ