মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
১২:০৯ এম
নৈতিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টায় কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া টেনুরাম-ক্ষেত্রনাথ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. মোহর আলী, সাবেক চেয়ারম্যান, ৪ নম্বর নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কালিহাতী উপজেলা বিএনপি।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার। প্রধান আলোচক ছিলেন কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইয়ুম খান সিদ্দিকী। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ. কে. এম. আমির হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লুৎফর রহমান মতিন ডিগ্রি কলেজের সভাপতি জাহিদুর রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিনের ছেলে তৌহিদুর রহমান, কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ মোল্লা,নারান্দিয়া টেনুরাম-ক্ষেত্রনাথ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল অ্যান্ড কলেজ)-এর সভাপতি মো. লুৎফর রহমান চৌধুরী, অধ্যক্ষ মো. গোলাম মোস্তফা এবং ৪ নম্বর নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী প্রামাণিক,নারান্দিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বাতেন।
সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদকাসক্তি তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রশাসন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার বলেন, “নৈতিকতা, মানবিকতা ও ভালোবাসা দিয়ে একটি সুন্দর দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। মাদককে না বলতে হবে এবং প্রত্যেক অভিভাবককে তার সন্তানকে সুন্দর জীবন দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। যারা মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদের উদ্দেশে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “হয় কালিহাতী ছাড়ুন, তা না হলে মাদক ছাড়ুন।”
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতেও কাজ করছে। সমাজের কোথাও মাদক বিক্রি বা বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানোর জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। অল্প বয়সে বিয়ে হলে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তার স্বাভাবিক বিকাশও ব্যাহত হয়। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং কোনোভাবেই শিশু-কিশোরদের বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
সভায় শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু মানবিক সংকট হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত ও রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে নতুনভাবে চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক সামি হামদি।
তিনি বলেছেন, শুধু কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। এর জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো প্রয়োজন।
রবিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে আয়োজিত ‘মুভ টাউন হল: বিয়ন্ড দ্য ক্যাম্পস-বাংলাদেশ অ্যাজ দ্য আর্কিটেক্ট অব রোহিঙ্গা রিটার্ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সামি হামদি। অনুষ্ঠানটি হিউম্যান কনসার্ন ইউএসএর অংশীদারত্বে আয়োজিত হয়।
সামি হামদি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশ বর্তমানে মূলত মানবিক সংকট হিসেবে মোকাবিলা করছে। কিন্তু এটি বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তাই এখন থেকেই বাংলাদেশকে নিজস্ব রাজনৈতিক রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘কূটনীতি একা যথেষ্ট নয়। কূটনীতি যথেষ্ট হলে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করত না।’
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো আলোচনা হলে সেখানে বাংলাদেশের ভূমিকা কতটা থাকবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বাংলাদেশ এখন থেকেই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে কৌশলগতভাবে কাজ না করলে ভবিষ্যতের আলোচনায় নিজেদের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়াসহ মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার পরামর্শ তিনি দেন। এমনকি উত্তর রাখাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আঞ্চলিক শান্তিরক্ষী বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাবনাও তুলে ধরেন তিনি।
সামি হামদি বলেন, ‘বাংলাদেশ শুধু এমন একটি দেশ নয়, যে একটি সমস্যার বোঝা বহন করছে। রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো নতুন করে চিন্তা করার সক্ষমতা। আমরা আবার স্বপ্ন দেখতে পারি কি না, সেটিই প্রশ্ন।’
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক ধারণার সমালোচনা করে হামদি বলেন, রোহিঙ্গাদের শুধু ‘বোঝা’ হিসেবে দেখলে সংকটের প্রকৃত কারণ আড়ালে থেকে যায়। তাঁদের শিক্ষা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং নিজেদের কণ্ঠ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুসলিম এইডের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক এবং ইসলামিক রিলিফ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাদলুল্লাহ উইলমট। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থ ও সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে শরণার্থী শিবিরগুলোতে শিক্ষা, খাদ্য, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক প্রয়োজন পূরণেও ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকটের ভার বহনের বিষয়টি তুলে ধরে উইলমট বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই চূড়ান্ত সমাধান হতে পারে, তবে তাঁদের এমন পরিস্থিতিতে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে আবারও নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি-নাগরিকত্ব, ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত অধিকার।
জমি ও সম্পত্তি হারানোর ক্ষতিপূরণ এবং চলাচল, শিক্ষা ও কাজের অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত না হলে প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে উইলমট বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অপেক্ষাকৃত দরিদ্র অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীও বিভিন্নভাবে চাপের মুখে পড়ছে। তাই মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে শরণার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট মাহমুদ হাসান রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা শুধু একটি ‘সংকট’ নয়, তাঁরা মানুষ। তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাহমুদ হাসান বলেন, তিনি ২০১৬ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন। পরের বছর তাঁর মা বাংলাদেশে আসেন। মিয়ানমারে শিক্ষার্থী, নেতা, বুদ্ধিজীবী ও নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলা ব্যক্তিদের ওপর দমন-পীড়নের কারণে তাঁদের মতো অনেক পরিবারকে দেশ ছাড়তে হয়েছে বলে তিনি জানান।
মাহমুদ হাসান বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভুল ইতিহাস ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের বহিরাগত হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। “তারা যদি বই লিখে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করতে পারে, তাহলে আমরা ভালো মানুষরা কী করছি? আমরা কেন আমাদের কণ্ঠ আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে পারছি না?”
রোহিঙ্গা তরুণদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত হতে হলে রোহিঙ্গাদের নিজেদের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব, বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভূমিকা, রোহিঙ্গাদের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং সংকট সমাধানে নতুন প্রজন্মের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর পূর্বের উদ্যোগে ‘এ+ সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও উৎসাহ প্রদানের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়।
রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর সবুজবাগের বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির অডিটোরিয়ামে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। প্রধান আলোচক হিসেবে ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়ট্যুর খুঁজুন
এছাড়া অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ইমদাদুল হক মিয়াজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম উল্লেখ করেন, জনতার গণভোটের গণরায়কে মেনে জুলাই সনদকে সম্পূর্ণভাবে—দাঁড়ি, কমা ও সেমিকোলনসহ—বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গুমসংক্রান্ত নীতিমালা বাতিল করে গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করার চেষ্টা করছে। তিনি অবিলম্বে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত গুমসংক্রান্ত নীতিমালাকে আইন হিসেবে বাস্তবায়ন এবং গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, নিজেদের ক্যারিয়ারকে আগামী দিনে জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র মেধাবী হলেই হবে না, ব্যক্তিজীবনে সৎ হতে হবে। দেশপ্রেম ধারণ করে আগামী বাংলাদেশকে ইনসাফের বাংলাদেশে পরিণত করতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হবে। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে একটি নতুন সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা এখনো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ ও গুণগত মানসম্পন্ন মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, কৃতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৪ কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন সম্প্রতি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের চারজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত কথিত দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছে। এই বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।অভিযোগসমূহের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ৩ (তিন) সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উক্ত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে মতামতসহ বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রোববার, মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার শুরু থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে এবং কোনো অবস্থাতেই অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনিয়মের দায়ভার বহন করবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পরিশোধে অর্থ বিভাগ ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছ
রবিবার (৩০ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের পাওনা পরিশোধের জন্য অর্থ বিভাগ দুই কিস্তিতে এই অর্থ প্রদান করবে। বর্তমানে সরকার ফার্নেস অয়েলসহ জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয় করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে এই ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ জন্য অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। এর ফলে একদিকে লোডশেডিং কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে শিল্প খাতে বেশি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে।
বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৬ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের বড় অংশই বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। বকেয়া পরিশোধ হলে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের জ্বালানি কেনার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে তারা বন্ধ বা কম সক্ষমতায় চলা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বেশি ক্ষমতায় পরিচালনা করতে সক্ষম হবে বলে সরকারের আশা।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে সাশ্রয় হওয়া গ্যাস শিল্পকারখানায় সরবরাহ করে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ