বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৬ পি.এম
দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়া, আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে সহায়তার জন্য নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৩০ জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাতিয়ার দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার প্রশিক্ষণকক্ষে প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়। ইভিসিআর প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে চর ঈশ্বর ইউনিয়ন, চর কিং ইউনিয়ন ও হাতিয়া পৌরসভার ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।
দুই দিনের প্রশিক্ষণে দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কবার্তা, আগাম পদক্ষেপ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র, অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। দুর্যোগের সময় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং কীভাবে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়েও স্বেচ্ছাসেবকদের ধারণা দেওয়া হয়।
এছাড়াও স্ফিয়ার কী, স্ফিয়ারের মানবিকতার ঘোষণাপত্র, সুরক্ষা নীতিমালা ও মানবিকতার মূলমান বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিষয়ে আহত বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধারের বিভিন্ন কৌশলও শেখানো হয়।
বিশেষভাবে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ অধিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রশিক্ষণে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সাইক্লোন শেল্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটির ভূমিকা এবং দুর্যোগের আগে, দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আয়োজকেরা জানান, দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাই অনেক ক্ষেত্রে মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে কাজ করেন। তাই দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাঁদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়ানো এ প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সহযোগিতায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইভিসিআর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-প্রান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের উন্নয়ন, ইতালির বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সম্ভাব্য ইতালি সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন যে, সম্ভাব্য ইতালি সফরের মূল উদ্দেশ্য হবে নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের পরিধি সম্প্রসারণ করা।
বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের সক্ষমতা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরার জন্য মিলান, ফ্লোরেন্স এবং রোম সফরের প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মিলানে ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক, ফ্লোরেন্সে টাসকানি অঞ্চলের চামড়া শিল্প এলাকা পরিদর্শন এবং রোমে সরকারি পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দুই দেশের কোম্পানির মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
সাভার চামড়া শিল্প নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বড় কারখানাগুলোকে নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হবে এবং ছোট কারখানার জন্য কেন্দ্রীয় সুবিধা বজায় রাখা হবে। পাশাপাশি শিল্পবর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে ইতালি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নিবন্ধন প্রক্রিয়াও আলোচিত হয়। বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-এর মধ্যে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতার উদ্দেশ্য হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত মৌলিক পাঠ্যবই প্রণয়ন, গবেষণালব্ধ, একাডেমিক ও অনুবাদধর্মী প্রকাশনা কার্যক্রমকে জোরদার করা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আলাদা আলাদা অনুষ্ঠানে এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। দুপুরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের কনফারেন্স হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ আজম সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে রাজধানীর ফার্মগেটের আরএইচ হোম সেন্টারে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আমানুল্লাহ এবং ইউপিএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাহরুখ মহিউদ্দীন স্বাক্ষর করেন।
তৃতীয় সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয় রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) কার্যালয়ে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আমানুল্লাহ এবং পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এতে স্বাক্ষর করেন।
এই সমঝোতাগুলোর ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের একাডেমিক এবং গবেষণাকর্ম বই আকারে প্রকাশের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। বাংলা একাডেমির সাহিত্য, ভাষা ও গবেষণাভিত্তিক প্রকাশনা-অভিজ্ঞতা, পিআইবির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমবিষয়ক প্রকাশনা দক্ষতা এবং ইউপিএলের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিক প্রকাশনা অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বই ও গবেষণাধর্মী প্রকাশনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য বই প্রকাশ নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণা, অনুবাদ, জ্ঞানচর্চা ও একাডেমিক প্রকাশনার একটি শক্তিশালী পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত জ্ঞানভিত্তিক উপকরণ পৌঁছানোর পাশাপাশি শিক্ষক-গবেষকদের সৃজনশীল ও গবেষণা দিয়ে প্রকাশনা তৈরি করা সহজ হবে।
সমঝোতা স্বাক্ষর বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আমানুল্লাহ মন্তব্য করেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৪ হাজার কোর্স চালু থাকলেও মানসম্মত মূল পাঠ্যবইয়ের চরম সংকট রয়েছে। এমনকি ১০টি ভালো মৌলিক পাঠ্যবই খুঁজে পাওয়াও কঠিন। একটি করে পাঠ্যবই প্রকাশ করা হলে ৪ হাজার বই প্রকাশ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট প্যাডাগোজি বা শিক্ষণপদ্ধতিও গড়ে ওঠেনি।"
তিনি আরও বলেন, "বাজারে এখন নিম্নমানের গাইড বইয়ের সয়লাব। এর ফলে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল পাঠ্যবই থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই মানসম্মত মৌলিক পাঠ্যবই তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।"
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান দিয়ে নির্ধারিত হয় না; মানসম্মত পাঠ্যবই, গবেষণা এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেই জায়গাটিকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। বাংলা একাডেমি, পিআইবি ও ইউপিএলের সঙ্গে এই সহযোগিতা আমাদের সেই উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও টেকসই করবে।"
সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ও বিপণন দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. ফারুক আহম্মেদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যে বয়সে সাধারণত পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং ক্রিকেট অনুশীলন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই ১৫ বছর বয়সেই কোটি কোটি রুপি আয়কারী বাণিজ্যিক বাজার তৈরি হয়েছে বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে। ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আলোচনায় আসা এই ভারতীয় কিশোর বর্তমানে বিজ্ঞাপনদাতা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাছে একটি আকর্ষণীয় নাম হয়ে উঠেছেন।
তবে এত অল্প বয়সে বিপুল অর্থ এবং তারকাখ্যাতি অর্জনের ফলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে—বৈভব কি এত চাপ সামলে ক্রিকেটে নিজের মনোযোগ ধরে রাখতে পারবেন? মাঠে তার পারফরম্যান্স বিজ্ঞাপনের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। হিন্দুস্তান টাইমস -এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ কিংবা এক দিনের শুটিংয়ের জন্য বৈভব বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। তার জনপ্রিয়তা বাড়লে, এই পারিশ্রমিক ৩ থেকে ৪ কোটি রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি বৈভবের বড় ধরনের বাণিজ্যিক মূল্যও তৈরি হয়েছে। বিপুল এই বাণিজ্যিক সাফল্য এখন তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিশোর বয়সে এত অর্থ, বিজ্ঞাপন, প্রচার এবং মানুষের প্রত্যাশার চাপ সামলে ক্রিকেটে মনোযোগী থাকা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বৈভবের বয়সের কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি এখনো নাবালক। ভারতে নাবালক ক্রীড়াবিদদের বাণিজ্যিক স্বত্ব সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনআইএল’-এর মতো নির্দিষ্ট কোনো কাঠামো নেই। ফলে বৈভব নিজে সরাসরি বাণিজ্যিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন না; এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে তার অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন।
বর্তমানে বৈভবের আইনি ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলো দেখভাল করছেন তার পরিবারের সদস্যরা এবং রাজস্থান রয়্যালসের বাণিজ্যিক পরামর্শক দলের সদস্যরা। তবে তিনি ১৮ বছরে পা দেওয়ার পর বিদ্যমান চুক্তিগুলোর কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বৈভব যদি কোনো চুক্তির শর্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে চান, তাহলে সেখান থেকে আইনি জটিলতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অল্প বয়সে বিপুল অর্থ ও খ্যাতি পাওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় সুযোগ, তবে এর সঙ্গে দায়িত্বও কম নয়। বিশেষ করে সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা একজন কিশোরের জন্য পেশাদার ক্রিকেটের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, চুক্তি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয় সামলানো সহজ নয়। এ কারণে মাঠের বাইরে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পরামর্শকের প্রয়োজনীয়তাও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ইতোমধ্যে কমপ্লানের মতো প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন বৈভব। একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছে। তবে এখনও কোনো স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতিনিধিত্ব করছে না।
ভবিষ্যতে রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে তার সম্পর্কের ধরন বদলালে কিংবা কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে বৈভবের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, সেই প্রশ্নও সামনে রয়েছে। ফলে ক্রিকেট মাঠে দ্রুত উত্থানের পাশাপাশি মাঠের বাইরের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক সামলানোও এখন ১৫ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের চামড়াজাত শিল্প বর্তমানে দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করছে, এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশকে স্বনির্ভর এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কুটির শিল্পের বিকল্প নেই।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ভবনের নিচতলায় ‘বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য বিদ্যমান। বিশেষ করে দেশের ‘ব্ল্যাক বেঙ্গাল’ ছাগলের চামড়া আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উন্নত মানের জুতা ও অন্যান্য চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব।
তিনি এ সময় আরও বলেন, প্রতিবছর কুরবানি ঈদে যে চামড়া সংগ্রহ করা হয়, তা প্রক্রিয়াজাত করাতে হিমশিম খেতে হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জুতার কারখানা তৈরি করতে পারলে শতভাগ জুতা রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
চামড়া শিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, ট্যানারি থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্য নদী, খাল-বিল ও পরিবেশে যাতে না পড়ে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। বর্জ্য থেকে রাসায়নিক আলাদা করে পানি পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, সরকারের পলিসি এমন হওয়া উচিত যেখানে টেনারির আশেপাশে বসতি স্থাপন করা হবে না।
বিসিকের বিভিন্ন শিল্পনগরীর অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য এসব এলাকায় নতুন কারখানা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
পরে পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলার স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মেলায় মোট ৪৯ স্টলের মধ্যে ৪৩টি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ