০৩:২৮ এম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের ‘বড় অর্জনের’ জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ।
সশস্ত্র গোষ্ঠীটি জানায়, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের অবসান ঘটেছে, যা দেশটি ও অঞ্চলের মিত্রদের ওপর চাপানো হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘সব ধরনের শত্রুতা চিরতরে বন্ধ করার জন্য’ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত আছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হবে।
আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে
চীন, সৌদি আরব, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেনসহ বিশ্বের অনেক দেশ এই চুক্তির প্রশংসা করেছে। তারা জানিয়েছে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং আমাল মুভমেন্টের নেতা ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যে, লেবাননকে এই চুক্তির আওতায় রাখা হয়েছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে, হিজবুল্লাহ জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে চলা এই সমঝোতা স্মারকটি একটি বড় অগ্রগতি। এটি যুদ্ধের সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে ‘ব্যাপক যুদ্ধবিরতি’ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই মহান অর্জন প্রিয় ইরানি জনগণের কিংবদন্তিতুল্য দৃঢ়তা, অসাধারণ স্থিতিস্থাপকতা এবং অপরিসীম ত্যাগের ফসল, যা তাদের বিজ্ঞ নেতৃত্বের অধীনে সম্ভব হয়েছে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
হিজবুল্লাহ ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি, ইরানি সরকার, সামরিক বাহিনী—বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং ইরানি জনগণের প্রশংসা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, লেবাননের পাশে দাঁড়িয়ে আগ্রাসন বন্ধের যেকোনো চুক্তিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তবে হিজবুল্লাহ পরিষ্কারভাবে বলেছে যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কেবল শুরু। এটি লেবাননের দখলকৃত এলাকা সম্পূর্ণ মুক্ত করার প্রচেষ্টার পথ প্রশস্ত করবে।
হিজবুল্লাহ ইসরাইলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ২ মার্চের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইসরাইলকে অবশ্যই সব বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে এবং যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত লক্ষাধিক লেবাননবাসীকে তাদের বাড়ি-গ্রামে ফিরতে দিতে হবে, বিশেষ করে দখলকৃত ফিলিস্তিন সীমান্তবর্তী এলাকায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হিজবুল্লাহ লেবানন ও তার জনগণের ‘সতর্ক প্রহরী’ হিসেবে থাকবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে বা নাগরিকদের রক্ত ঝরিয়ে এমন কোনো আগ্রাসনই মেনে নেবে না।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
এদিকে, হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি ঘোষণার পর থেকে গোষ্ঠীটি কোনো ধরনের অভিযান চালায়নি। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে হিজবুল্লাহর অবস্থান ইসরায়েল কতটা মেনে চলছে তার ওপর নির্ভর করছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে, হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, হিজবুল্লাহ লেবাননে ইসরাইলের ‘স্বাধীনভাবে চলাফেরা’ করার কোনো সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি জানান, লেবাননে ইসরাইল যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে কি না তা পর্যবেক্ষণের জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্ব করেছে।
আরও পড়ুন: কসোভোতে মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য এক দৃষ্টান্ত: ক্যাথলিক নারী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন