১০:৩৪ পি.এম
রংপুর বিভাগে নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে জাতীয় গড়ের ৫০ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে কিশোরী গর্ভধারণ এবং বাল্যবিবাহের হারও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার দৃশ্যপট পরিবর্তন করতে ‘জননী’ নামক একটি প্রকল্প মাঠে নেমেছে পাঁচটি মূল ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রংপুর নগরের সেন্ট্রাল কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের আওতায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (বিডিএইচএস) ২০২২-এর অনুযায়ী, দেশে প্রতি এক হাজার জীবিত জন্মে গড়ে ২০ জন নবজাতকের মৃত্যু হয়, কিন্তু রংপুর বিভাগে এই সংখ্যা ৩০ জন।
আরও পড়ুন: চরকাউয়ায় সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এখানে মা ও নবজাতকের ঝুঁকি বাড়ানোর কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য, দুর্গম এলাকায় থাকা, চরাঞ্চলের ভৌগোলিক বাধা, সময়মতো মানসম্মত সেবা প্রাপ্তি না হওয়া এবং জরুরি মুহূর্তে উচ্চতর হাসপাতালে রোগী পাঠাতে দেরি হওয়া।
‘জননী’ প্রকল্প এসব সমস্যার মোকাবেলায় পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এগুলো হলো—সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মা ও নবজাতকের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, প্রসবকালীন জটিলতা মোকাবেলায় জরুরি সেবা উন্নত করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা, চর ও দুর্গম এলাকা থেকে দ্রুত রোগীদের স্থানান্তরের জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গঠন করা এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত করা। এছাড়া, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং সরকারি বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘জননী বন্ধুরা’ কাজ করে যাচ্ছেন। প্রকল্পের কারিগরি বিশেষজ্ঞ জাহানারা হৃদিতা জানান, স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে একা প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ কারণে স্থানীয় সচেতন তরুণ-তরুণী ও নারীদের নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে, যারা সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে প্রকল্পের বিশেষ অতিথি অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা রংপুরের একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সীমিত ব্যবস্থার মধ্যেও সেখানকার সাজানো সেবা তাকে মুগ্ধ করেছে।
আরও পড়ুন: গৌরবের দুই দশকে বিএমপি, বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
সেখানে জরুরি মুহূর্তে রোগী স্থানান্তরের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং বিনামূল্যে সেবা পাওয়ায় মানুষ দূর-দূরান্ত থেকেও আসছে।
এই প্রকল্পটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এবং অর্থায়ন করছে কোরিয়ান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কোইকা)। এর সাথে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে সেভ দ্য চিলড্রেন, বাস্তবায়ন করছে আরডিআরএস বাংলাদেশ এবং গবেষণার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে আইসিডিডিআর,বি। ২০১৩ সালের মার্চে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রংপুর এবং লালমনিরহাটের নির্বাচিত ৪০টি ইউনিয়নে পরিচালিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও সমন্বিত ও ধারাবাহিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলে নবজাতকের অকালমৃত্যু রোধ সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন