বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:১৫ এম
ভাটি বাংলার মাটি ও মানুষের গানকে হৃদয়ে ধারণ করে যিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, তিনি একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী সুষমা দাশ।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর নাম গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, জীবনসংগ্রাম ও মাটির টান।
তিনি শুধু গান পরিবেশন করেননি, লোকসংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। হারিয়ে যেতে বসা লোকগান সংগ্রহ ও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি বাংলার সাংস্কৃতিক সম্পদকে সমৃদ্ধ করেছেন।
ভাটির মানুষের জীবন, নদী-নালা, হাওর-বাঁওড় ও গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা রূপ তাঁর সংগীতের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ একুশে পদক লাভ করেন।
ভাটি বাংলার মাটির গান
হাওরের জলে ভাসে নাও, মাঝি গায় সুর,
ভাটির মাটির গানের টানে মন যায় বহুদূর।
নদীর বুকে ঢেউয়ের খেলা, বাতাসে গান ভাসে,
মাটির সুরে ভাটির মানুষ আপনজনকে ভালোবাসে।
লোকগানের সেই মধুর সুর, হৃদয়ে জাগায় প্রাণ,
সুষমা দা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল। বিশেষ করে শীর্ষ নেতৃত্বে কারা জায়গা করে নিতে পারেন, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
কমিটি গঠনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় উঠে এসেছে সংগঠনের সাবেক পাঁচ ছাত্রনেতার নাম। তাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, অতীতের দায়িত্ব পালন এবং ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
আলোচনায় থাকা পাঁচ ছাত্রনেতা হলেন— আকরাম আহমেদ, সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক; কাউসার খান, সাবেক ১ নম্বর সহ-সভাপতি; ইকবাল হোসেন সোহেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক; কাজী শাওন আলম, সাবেক সহ-সভাপতি; এবং শহিদুল ইসলাম, সাবেক দপ্তর সম্পাদক।
সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের আলোচনায় এই পাঁচজনের নাম উঠে এলেও নতুন কমিটিতে তাঁদের অবস্থান বা পদ-পদবি কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন কমিটির নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা দুটোই বাড়ছে।
দলীয় সূত্রে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নতুন কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এখন নেতাকর্মীদের নজর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকে। শেষ পর্যন্ত কারা নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে আধুনিক মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। প্রাথমিক নানা জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে নির্মাণকাজ।
রাজবাড়ী গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রধান সড়কের পাশে ৪০ শতক জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে চারতলা বিশিষ্ট এই মডেল মসজিদ। ১৪ কোটি ০৪ লাখ ৭৫হাজর ৮৫ টাকা ৩৩ পয়সা চুক্তিমূল্যে থাকলেও তবে বালিয়াকান্দি মডেল মসজিদের প্রাক্কলিত মূল্য ১৫ কোটি ৬০ লক্ষ ৮৩হাজার ৪২৮টাকা ১৫ পয়সা ব্যয় নির্মিত হবে বালিয়াকান্দি মডেল মসজিদে, দেশব্যাপী ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবনটির প্রতিটি তলার ফ্লোর আয়তন প্রায় ৮ হাজার ৭০০ বর্গফুট। মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পোড়ামাটির ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কনক্রিট সিসি ব্লক ব্যবহার করে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে নির্মাণকাজ যেমন পরিবেশবান্ধব হচ্ছে, তেমনি স্থাপনাটির স্থায়িত্বও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মডেল মসজিদটিতে আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। প্রথম তলায় থাকবে ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অটিজম কর্নার, জানাজার স্থান, গোসল ও কাফনের ব্যবস্থা এবং গাড়ি পার্কিং। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক নামাজের কক্ষ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ও লাইব্রেরি থাকবে। চতুর্থ তলায় থাকবে হিফজখানা ও পরিদর্শন বাংলো।
এছাড়া পুরো ভবনে সেন্ট্রাল এসি, লিফট, সিসিটিভি ক্যামেরা, নিজস্ব বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং বিশেষ দিনগুলোতে দৃষ্টিনন্দন নাইট-লাইটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, পরিবেশবান্ধব সিসি ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা মসজিদটি শুধু টেকসই ও মজবুতই হবে না, এটি বালিয়াকান্দির অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাতেও পরিণত হবে।
রাজবাড়ী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশবান্ধব সিসি ব্লকের মান যাচাইয়ের টেস্ট রিপোর্ট ভালো এসেছে। কোনো ধরনের নিম্নমানের কাজ বরদাস্ত না করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি রাজবাড়ী জেলার মধ্যে একটি দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ হিসেবে পরিচিতি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি হলে তাদের সন্তানদের জন্য আলাদা ভর্তির সুযোগ থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতি শ্রেণির শাখায় মোট আসনের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন রাখা হবে। এই বিধান সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নীতিমালার ১৮ ধারায় বদলির কারণে ভর্তির সুযোগ ও শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। সুবিধাটি পেতে হলে, বদলির আদেশের তারিখ থেকে ১২ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনটি ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে করতে হবে এবং সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রদান করতে হবে।
মহানগর, সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় শহরের জন্য একটি আলাদা শর্ত প্রযোজ্য। যদি নতুন কর্মস্থল আগের জায়গা থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হয়, তাহলে সন্তান ভর্তির সুযোগ পাবে। দূরত্ব গুগল ম্যাপ অনুযায়ী মাপা হবে। ভর্তি হবে কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি বা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। জেলা, উপজেলা ও থানার ক্ষেত্রেও সন্তান কর্মস্থলের নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে।
সরকারি বিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা এই ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আগের কর্মস্থলে আবার বদলি হন, তাহলে তার সন্তান আগের স্কুলে পুনরায় ভর্তি হতে পারবেন। বিভিন্ন কোটায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মূল কাগজপত্র যাচাই করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। এরপর ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই শ্রেণিতে পারস্পরিক বদলির সুযোগও বিদ্যমান। এজন্য দুই বিদ্যালয়ের সম্মতি প্রয়োজন। শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে। কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে। ভর্তির উপযুক্ত সন্তানের সংখ্যার সমান আসন রাখা হবে। শিক্ষক যদি বালক বিদ্যালয়ে কাজ করেন এবং সন্তান মেয়ে হয়, তাহলে কাছের সরকারি বালিকা বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। একইভাবে, শিক্ষক যদি বালিকা বিদ্যালয়ে কাজ করেন এবং সন্তান ছেলে হয়, তাহলে কাছের সরকারি বালক বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। শিক্ষক সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে থাকলে সন্তানের আসন সেই বিদ্যালয়েই রাখা হবে। যদি সেই স্কুলে কাঙ্ক্ষিত শ্রেণি না থাকে, তাহলে কাছের অন্য উপযুক্ত বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্যবস্থা নিয়ে ভর্তি কমিটিকে জানাবেন।
কর্মরত অবস্থায় যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী মারা যান, তাহলে তার সন্তান ভর্তির সুযোগ পাবেন। সন্তান যে এলাকায় স্থায়ীভাবে থাকবে, সেখানকার সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারবেন। ভর্তি কমিটি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সরকারি স্কুলের যে শিক্ষার্থীর বাবা-মা নেই, তার জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। সে যদি বাসস্থান বদলায়, তাহলে নতুন এলাকার সরকারি স্কুলে একই শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর কারণে বাসস্থান বদলালেও একই সুযোগ পাওয়া যাবে। ভর্তি কমিটি এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূলের নিকটবর্তী সমুদ্রে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়।
কেসিএনএ উল্লেখ করেছে, বুধবারের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ-প্রতিরোধক ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং কৌশলগত মিশন পরিচালনার ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি ছিল ‘পুলহওয়াসাল-৩-৩১’ (Pulhwasal-3-31), যা একই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা পূর্বে উত্তর কোরিয়া স্থলভাগ থেকে পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছিল।
পূর্ব উপকূলের অদূরে সমুদ্রে পরিচালিত পরীক্ষাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন দেশটির উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা। কেসিএনএ আরও জানায়, এই পরীক্ষাগুলোর ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়নি।
এটি ধারণা করা হচ্ছে যে, উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত কোনো আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন সম্পূর্ণ কার্যকর অবস্থায় মোতায়েন করেনি। তবে, এটি দেশের নেতা কিম জং উনের সামরিক অগ্রাধিকারের তালিকার শীর্ষে রয়েছে; তিনি নিজে বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিষয়টি তদারকি করে আসছেন।
গত বছর কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তির সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি নিজের দেশের একটি সাবমেরিন উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন; রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে সেখানে ৮ হাজার ৭০০ টন ওজনের পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী একটি সাবমেরিন নির্মাণাধীন অবস্থায় দেখা যায়।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ