১১:৩৭ পি.এম
খুলনার কয়রা উপজেলার ৪ নম্বর কয়রা ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার কারণে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। মরিচা ধরা রডসহ ছাদের পলেস্তারা যে কোনো সময় মেঝেতে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঝুঁকির মধ্যেই ডাক বিভাগের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শুধু ভবনটি নয়, অফিসের আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন উপকরণও দীর্ঘদিনের ব্যবহারে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকগুলো ভেঙে যাওয়ায় সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপজেলা পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলায় মোট ১৭টি ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিস রয়েছে। এর মধ্যে ৪ নম্বর কয়রা ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসটি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন নিজস্ব ভবন না থাকায় পাশের একটি মাদ্রাসার কক্ষে ডাকঘরের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। পরে ২০১১ সালের দিকে নিজস্ব জায়গায় নির্মাণ করা হয় বর্তমান ভবনটি। নির্মাণের কয়েক বছর পর ২০১৭ সালের দিকে ভবনটি একবার সংস্কার করা হলেও বর্তমানে সেটিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির এমন বেহাল অবস্থা চললেও সংস্কারের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে ডাকঘরের কর্মীদের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। ৪ নম্বর কয়রা ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের ডাক পিয়ন মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “জরাজীর্ণ এই ভবনে বসে কাজ করার মতো পরিবেশ নেই। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ২০১১ সালের দিকে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের দিকে একবার নামমাত্র সংস্কার করা হলেও তা মানসম্মত হয়নি। বর্তমানে ভবনটি পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পোস্ট মাস্টার মোঃ. মহিববুল্লাহ বলেন, “অফিসের অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে পাশের মাদ্রাসার একটি কক্ষে বসে অফিসের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। চাকরির স্বার্থে অনেক কষ্ট করে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। পোস্ট অফিসের উদ্যোক্তা সালাহউদ্দীন (মুকুল) বলেন, অফিসের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো দিয়ে এখন ঠিকমতো কাজ করা যায় না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানানো হলেও এখনো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক জব্দ
কয়রা উপজেলা পোস্ট মাস্টার সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এসে বিভিন্ন ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমরা জরাজীর্ণ ভবনগুলোর তালিকা করে পাঠিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে সংস্কারের কাজ শুরু হবে। খুলনা বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মোঃ মিরাজুল হক বলেন, ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের ভবনগুলো প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়। এর আগে ‘গ্রামীণ ডাকঘর নির্মাণ’ নামে একটি প্রকল্প ছিল। বর্তমানে নতুন কোনো প্রকল্প নেই। নতুন প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস হলে পর্যায়ক্রমে ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসগুলোর সংস্কারের কাজ শুরু হবে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ৪ নম্বর কয়রা ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক। একই সঙ্গে নষ্ট আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে ডাকসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন