ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই সংঘাতের সমাধান হওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী


আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই সংঘাতের সমাধান হওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই যেকোনও সংঘাতের সমাধান হওয়া উচিত।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিশ্বের যে প্রান্তে যা ঘটুক, প্রতিটি রাষ্ট্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব কমবেশি পড়ে। মানবসৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে এবং মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তীব্র চাপ পড়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

তারেক রহমান বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।" বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, "আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব— এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।" বাংলাদেশ জাতিসংঘকে একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

জাতিসংঘের মঞ্চে স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার প্রসঙ্গও উঠে আসে তারেক রহমানের বক্তব্যে। তিনি বলেন, "স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।" আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ, তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায়, তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

বাংলাদেশ সরকারপ্রধান আরও বলেন, চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All” অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, ‘পিসবিল্ডিং কমিশন’-এর ভাইস-চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ ‘নারীর অগ্রযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এ বছর ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’র ৪০তম এবং ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা’র ২৫তম বার্ষিকী পালন করছে। অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশেই অভিবাসীগণ তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ— উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ সরকার। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আশা করে বাংলাদেশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘের মঞ্চে ফিলিস্তিনের প্রতি অবিচল সমর্থন জানালেন তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০১ এম


জাতিসংঘের মঞ্চে ফিলিস্তিনের প্রতি অবিচল সমর্থন জানালেন তারেক রহমান

জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিন ও এর জনগণের প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার কথা তুলে ধরে এই সমর্থন জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিশ্বের যে প্রান্তে যা কিছুই ঘটুক, প্রতিটি রাষ্ট্রেই কমবেশি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানবসৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের ফলে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে; তৈরি হচ্ছে মানবিক সংকট।

তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব— এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা। একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এরপরই স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ, তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায়, তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

বাংলাদেশ সরকারপ্রধান আরও বলেন, চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All” অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, ‘পিসবিল্ডিং কমিশন’-এর ভাইস-চেয়ার হিসেবে টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন এদেশের শান্তিরক্ষীরা।

তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ ‘নারীর অগ্রযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এ বছর ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’র ৪০তম এবং ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা’র ২৫তম বার্ষিকী পালন করছে। অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশেই অভিবাসীগণ তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ— উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ সরকার। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আশা করে বাংলাদেশ।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বমঞ্চেও তারেক রহমানের কণ্ঠে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৩ এম


বিশ্বমঞ্চেও তারেক রহমানের কণ্ঠে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’

জাতিসংঘে ভাষণ দিতে গিয়েও বিশ্ববাসীর সামনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ভিশন তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তিনি।

সেখানে দেশ পরিচালনায় নিজের এবং সরকারের ভিশন তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম-খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার রিকভারি, রস্টোরেশন, রিকনস্ট্রাকশন; অর্থাৎ ‘থ্রি আর’ কৌশল অনুসরণ করছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই কর্মযজ্ঞে নিজের উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে চলতি অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে নারীরা সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন। নারী শিক্ষা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিষয়টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের জন্য নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে সরকার। স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনা-বেতনে শিক্ষার সুযোগ অবারিত করা হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়; সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে। সেই লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যেই, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ই-হেলথ কার্ড এর মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে, সরকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’-কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করে। প্রতিটি সেক্টরে সহায়তার জন্য প্রবর্তন করা কার্ডগুলোকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করাও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেয়া ৩১ দফা কর্মসূচি সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’— এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির কমপক্ষে ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার আশা করে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শহর এবং গ্রামের মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে। একইসঙ্গে ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্পোর্টসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষার উপর জোর দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই গড়বে আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়ো-টেকনোলোজি এবং বিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি। প্রযুক্তি খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এর সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক। বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বকে সম্মান করে। একইসঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

সরকারপ্রধান বলেন, বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ এবং দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায়, সেজন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশ’-এর তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য সকল দেশের ক্ষেত্রে এই উত্তরণ প্রক্রিয়াটিকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক সহায়তা অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিটি দেশ একে অপরের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ মনে করে, বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সহায়তা ও সম্প্রসারণ, কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একে অপরের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারি।

তিনি বলেন, কোভিড মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তবে, কোভিড বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে, বিশ্ব সমাজকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই একের প্রতি অন্যের সহায়তা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা অপরিহার্য। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসা-সামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য হয়।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যে রাষ্ট্রে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সমান অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ— সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ করে চলছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা অংশীদারিত্ব উদ্ভাবন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।

তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে— সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এজন্যই আমরা বলি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ......সবার জন্য বাংলাদেশ’।

এরপর বিশ্ব মানবতার প্রতি পুনরায় বাংলাদেশের অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, স্বজনদের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১২ এম


রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, স্বজনদের অভিযোগ

বরিশাল নগরীর রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নাজিয়া রহমান মাইশা নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা। তাদের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দেওয়া যায়নি। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনদের অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা নথি, অপারেশন-সংক্রান্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নাজিয়া রহমান মাইশা বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রায় এক বছর পর প্রথম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য নাজিয়া রহমান মাইশাকে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ডা. তহুরার তত্ত্বাবধানে অপারেশন শুরু হওয়ার পর একপর্যায়ে জটিলতা দেখা দেয়।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, অপারেশনের সময় নাজিয়া রহমান মাইশার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে তার ‘হার্টবিট কমে গেছে’ বলে জানানো হয় এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরে স্বজনরা নাজিয়া রহমান মাইশাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাজিয়ার স্বজনদের অভিযোগ, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা যথাসময়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

স্বজনদের দাবি, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি হয়ে থাকলে তা নির্ধারণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে নাজিয়া রহমান মাইশার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও চিকিৎসা প্রযুক্তি ও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা এগিয়ে যাচ্ছে। জটিল রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ, জরুরি চিকিৎসা, রক্তের ব্যবস্থা এবং সংকটাপন্ন রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের সুযোগও রয়েছে। তাহলে একজন প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরিস্থিতি কেন এত দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে উঠল—এ প্রশ্নের পাশাপাশি এখন সামনে আসছে দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্নও।

অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার পর রক্তক্ষরণের কারণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক কী কী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন?

রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট টিমের পক্ষ থেকে কী কী জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল?

রোগীর হার্টবিট কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে তাকে স্থিতিশীল করার জন্য নির্ধারিত চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না?

রক্ত, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার বা কোন টিমের ছিল এবং সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না?

রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন, কোন চিকিৎসাগত বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রোগীর শারীরিক অবস্থা কী ছিল?

রোগীকে রেফার করার সিদ্ধান্ত যদি আগেই প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নিতে কোনো বিলম্ব হয়েছিল কি না—এ বিষয়টি কি নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা হবে?

রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর আগে তাকে স্থিতিশীল করার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং স্থানান্তরের সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার ছিল?

অপারেশন শুরু থেকে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও চিকিৎসা ব্যবস্থার লিখিত রেকর্ড রয়েছে কি না, থাকলে সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে কি না?

অপারেশনের সময় জটিলতা দেখা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্সিং টিম এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার প্রত্যেকের দায়িত্ব কী ছিল এবং সেই দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি হয়েছিল কি না—তা কি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন ?

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—যদি তদন্তে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা পাওয়া যায়, তাহলে সেই ঘাটতির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর অভিযোগ বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়; চিকিৎসা নথি, অপারেশন-সংক্রান্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নাজিয়া রহমান মাইশার মৃত্যুর প্রকৃত কারণের পাশাপাশি কোথায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং থাকলে কার দায়িত্বের কোন পর্যায়ে তা ঘটেছে—সেটিই এখন নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য প্রতিবেদনে তুলে ধরার জন্য সংবাদ প্রকাশের আগে তালাশ বিডির বরিশাল অফিসের পক্ষ থেকে ডা. তহুরার সঙ্গে ই-মেইল ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়।

তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, নাজিয়া রহমান মাইশার সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কী ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছিল, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে থাকলে তার কারণ কী ছিল এবং তা নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর কী কী জরুরি চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছিল, কখন ও কী কারণে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রেফারের আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল এবং স্থানান্তরের সময় কী ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয়েও তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।

একই সঙ্গে স্বজনদের পক্ষ থেকে ওঠা চিকিৎসায় গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যথাসময়ে নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগের বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য এবং নাজিয়া রহমান মাইশার মৃত্যুর বিষয়ে চিকিৎসাগত ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়।

তবে সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত ডা. তহুরার পক্ষ থেকে ই-মেইল, মেসেঞ্জার কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে যথাযথভাবে যুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে আসেনি। লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাজিয়া রহমান মাইশার মৃত্যুর ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন—সিজারিয়ান অপারেশনের সময় জটিলতা দেখা দেওয়ার পর কী কী চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কতটা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল, রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হয়েছিল কি না এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না।

এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণে অপারেশন নোট, রোগীর চিকিৎসা নথি, ব্যবহৃত ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার তথ্য, রেফারেল-সংক্রান্ত কাগজপত্র, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সিং টিমের বক্তব্য এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।

যদি তদন্তে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব কিংবা দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যর্থতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্ব নির্ধারণ এবং আইন অনুযায়ী জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যদি অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো পার্থক্য থাকে, সেটিও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

নাজিয়া রহমান মাইশার মৃত্যু তাই শুধু একটি পরিবারের শোকের ঘটনা নয়; এটি প্রসূতি নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং হাসপাতালের জবাবদিহি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমেই এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ভূমিকা এবং কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে তার দায়ের বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একাত্তর পেরিয়ে বাহাত্তরে, স্মৃতির আকাশে জ্বলছেন নাজমুল হক নজীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ এম


একাত্তর পেরিয়ে বাহাত্তরে, স্মৃতির আকাশে জ্বলছেন নাজমুল হক নজীর

কিছু নাম শুধু পরিচয় নয়, সময়েরও একেকটি স্বাক্ষর। কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের উচ্চারণ থেকে যায় মানুষের হৃদয়ে। কবি নাজমুল হক নজীর তেমনই এক নাম—যাঁর কলমে প্রতিবাদের আগুন যেমন জ্বলেছে, তেমনি ফুটে উঠেছে প্রেম, প্রকৃতি, স্বপ্ন আর মানুষের প্রতি গভীর মমতা। শরীরের মৃত্যু তাঁকে মানুষের চোখের আড়াল করেছে, কিন্তু কবিতার শব্দ তাঁকে এখনো স্মৃতির আকাশে দীপ্ত করে রেখেছে।

নাজমুল হক নজীর—নামটিকেও যেন কবির সৃষ্টিসত্তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়। ‘নাজম’ অর্থ নক্ষত্র, ‘হক’ অর্থ সত্য, ন্যায় ও অধিকার; আর ‘নজীর’ অর্থ দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ। নামের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে সত্য ও ন্যায়ের এক নক্ষত্রের প্রতীকী ব্যঞ্জনা—যিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে নিজেই হয়ে উঠেছিলেন এক দৃষ্টান্ত।

১৯৫৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার শিয়ালদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কবি নাজমুল হক নজীর। পিতা বজলার রহমান মোল্যা ও মাতা আছিরন নেছার ঘরে জন্ম নেওয়া এই কবি সত্তরের দশক থেকে বাংলা সাহিত্যে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আজ তাঁর জন্মদিন। জীবদ্দশায় ৭১ বছর পূর্ণ করে ৭২ বছরে পদার্পণের পথে ছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের নির্মম বাস্তবতায় সেই পথ অসমাপ্ত রেখেই চলে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবু কবির প্রকৃত বয়স কি ক্যালেন্ডারের পাতায় মাপা যায়? তাঁর বয়স ছড়িয়ে আছে কবিতার পঙক্তিতে, পাঠকের স্মৃতিতে, সময়ের বুকের ভাঁজে এবং মানুষের জন্য রেখে যাওয়া স্বপ্নে।

বাংলা সাহিত্যে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘স্লোগানের কবি’ হিসেবে। তবে এই একটি অভিধা দিয়ে তাঁর কবিসত্তাকে সম্পূর্ণ ধরা যায় না। তাঁর কবিতায় যেমন ছিল অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের উচ্চারণ, তেমনি ছিল ভালোবাসার কোমলতা। ছিল দেশপ্রেম, মানবিক মর্যাদা, মানুষের দুঃখ-বেদনা, প্রকৃতি, স্বপ্ন ও সমাজবাস্তবতার নানা রং। তাঁর কবিতায় মধ্যবিত্তের জীবন ও সমাজচিত্রও উঠে এসেছে স্বতন্ত্র শিল্পদৃষ্টিতে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁর জীবন ও সাহিত্যচেতনায় গভীর ছাপ ফেলেছিল। মুক্তিযুদ্ধ, দেশ, মানুষ ও সময়ের দায়বোধ তাঁর সৃষ্টির নানা জায়গায় প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে তাঁর কবিতা শুধু আবেগের প্রকাশ নয়; হয়ে উঠেছে একটি সময়ের দলিলও।

তাঁর কবিতার কিছু উচ্চারণ পাঠককে থমকে দেয়—
“আমি তো আমারেই চিনি না
আঁধারে রয়েছো তুমি…”
আবার মানুষের বিভক্ত ও অস্থির পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে

তাঁর উচ্চারণ—
“মানুষে মানুষে বড় কোলাহল
পৃথিবীটা রণ ভূমি।
এই শব্দগুলোতে শুধু কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি নেই; আছে সময়কে দেখার চোখ। আছে মানুষের ভেতরের অস্থিরতা, একাকিত্ব ও সংঘাতকে অনুভব করার ক্ষমতা।
‘স্বপ্ন পোড়ালে কখনো ছাঁই হয় না’—এই বিশ্বাসও যেন তাঁর কবিসত্তার গভীরে প্রোথিত ছিল। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন দেখা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সুন্দর সমাজের প্রত্যাশা তাঁর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে।

কবি ছিলেন সাংবাদিকও। সাংবাদিকতার চোখে তিনি দেখেছেন সমাজের বাস্তবতা; আর কবির হৃদয়ে সেই বাস্তবতা পেয়েছে শিল্পের ভাষা। তাই তাঁর লেখায় মানুষের জীবন, সময়ের পরিবর্তন, বঞ্চনা ও প্রতিবাদের সঙ্গে মিশে গেছে গভীর মানবিকতা।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘সাধনার ফসল’, ‘আবার স্লোগান’সহ বিভিন্ন গ্রন্থ রয়েছে। ছড়ার বইও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একাধিক সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিরন্তর লিখেছেন; এমনকি অসুস্থ অবস্থাতেও কবিতা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।

একজন কবির দ্বিতীয় জন্ম হয় তাঁর পাঠকের হৃদয়ে। কোনো তরুণ যখন তাঁর কবিতা পড়ে নিজের চারপাশের পৃথিবীকে নতুন করে দেখতে শেখে, কোনো মানুষ যখন তাঁর শব্দে নিজের অপ্রকাশিত অনুভূতির ভাষা খুঁজে পায়, কিংবা কোনো পাঠক যখন তাঁর প্রতিবাদী উচ্চারণে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করার সাহস পায়—সেখানেই কবির নতুন জন্ম।

নাজমুল হক নজীরের ক্ষেত্রেও সেই জন্ম বারবার ঘটছে। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর কবিতা আছে। তাঁর কণ্ঠ নেই, কিন্তু তাঁর উচ্চারণ আছে। তাঁর পথচলা থেমে গেছে, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন থেমে যায়নি।

শিয়ালদীর মাটিতে জন্ম নেওয়া সেই কবি আজ আমাদের মাঝে নেই। ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি নশ্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছেন অনন্তের পথে। কিন্তু মৃত্যু তাঁর শব্দকে মুছে দিতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে তাঁর কবিতার পাঠ বদলাতে পারে, পাঠকের প্রজন্ম বদলাতে পারে—কিন্তু মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মানবিক স্বপ্নের আবেদন থেকে যায়।

কবি চলে গেছেন—কবিতা রয়ে গেছে।
সময় চলে গেছে—রয়ে গেছে তাঁর উচ্চারণ।
জীবন থেমে গেছে—থেমে যায়নি তাঁর স্বপ্ন।
আর একজন সত্যিকারের কবি তাঁর সৃষ্টির ভেতর দিয়েই বারবার ফিরে আসেন মানুষের কাছে।

একাত্তর পেরিয়ে বাহাত্তরে পদার্পণের এই স্মরণক্ষণে তাই ‘স্লোগানের কবি’ নাজমুল হক নজীরকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। তিনি শুধু আলফাডাঙ্গার শিয়ালদীর সন্তান নন; তাঁর কবিতার আলো ছড়িয়ে আছে বাংলা সাহিত্যের পাঠকসমাজে। সৃষ্টিকর্তা যেন প্রয়াত কবির আত্মাকে শান্তি দান করেন এবং তাঁর সাহিত্যকর্মকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখেন—এই প্রার্থনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%