ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলকের দাবি ভুয়া


ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলকের দাবি ভুয়া

ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণভাবে ভুয়া বলে জানা গেছে।

অনলাইন ডেস্কের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময়ের মধ্যে ‘চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি সনদের মূল কপি ছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে’—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাতে প্রচারিত এই দাবিটি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সাথে ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ’—শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকের পেপার কাটিংও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই জাতীয় উপাত্তগুলি দাবিটিকে আরো বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে

এ প্রসঙ্গে, ‘Md Mohiuddin’ নামে একটি ফেসবুক পেজে গত ২৮ জুলাই একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। শেয়ার করা পোস্টটিতে ৩১ জুলাই বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার রিয়েকশন, ৩৪৭ টি কমেন্ট এবং ৩৩৮টি শেয়ার রয়েছে। আলোচিত দাবিতে শেয়ার করা এসব পোস্ট, ফটোকার্ড এবং পেপার কাটিংয়ের কমেন্টগুলো পর্যালোচনা করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

অধিকাংশ ব্যবহারকারী এই দাবিকে সাধুবাদ জানালেও অনেকেই এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রচারিত পোস্ট এবং ফটোকার্ডের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে এমন কোনো প্রতিবেদন কিংবা তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও চেয়ারম্যান বা মেম্বার পদে প্রার্থিতার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের তথ্য বা প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন পর্যালোচনায়ও আলোচিত দাবির কোনো ভিত্তি মেলেনি।

আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন

আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। অর্থাৎ, শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও আইনগতভাবে একজন ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে পারেন।

জানা যায়, ২২ জুলাই ‘ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিতে নির্দেশ কেন নয়’—শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (অন্তত স্নাতক) নির্ধারণের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই রুল জারি করেন এবং স্থানীয় সরকারের সচিব, আইনসচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।

রিটকারীদের দাবি হচ্ছে, ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-এর ২৬ ধারায় ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। কিন্তু গ্রাম আদালত আইন অনুসারে একজন ইউপি চেয়ারম্যান বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন এবং জরিমানা আরোপসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। তাই, তাদের মতে, এই ধরনের দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। এই কারণে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাকে সংবিধান ও গ্রাম আদালত আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ দাবি করে সংশোধনের নির্দেশনার আবেদনের জোরালো দাবি করেছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি বলেন, হাইকোর্টের রুলটি পর্যালোচনা করার পর বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আইন এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতের আগের রায় বা নির্দেশনা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের দাবি, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলায় জড়িত মাদক কারবারিরা

বর্তমানে কার্যকর আইনে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য এইচএসসি কিংবা স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে, এমন কোনো বিধানও নেই। এই কারণে নির্বাচন কমিশনের সচিবের বরাতে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব: অ্যাটর্নি জেনারেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ পি.এম


নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, মামলায় রাষ্ট্র হেরে গেলেও যদি একজন সাধারণ নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়, সেটিই একজন অ্যাটর্নি জেনারেলের সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।

এটি তিনি শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্তব্য করেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফাইমা নাসরিনের কোটচাঁদপুর আগমন উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, সমাজ ও বিচারব্যবস্থায় যখন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন রাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেও আমি আনন্দিত হই। রাষ্ট্র কোনো মামলায় হেরে গেলেও যদি একজন নাগরিক ন্যায়বিচার পান, সেটিই একজন অ্যাটর্নি জেনারেল-এর জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা।

তিনি আরও বলেন, আইনগত শাসনের মৌলিক উদ্দেশ্য হলো মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্র বা ব্যক্তি—কে জয়ী হলো, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হলো রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, বিচারব্যবস্থা যখন একজন নাগরিককে তার প্রাপ্য ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়, তখন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরও অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনও কারণ থাকে না। বরং এমন বিচার মানুষের মধ্যে আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী করে।

সভাটি কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফাইমা নাসরিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। তাছাড়া এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা উত্থানের পর বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৭ পি.এম


টানা উত্থানের পর বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন

মার্কিন ডলারের শক্তি বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্পট গোল্ডের দাম বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে এসেছে।

এছাড়া, একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সরবরাহের (গোল্ড ফিউচারস) সোনার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩ দশমিক ৬০ ডলারে কেনাবেচা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) বৈঠকের পর ডলার সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ফলে সোনার দামে এই পতন ঘটেছে। শক্তিশালী ডলার অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা আগের তুলনায় ব্যয়সাধ্য হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে ডলারের সূচক প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমার পর শুক্রবার তা আবার ০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এর ফলে সোনার বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা মনে করছেন আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে ৬৭ শতাংশ, যা সপ্তাহখানেক আগে ৮০ শতাংশের ওপরে ছিল।

সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও নিম্নমুখী। প্রতি আউন্সে রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৫৮ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩৮ দশমিক ৭৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৮৯ দশমিক ৭৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির বিরুদ্ধে অসত্য-বানোয়াট কথা বললে জনগণ মেনে নেবে না: জয়নুল আবদিন ফারুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ পি.এম


বিএনপির বিরুদ্ধে অসত্য-বানোয়াট কথা বললে জনগণ মেনে নেবে না: জয়নুল আবদিন ফারুক

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, "জুলাই-আগস্টকে পুঁজি করে যারা বিএনপির বিরুদ্ধে অসত্য-বানোয়াট কথা বলবেন জনগণ কখনো তা মেনে নেবে না।"

আজ শুক্রবার বিকেলে সেনবাগ উপজেলা অডিটোরিয়ামে বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এটি বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যে আয়োজিত।

জয়নুল আবদিন ফারুক আরও বলেন, "যারা বিএনপিকে জনগণের কাছে হেয় করার চেষ্টা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমাদের নেতা তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন- একাত্তর যেমন আমাদের মাথার মণি, তেমনি বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট আন্দোলন। আমরা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। জুলাই-আগস্টে যারা রক্ত দিয়েছে তাদের প্রতি আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম।"

অনুষ্ঠানে সেনবাগ পৌর বিএনপির আহবায়ক ফারুক বাবুলের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সহিদ উল্যাহর সঞ্চালনায় সেনবাগ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী, সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন বাহার বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রাণের কম্বল চুরির অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ পি.এম


ত্রাণের কম্বল চুরির অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে জব্দকৃত চোরাচালানের কম্বল সংখ্যা কম দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তিনি কম্বলগুলোর গুণগত মান গোপন করেছেন এবং আসামিদের সুবিধার্থে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিয়েছেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা শাস্তির মুখে পড়লেও ওসি মনির ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

একাধিক মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ, এসএমপি কমিশনারের চিঠি এবং সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, কম্বল আত্মসাতের ঘটনায় এসএমপি কমিশনার মোগলাবাজার থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেনকে কৈফিয়ত তলব (শোকজ) করে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠিতে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বক্তব্য, চুরির সময়ের ছবি এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর সত্যতা মিলেছে।

কমিশনারের চিঠি অনুযায়ী, মোগলাবাজার থানার একটি চোরাচালানবিরোধী অভিযানে (মামলা নং: জিআর-০৫/২৬) একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ৫৬০ পিস দ্বিস্তরবিশিষ্ট (ডাবল পার্ট) ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়। কিন্তু মোগলাবাজার থানার ওসি মনির হোসেনের নির্দেশে মামলার মূল এজাহারকারী এক উপপরিদর্শক (এসআই) প্রকৃত সংখ্যা ও গুণগত মান গোপন করেন। তিনি জব্দতালিকায় ৫৬০ পিসের বদলে এজাহারে মাত্র ৪৩০ পিস কম্বল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া কম্বলগুলো সিঙ্গেল পার্ট নাকি ডাবল পার্ট, তা জব্দতালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।

পরে দেখা যায়, সিলেট শাহপরান থানার অপর একটি মামলায় (জিআর-২৬৫/২৫) মো. কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তি আদালত থেকে নিলামে ৬৫৮ পিস এক স্তরবিশিষ্ট (সিঙ্গেল পার্ট) পাতলা কম্বল কিনেছেন। তারপর তার কাছ থেকে দুই ব্যবসায়ী আরমান হুদা ২২৮ পিস এবং মো. সেলিম আহমদ ৪৩০ পিস কম্বল কিনে নেন। এরপর আসামি ও চোরাকারবারিদের সুবিধা পাইয়ে দিতে মোগলাবাজার থানার পুলিশ কর্মকর্তারা নতুন নাটক সাজান। মো. সেলিম আহমদ আদালতে আবেদন করেন যে, মোগলাবাজার থানায় আটক ৪৩০ পিস কম্বল শাহপরান থানার মামলার কেনা নিলামের কম্বল। ওসি মনিরের পরিকল্পনা ছিল, আদালতের মাধ্যমে কম্বলগুলো সেলিম আহমদের জিম্মায় দিয়ে দামি ডাবল পার্টের কম্বলগুলো নামমাত্র মূল্যে বের করে নিয়ে যাওয়া এবং এজাহারে গোপন রাখা অতিরিক্ত ১৩০ পিস কম্বল নিজেদের কাছে রেখে দেওয়া।

এই মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেন। আদালত আলামতের প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের নির্দেশ দিলে কাজী তোবারক হোসেন সরেজমিনে থানায় রক্ষিত কাভার্ড ভ্যানের কম্বল গণনা বা পরীক্ষা না করেই চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার প্রতিবেদনে বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়ায় আদালত নতুন করে কম্বল গণনা ও গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটি মোগলাবাজার থানার কম্পাউন্ডে তল্লাশি চালিয়ে ৫৬০ পিস দামি দ্বিস্তরবিশিষ্ট কম্বল পায়। পরে কমিটি আদালতকে অবহিত করে।

গত ৯ মার্চ আদালত তোবারক হোসেনকে সশরীরে হাজির হতে বলা হয় এবং কৈফিয়ত দিতে বলেন। শুনানি চলাকালীন তিনি জনৈক ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন বলে জানান এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু আদালত তার অপেশাদার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়ে এসএমপি কমিশনার বরাবর চিঠি পাঠান। এসএমপি পরে তাকে কৈফিয়ত তলবনামা পাঠায় এবং তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থি, অপেশাদারিত্ব, অদক্ষতা, নৈতিক স্খলন, গাফিলতি অভিযোগ তুলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়।

কিন্তু এসব ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত নায়ক, ওসি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোগলাবাজার থানার ওসি মনির হোসেন বলেছেন, কোনো কম্বল চুরি হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা গণনায় ভুল করেছেন। সকল কম্বল থানার হেফাজতে ছিল এবং পরে তা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এসএমপি কমিশনারের একটি চিঠিতে বেশ কয়েকবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওসির মদদে ও নির্দেশে কম্বল চুরি হয়েছে। কমিশনার কেন এভাবে লিখেছেন, এমন প্রশ্নে ওসি মনির মন্তব্য করেন, কেউ কারো বিরুদ্ধে লিখলে তো আর কম লিখে না। ফলে তিনি এভাবে লিখেছেন।

এ ব্যাপারে এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. এনামুল হক বলেন, আমি ওসি মনিরের সঙ্গে আলোচনা করব। বিষয়টি খতিয়ে দেখব। পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে পুঙ্খানাপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে প্রমাণ পেলে প্রথমে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%