তরিকুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি
০৪:১৬ পি.এম
জুলাই বিপ্লবে আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগের কথা জাতি কখনো ভুলবে না বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর এমপি। একই সঙ্গে তিনি জুলাই বিপ্লবের মূল প্রেরণা ও মহানায়ক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, জুলাই আন্দোলনে মূল নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে। এখন আন্দোলনের সুফল দেখে অনেক গুপ্ত দল নানা মুখরোচক কথা বলছে।
বুধবার দুপুরে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা অডিটরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত 'জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের প্রতিটি স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া পরিবার এবং গুরুতর আহত যোদ্ধাদের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে রাজধানীর মিরপুরে ১৫টি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ শেষে এসব ভবনে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে।"
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি আরও বলেন, দেশের যেকোনো রাজনৈতিক সংকটে ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে পিরোজপুর ও ভাণ্ডারিয়ার মানুষের অবদান অপরিসীম। তিনি সরকারের নেওয়া উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ঘোষিত পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
বিদ্যুৎ সংকট ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি হবে। বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকার কোনো টেকসই কাজই করেনি, যার খেসারত আজ জনগণকে দিতে হচ্ছে।
পিরোজপুরের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে পিরোজপুর জেলাকে সারাদেশে দুর্নীতির শীর্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যারা এই অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে, এই দায় সম্পূর্ণ তাদের। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
এ সময় স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাণ্ডারিয়াসহ এই এলাকার সকল ক্ষতিগ্রস্ত ও ভাঙা রাস্তাঘাটের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করা হবে। একই সাথে এই অঞ্চলকে সম্পূর্ণ মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা আপামর জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাসিবুল হাসান এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জল হালদার এর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ওসি জগলুল হাসান, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি মোঃ জুয়েল মৃধা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. শামীম হাওলাদার, পৌর যুবদল যুগ্ম আহবায়ক রণি মোল্লা প্রমূখ।
অনুষ্ঠান শেষে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার জুলাই বিপ্লবে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধাদের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক চেক তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ এমদাদুল হকের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মন্ত্রী। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে তিনি মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি শহীদ এমদাদুল হকের কবরে ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
মোঃ তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন ও সন্তোষজনক বাজারদরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। উপজেলার নিলক্ষিয়া, মেরুরচর, বাট্টাজোড়, বগারচর ও ধানুয়াকামালপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এবার পাটের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ এবং কৃষকদের পরিচর্যায় এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ সংগ্রহের কাজ চলছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জ উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৭০ হেক্টর জমির পাট কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এখনও ৬০৫ হেক্টর জমির পাট কাটার কাজ বাকি রয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগের ধারণা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কৃষকরা পাট কাটছেন, কোথাও আঁটি বেঁধে খাল-বিল ও জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভালো ফলনের কারণে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি দেখা গেলেও বাজারদর নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, এ বছর পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাইও তেমন ছিল না। তবে সার, শ্রমিক ও অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বর্তমানে যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে, তাতে খরচ উঠে এলেও দাম আরও কিছুটা বাড়লে কৃষকরা বেশি লাভবান হতেন।
বগারচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, পাট চাষে পরিশ্রম অনেক বেশি। তারপরও ভালো ফলনের কারণে আমরা আশাবাদী। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম যদি আরও কিছুটা বৃদ্ধি পায়, তাহলে কৃষকরা ন্যায্য লাভ পাবেন এবং আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, বকশীগঞ্জে চলতি মৌসুমে পাটের চাষ ও ফলন দুটিই সন্তোষজনক। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ এলাকায় পাট কাটা ও আঁশ সংগ্রহের কাজ চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশিষ্ট জমির পাটও সফলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। বাজারে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী মৌসুমে পাটের চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।
বর্তমানে বকশীগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় দাম আরও কিছুটা বাড়লে তারা অধিক লাভবান হবেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল এবং পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকলে বকশীগঞ্জে পাট চাষের পরিধি আরও বাড়বে। এতে কৃষকের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে সোনালি আঁশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে নিয়েছেন যানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে এবং ভবিষ্যতে একাধিক পেশায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, সে লক্ষ্যেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এবং পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিড-ডে মিল একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন প্রাথমিক স্তর থেকেই শুরু করতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা পরে ডিগ্রি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের সরকার বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি কার্যক্রমও চালু করেছে। কাজেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক ধাপ থেকে শুরু করতে হবে। ধীরে ধীরে সব পর্যায়েই হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিদ্যালয়গুলোতে কীভাবে শিক্ষার্থীদের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কোনোভাবেই টাঙ্গাইলে মাদক চলতে দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেব। যে মাদক যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজকে ধ্বংস করে, তার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সন্তানের লেখাপড়ার জন্য বাবা-মা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। অনেক পরিবার ধান, জমি কিংবা গবাদিপশু বিক্রি করেও সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বহন করে। সেই সন্তান যদি মাদকে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিবারের সব ত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যায়। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্ঘটনা দুর্যোগ,সবার পাশে,সবার আগে" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসক, টাঙ্গাইল এর তত্ত্বাবধানে ধনবাড়ী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণের উপস্থিতিতে অগ্নিনির্বাপন ও ভূমিকম্প বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ০৩ আগষ্ট সোমবার ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে । উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহমুদা খাতুন এর সঞ্চালনায় কর্মশালার উদ্বোধন করেন ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরজাহান আক্তার সাথী । এসময় ধনবাড়ী উপজেলা মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান সোহান সহ অনান্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন । ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এর আয়োজনে এবং ধনবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর বাস্তবায়নে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হত্যাকাণ্ডের বিচার, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতার মধ্যে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ দাবি তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে জানান।
আজ (বুধবার) জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বিএফইউজে ও ডিইউজের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে একটি বিজয় র্যালি বের হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র্যালি ও সমাবেশে সাংবাদিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম।
র্যালি ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, বিএফইউজের সহ-সভাপতি খাইরুল বাশার, প্রচার সম্পাদক সাজান সাজু, দপ্তর সম্পাদক আবু বকর, ডিইউজের নির্বাহী সদস্য তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, রাজু আহমেদ ও এইচ এম আলামিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য শাহনাজ বেগম পলি এবং সাংবাদিক নেত্রী মাসুদা আক্তার।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির এই বিজয় র্যালিতে শহীদ, আহত এবং জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে সাংবাদিকদের স্লোগানে পুরো রাজপথ মুখর হয়ে ওঠে।
ডিইউজের সাংবাদিক নেতা দিদারুল আলম দিদারের স্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়ে সাংবাদিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনতাও আওয়াজ তোলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা আমাদের প্রেরণা, জুলাইয়ের রক্ত আমাদের শক্তি’; ‘জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’; ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি চাই, দিতে হবে’ এবং ‘আবু সাঈদ, মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’।
সমাবেশে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য ছাত্র, শিশু ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। ওই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা আবশ্যক।
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানাতে হলে প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে। দেশে অবস্থানকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে অবস্থানকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি যোগ করেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার বা জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর সাহস পাবে না।
সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকতে হবে।
ডিইউজের সভাপতি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতা ও সাংবাদিকদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তার আগে আন্দোলন চলাকালে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, নিহতদের মধ্যে ছয়জন সাংবাদিক ছিলেন এবং আন্দোলনের সময় সারাদেশে প্রায় দেড় হাজার সাংবাদিক আহত হন।
শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা, কোনো ধরনের আপস বা শৈথিল্য নয়, বরং হত্যাকাণ্ড ও রাষ্ট্রীয় অর্থ পাচারের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের।
ডিইউজের সভাপতি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি। অসমাপ্ত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজ গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ