বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫০ পি.এম
ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের কারণে চলতি বছরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোর বরফ দ্রুত গলতে শুরু করেছে। এর ফলে হিমবাহগুলো দ্রুত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক (গ্ল্যামোস) এবং সুইস একাডেমি অব সায়েন্সেসের সুইস কমিশন ফর ক্রায়োস্ফিয়ার অবজারভেশনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোর ৫ শতাংশের বেশি বরফ গলে গেছে।
এছাড়া, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিরিক্ত বরফ গলার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠছে। গত পাঁচ বছরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বরফ হারিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের বরফে ঢাকা এলাকাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
গ্লামোসের পরিচালক ম্যাথিয়াস হাস বলেন, ‘আমরা এখন এমন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছি, যেখানে বরফ গলে হিমবাহগুলো চোখের সামনে মিলিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, শীতে অপেক্ষাকৃত কম তুষারপাত এবং গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে চলতি বছর ভয়াবহ মাত্রায় হিমবাহের বরফ গলেছে।
গ্লামোসের পরিচালক জানান, এখন প্রায় প্রতিবছরই চরম পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এটি সত্যিই উদ্বেগজনক। তবে ২০২২ সালের মতো রেকর্ড হারে বরফ গলছে না বলে তিনি জানান। ওই বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ধুলোর মেঘ তুষারের ওপর জমে যাওয়ায় বরফ গলার হার ছিল নজিরবিহীন।
সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হিমবাহ আলেৎশ চলতি বছর সবচেয়ে বেশি বরফ হারিয়েছে। গ্লেসিয়ার দ্য সঁফ্লেরঁ হিমবাহের গড় পুরুত্ব ৪ মিটারের বেশি কমেছে। কয়েক বছর আগে এমন ঘটনা কল্পনা করা কঠিন ছিল বলে হাস জানান।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি হারিয়েছে। এটি দেশটির পরিবারগুলো এক বছরে যে পরিমাণ খাবার পানি ব্যবহার করে, তার তুলনায় চারগুণের বেশি।
হিমবাহের বরফ গলার একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। গ্রীষ্মকালে পানির সংকট কিছুটা কমাতে এটি ভূমিকা রাখে। তবে হিমবাহের আয়তন ও বরফে ঢাকা এলাকা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিধাও কমে আসছে বলে হাস জানান।
ম্যাথিয়াস আরও বলেন, ‘হিমবাহ কত দ্রুত গলছে, তা আমরা জানি। তাই এতে আমরা অবাক হই না। কিন্তু পাহাড়ের যেসব জায়গায় আগে তুষার ছিল, সেখানে এখন শুধু পাথর দেখা যাচ্ছে। এটা আমাকে কষ্ট দেয়।’
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে তিন পুলিশ কনস্টেবলের পাহারায় থাকা হ্যান্ডকাফ পরা এক রোহিঙ্গা আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম ইব্রাহিম। সম্প্রতি উখিয়ার থাইংখালী এলাকা থেকে অস্ত্রসহ আরও দুই রোহিঙ্গার সঙ্গে তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, উখিয়ার থাইংখালী এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধির সময় স্থানীয় লোকজন ইব্রাহিমসহ তিন রোহিঙ্গাকে আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের হস্তান্তর করা হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ইব্রাহিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো ছিল এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিন পুলিশ কনস্টেবল। কিন্তু এমন কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও তিনি বুধবার রাতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একজন হ্যান্ডকাফ পরা আসামি তিন পুলিশ সদস্যের পাহারায় থেকেও কীভাবে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গেলেন-এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ আটকের অভিযোগ থাকায় তার পলায়নকে সাধারণ কোনো আসামির পলায়নের ঘটনা হিসেবে দেখছেন না স্থানীয়রা।
ইব্রাহিমের পলায়নের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা তিন কনস্টেবলের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থান থেকে হ্যান্ডকাফ পরা একজন আসামি পাহারা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাহারায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পলাতক ইব্রাহিমকে পুনরায় গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উখিয়ার থাইংখালীসহ সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। অস্ত্র, মাদক, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
এ অবস্থায় অস্ত্রসহ আটক একজন রোহিঙ্গা আসামির পুলিশ পাহারায় থাকা অবস্থায় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে পলায়নের নেপথ্যের কারণ উদঘাটন এবং দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ মন্তব্য করেছেন যে, নিষিদ্ধ লীগ ও জামায়াতের গুপ্তরা বিভিন্ন উপায়ে সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই মন্তব্য করেন।
আবু হানিফ লিখেছেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে প্রায় ৮ মাস হলো। দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় পর নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করেছে, ফলে এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশার বিষয়টি মাথায় রেখে দেশের অভ্যন্তরের ও বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও চেষ্টা করে যাচ্ছে দেশকে এগিয়ে নিতে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী জামায়াত-এনসিপি সমন্বিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়িয়ে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।’
সবশেষে, গণঅধিকার পরিষদের এই মুখপাত্র লিখেছেন, ‘শুধু তাই নয়, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নিষিদ্ধ লীগ ও জামায়াতের গুপ্তরা নানাভাবে সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফলে ভেতরে-বাইরে নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের জন্য ভালো কিছু করা এই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে ভক্তদের মধ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর একটি পর্বে তাকে কিছুটা ভিন্নভাবে সঞ্চালনা করতে দেখা গেছে। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার সময় তিনি দাঁড়িয়ে না থেকে বরং চেয়ারেই বসে ছিলেন।
অমিতাভ জানিয়েছেন, এর পেছনে রয়েছে শুটিং সেটে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা। আগের দিন শুটিংয়ের সময় হঠাৎ করে পিছলে পড়ে যান তিনি, যার ফলে তার বাঁ হাঁটুতে আঘাত লাগে। এই চোটের কারণে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা তার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে।
তবে, বিগ বি তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, "আঘাত নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কিছু নেই এবং চোট গুরুতর নয়।" তিনি আরও জানান, তাই অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হবে না।
যদিও পর্বের শুরুতে বসে সঞ্চালনা করেছেন, তবে প্রতিযোগীদের অভ্যর্থনা জানানোর সময় যথারীতি দাঁড়িয়ে যান অমিতাভ। তার এই পেশাদারিত্ব দেখে সেটে উপস্থিত সবাই করতালি দিয়ে তাকে উৎসাহিত করেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
৮৩ বছর বয়সেও অমিতাভ বচ্চনের কাজের প্রতি এই নিষ্ঠা নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। শারীরিক অসুবিধার মধ্যেও তিনি জনপ্রিয় কুইজ অনুষ্ঠানটির শুটিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্মার্ট প্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ট্রাফিক ক্যামেরা নিয়ে ভারতে নতুন বিভ্রান্তির উদ্ভব হয়েছে। একটি বাইক চালকের পিঠে ঝোলানো গিটারকে ‘পেছনের আরোহী’ হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করেছে এআই ক্যামেরা। শুধু তাই নয়, হেলমেট না পরার কারণে ৫০০ রুপি জরিমানার ‘ই-চালান’ পাঠানো হয়েছে সেই স্কুটি মালিকের কাছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেঙ্গালুরুর হেব্বাল এলাকার বাসিন্দা সৌভিক দত্ত ১৫ সেপ্টেম্বর তার পিঠে গিটার ঝুলিয়ে ই-স্কুটিতে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় বসানো একটি এআই ক্যামেরা তার গিটারটিকে দ্বিতীয় কোনো আরোহী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং মাথায় হেলমেট না থাকার কারণে স্কুটির নামে জরিমানা তৈরি করে। পরদিন সৌভিকের স্ত্রীর কাছে সেই ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালানের বার্তা পৌঁছায়।
ঘটনার পর সৌভিক অবাক হয়ে যান। ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ট্রাফিক পুলিশের ট্যাগ দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি একা আমার স্ত্রীর টু-হুইলারে পিঠে গিটার ঝুলিয়ে যাচ্ছিলাম। আর হেলমেট ছাড়া পেছনে লোক বসানোর অপরাধে আমার স্ত্রীর কাছে ট্রাফিক চালান এসেছে! এআই প্রযুক্তির ট্রাফিক নজরদারির নমুনা দেখুন! দয়া করে চালানটি বাতিল করুন।’ তিনি চালানের ছবিও পোস্ট করেন।
এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থার নির্ভুলতা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের নজরেও এসেছে। তারা দ্রুত সৌভিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং ভুল চালান পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ