ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তিন প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তিন প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-এর মধ্যে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতার উদ্দেশ্য হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত মৌলিক পাঠ্যবই প্রণয়ন, গবেষণালব্ধ, একাডেমিক ও অনুবাদধর্মী প্রকাশনা কার্যক্রমকে জোরদার করা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আলাদা আলাদা অনুষ্ঠানে এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। দুপুরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের কনফারেন্স হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ আজম সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে রাজধানীর ফার্মগেটের আরএইচ হোম সেন্টারে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আমানুল্লাহ এবং ইউপিএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাহরুখ মহিউদ্দীন স্বাক্ষর করেন।

আরও পড়ুন: জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের স্মরণে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন

তৃতীয় সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয় রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) কার্যালয়ে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আমানুল্লাহ এবং পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এতে স্বাক্ষর করেন।

এই সমঝোতাগুলোর ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের একাডেমিক এবং গবেষণাকর্ম বই আকারে প্রকাশের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। বাংলা একাডেমির সাহিত্য, ভাষা ও গবেষণাভিত্তিক প্রকাশনা-অভিজ্ঞতা, পিআইবির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমবিষয়ক প্রকাশনা দক্ষতা এবং ইউপিএলের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিক প্রকাশনা অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বই ও গবেষণাধর্মী প্রকাশনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য বই প্রকাশ নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণা, অনুবাদ, জ্ঞানচর্চা ও একাডেমিক প্রকাশনার একটি শক্তিশালী পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত জ্ঞানভিত্তিক উপকরণ পৌঁছানোর পাশাপাশি শিক্ষক-গবেষকদের সৃজনশীল ও গবেষণা দিয়ে প্রকাশনা তৈরি করা সহজ হবে।

সমঝোতা স্বাক্ষর বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আমানুল্লাহ মন্তব্য করেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৪ হাজার কোর্স চালু থাকলেও মানসম্মত মূল পাঠ্যবইয়ের চরম সংকট রয়েছে। এমনকি ১০টি ভালো মৌলিক পাঠ্যবই খুঁজে পাওয়াও কঠিন। একটি করে পাঠ্যবই প্রকাশ করা হলে ৪ হাজার বই প্রকাশ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট প্যাডাগোজি বা শিক্ষণপদ্ধতিও গড়ে ওঠেনি।"

আরও পড়ুন: চুয়েটে ৩৬ দিন পর বুধবার থেকে ক্লাস শুরু, বিভাগের প্রধানরা নিশ্চিত নন

তিনি আরও বলেন, "বাজারে এখন নিম্নমানের গাইড বইয়ের সয়লাব। এর ফলে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল পাঠ্যবই থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই মানসম্মত মৌলিক পাঠ্যবই তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।"

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান দিয়ে নির্ধারিত হয় না; মানসম্মত পাঠ্যবই, গবেষণা এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেই জায়গাটিকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। বাংলা একাডেমি, পিআইবি ও ইউপিএলের সঙ্গে এই সহযোগিতা আমাদের সেই উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও টেকসই করবে।"

সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ও বিপণন দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. ফারুক আহম্মেদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে গলাকাটা ফি নির্ধারণের বিরুদ্ধে মুসাদ্দিকের প্রতিবাদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ বছর বয়সে কোটি কোটি রুপি আয়, বৈভবের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ পি.এম


১৫ বছর বয়সে কোটি কোটি রুপি আয়, বৈভবের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

যে বয়সে সাধারণত পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং ক্রিকেট অনুশীলন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই ১৫ বছর বয়সেই কোটি কোটি রুপি আয়কারী বাণিজ্যিক বাজার তৈরি হয়েছে বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে। ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আলোচনায় আসা এই ভারতীয় কিশোর বর্তমানে বিজ্ঞাপনদাতা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাছে একটি আকর্ষণীয় নাম হয়ে উঠেছেন।

তবে এত অল্প বয়সে বিপুল অর্থ এবং তারকাখ্যাতি অর্জনের ফলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে—বৈভব কি এত চাপ সামলে ক্রিকেটে নিজের মনোযোগ ধরে রাখতে পারবেন? মাঠে তার পারফরম্যান্স বিজ্ঞাপনের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। হিন্দুস্তান টাইমস -এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ কিংবা এক দিনের শুটিংয়ের জন্য বৈভব বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। তার জনপ্রিয়তা বাড়লে, এই পারিশ্রমিক ৩ থেকে ৪ কোটি রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি বৈভবের বড় ধরনের বাণিজ্যিক মূল্যও তৈরি হয়েছে। বিপুল এই বাণিজ্যিক সাফল্য এখন তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিশোর বয়সে এত অর্থ, বিজ্ঞাপন, প্রচার এবং মানুষের প্রত্যাশার চাপ সামলে ক্রিকেটে মনোযোগী থাকা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বৈভবের বয়সের কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি এখনো নাবালক। ভারতে নাবালক ক্রীড়াবিদদের বাণিজ্যিক স্বত্ব সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনআইএল’-এর মতো নির্দিষ্ট কোনো কাঠামো নেই। ফলে বৈভব নিজে সরাসরি বাণিজ্যিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন না; এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে তার অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন।

বর্তমানে বৈভবের আইনি ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলো দেখভাল করছেন তার পরিবারের সদস্যরা এবং রাজস্থান রয়্যালসের বাণিজ্যিক পরামর্শক দলের সদস্যরা। তবে তিনি ১৮ বছরে পা দেওয়ার পর বিদ্যমান চুক্তিগুলোর কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বৈভব যদি কোনো চুক্তির শর্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে চান, তাহলে সেখান থেকে আইনি জটিলতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

অল্প বয়সে বিপুল অর্থ ও খ্যাতি পাওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় সুযোগ, তবে এর সঙ্গে দায়িত্বও কম নয়। বিশেষ করে সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা একজন কিশোরের জন্য পেশাদার ক্রিকেটের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, চুক্তি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয় সামলানো সহজ নয়। এ কারণে মাঠের বাইরে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পরামর্শকের প্রয়োজনীয়তাও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ইতোমধ্যে কমপ্লানের মতো প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন বৈভব। একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছে। তবে এখনও কোনো স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতিনিধিত্ব করছে না।

ভবিষ্যতে রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে তার সম্পর্কের ধরন বদলালে কিংবা কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে বৈভবের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, সেই প্রশ্নও সামনে রয়েছে। ফলে ক্রিকেট মাঠে দ্রুত উত্থানের পাশাপাশি মাঠের বাইরের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক সামলানোও এখন ১৫ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চামড়া শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


চামড়া শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে: রিজভী

দেশের চামড়াজাত শিল্প বর্তমানে দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করছে, এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশকে স্বনির্ভর এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কুটির শিল্পের বিকল্প নেই।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ভবনের নিচতলায় ‘বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য বিদ্যমান। বিশেষ করে দেশের ‘ব্ল্যাক বেঙ্গাল’ ছাগলের চামড়া আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উন্নত মানের জুতা ও অন্যান্য চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব।

তিনি এ সময় আরও বলেন, প্রতিবছর কুরবানি ঈদে যে চামড়া সংগ্রহ করা হয়, তা প্রক্রিয়াজাত করাতে হিমশিম খেতে হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জুতার কারখানা তৈরি করতে পারলে শতভাগ জুতা রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

চামড়া শিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, ট্যানারি থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্য নদী, খাল-বিল ও পরিবেশে যাতে না পড়ে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। বর্জ্য থেকে রাসায়নিক আলাদা করে পানি পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, সরকারের পলিসি এমন হওয়া উচিত যেখানে টেনারির আশেপাশে বসতি স্থাপন করা হবে না।

বিসিকের বিভিন্ন শিল্পনগরীর অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য এসব এলাকায় নতুন কারখানা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।

পরে পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলার স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মেলায় মোট ৪৯ স্টলের মধ্যে ৪৩টি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ বছরে কার্ড লেনদেনে ১০৮ শতাংশ বৃদ্ধি, ৯৭ শতাংশ বেড়েছে কার্ডের সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


পাঁচ বছরে কার্ড লেনদেনে ১০৮ শতাংশ বৃদ্ধি, ৯৭ শতাংশ বেড়েছে কার্ডের সংখ্যা

দেশে নগদ টাকার পাশাপাশি কার্ডভিত্তিক লেনদেনের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত পাঁচ বছরে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা ৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ের মধ্যে এসব কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ১০৮ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে প্রিপেইড কার্ডের বিস্তার সবচেয়ে দ্রুত হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা ১৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের বাইরে বাংলাদেশি কার্ডধারীদের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডে বিদেশে মোট ১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৩০টি লেনদেন হয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৯৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। একই সময়ে বিদেশে ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকেরা ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৪টি লেনদেন করেছেন, যার পরিমাণ ২৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ, লেনদেনের সংখ্যার হিসাবে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহার বিদেশিদের বাংলাদেশে ব্যবহারের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ২০ গুণ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেশের কার্ড ব্যবহারের পাঁচ বছরের প্রবণতা, দেশীয় লেনদেন, বিদেশে বাংলাদেশিদের লেনদেন এবং বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের কার্ড ব্যবহারের খাত ও দেশভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে দেশে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩৮ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৮টি। ক্রেডিট কার্ড ছিল ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৩টি এবং প্রিপেইড কার্ড ছিল ৯ লাখ ৮১ হাজার ১৫৮টি। সব মিলিয়ে কার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২ কোটি ৬৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৯টি।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৫টিতে। ক্রেডিট কার্ড ২৭ লাখ ২ হাজার ৬৯৩টি এবং প্রিপেইড কার্ড ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৩২৯টিতে উন্নীত হয়েছে। মোট কার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৯৭টি। অর্থাৎ, পাঁচ বছরে মোট কার্ডের সংখ্যা ৯৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালের আগস্টে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৭ মিলিয়ন টাকা, অর্থাৎ ২২ হাজার ৭৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা বেড়ে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন টাকা বা ৪৭ হাজার ৪৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা হয়েছে। ফলে পাঁচ বছরে কার্ড লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১০৮ শতাংশ।

কার্ডের ধরনভেদে প্রবৃদ্ধির চিত্রও ভিন্ন। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৩৬ শতাংশ এবং ক্রেডিট কার্ড ২৮ শতাংশ। বিপরীতে, প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ১৬৮ শতাংশ। ফলে কার্ড ব্যবহারের বিস্তারে প্রিপেইড কার্ড দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক ও ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি ব্যাংক ও একটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্ড সেবা দিচ্ছে। আবার ৪৮টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট কার্ড, দ্বৈত মুদ্রার ডেবিট কার্ড এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রিপেইড কার্ড সেবা দিচ্ছে।

জুলাই মাসে দেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৩ হাজার ২৪৮ মিলিয়ন টাকা, অর্থাৎ ৪ হাজার ৩২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। জুনে এ পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার ৬১০ মিলিয়ন টাকা বা ৪ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এক মাসে লেনদেনের পরিমাণ ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ কমেছে। তবে লেনদেন কমলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহার বেড়েছে।

জুলাইয়ে দেশীয় ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের সবচেয়ে বড় অংশ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে হয়েছে। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা, যা মোটের ৫০ দশমিক ৩১ শতাংশ। খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে লেনদেন হয়েছে ৪৮৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ৩৭৭ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং নগদ উত্তোলনে ৩৩৪ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।

ওষুধ ও ফার্মেসিতে ২৬৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, পোশাকের দোকানে ১৭৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সরকারি সেবায় ১৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ব্যবসায়িক সেবায় ১২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, পরিবহনে ১১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, অর্থ স্থানান্তরে ৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পেশাগত সেবায় ৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জুলাইয়ে দেশীয় ক্রেডিট কার্ডের ৯০ দশমিক ৬৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে পণ্য ও সেবা কেনাকাটায়। নগদ উত্তোলনের অংশ ছিল ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং অর্থ স্থানান্তরের অংশ ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

কার্ডের ধরন অনুযায়ী দেশীয় ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের ক্ষেত্রে ভিসা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। জুলাইয়ে ভিসা কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ২৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা মোট দেশীয় ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের ৭৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। মাস্টারকার্ডে হয়েছে ৬৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং অ্যামেক্সে ৩৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ৮ শতাংশ। ডাইনার্স, ইউনিয়নপে, কিউক্যাশ ও জেসিবির অংশ ছিল ১ শতাংশেরও কম।

জুলাইয়ে দেশের বাইরে বাংলাদেশি কার্ডধারীদের ক্রেডিট কার্ডে ৫২৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ডেবিট কার্ডে ৪০১ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রিপেইড কার্ডে ৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ ৯৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। জুনে এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। ফলে এক মাসে বহির্মুখী কার্ড লেনদেন কমেছে ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৬টি লেনদেন হয়েছে। ডেবিট কার্ডে হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার ১২৩টি এবং প্রিপেইড কার্ডে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮২১টি লেনদেন।

বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে। এ খাতে ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৯০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, পরিবহনে ৬৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ৬০ কোটি ২০ লাখ টাকা, পোশাকের দোকানে ৪১ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং ব্যবসায়িক সেবায় ৩৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

দেশভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে বিদেশে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সবচেয়ে বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়েছে সেখানে, যার পরিমাণ ৯৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। এরপর থাইল্যান্ডে ৬১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং সিঙ্গাপুরে ৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ভারতে হয়েছে ৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা, মালয়েশিয়ায় ৩৪ কোটি ৫০ লাখ, কানাডায় ২৪ কোটি ৯০ লাখ, নেদারল্যান্ডসে ২১ কোটি ৯০ লাখ এবং চীনে ২১ কোটি ১০ লাখ টাকা।

জুলাইয়ে বিদেশে বাংলাদেশি ডেবিট কার্ডে ৪০১ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ৮৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, সরকারি সেবায় ৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং ব্যবসায়িক সেবায় ৫৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।

নগদ উত্তোলনে ৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৩৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ৩৯ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং পরিবহনে ২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। ডেবিট কার্ডে বিদেশে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে। জুলাইয়ে সেখানে লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি ১০ লাখ টাকা বা মোটের ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে ৫১ কোটি ৬০ লাখ, ভারতে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ, চীনে ৩৫ কোটি ৯০ লাখ এবং আয়ারল্যান্ডে ৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

জুলাইয়ে বিদেশে বাংলাদেশি প্রিপেইড কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি সেবায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং নগদ উত্তোলনে ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ব্যবসায়িক সেবায় ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৬ কোটি টাকা এবং ওষুধ ও ফার্মেসিতে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

জুলাইয়ে বিদেশি নাগরিকেরা বিদেশে ইস্যু করা কার্ড বাংলাদেশে ব্যবহার করে ২৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার লেনদেন করেছেন। জুনে এ পরিমাণ ছিল ২৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। জুলাইয়ে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৪টি লেনদেন হয়েছে।

বিদেশিদের বাংলাদেশে কার্ড ব্যবহারের সবচেয়ে বড় অংশও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। জুলাইয়ে এ খাতে ৮২ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ৩৫ দশমিক ১৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। নগদ উত্তোলনে ৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ০৪ শতাংশ, পরিবহনে ৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং পোশাকের দোকানে ২০ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।

দেশভিত্তিক হিসাবে বাংলাদেশে বিদেশিদের কার্ড ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের কার্ডধারীরা সবচেয়ে বেশি। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইস্যু করা কার্ডে ৫১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা মোটের ২২ দশমিক ০১ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ভারতে ইস্যু করা কার্ডে ২১ কোটি ৪০ লাখ, যুক্তরাজ্যে ২১ কোটি ০০ লাখ, কানাডায় ১১ কোটি ৩০ লাখ এবং সিঙ্গাপুরে ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই সময়কালে দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের পরিমাণ ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয় বেড়েছে ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

গত ১২ মাসের তথ্যেও দেশীয় ক্রেডিট কার্ড লেনদেনে ওঠানামার মধ্য দিয়ে সামগ্রিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৫ সালের আগস্টে দেশীয় ক্রেডিট কার্ড লেনদেন ছিল ৩ হাজার ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে তা বাড়ে। ডিসেম্বরে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কমে ৩ হাজার ৪২২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় নামলেও মার্চে আবার বেড়ে হয় ৪ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। জুনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা হওয়ার পর জুলাইয়ে তা কিছুটা কমে ৪ হাজার ৩২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়ায়।

দেশের বাইরে কার্ড লেনদেনও গত এক বছরে বিভিন্ন সময় ওঠানামা করেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে বহির্মুখী লেনদেন ছিল ৮৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অক্টোবর নাগাদ তা বেড়ে ৯৫৫ কোটি ২০ লাখ টাকা হয়। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ কমে ৬৯৬ কোটি ৯০ লাখ টাকায় নেমে যায়। জুনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা হওয়ার পর জুলাইয়ে কমে ৯৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা হয়েছে।

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪৮টি তফসিলি ব্যাংক ও একটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট কার্ডে অনুমোদিত মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট বকেয়া বা স্থিতি রয়েছে ১৪ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে কার্ড ব্যবহারের প্রবৃদ্ধিকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হয়েছে। কার্ডের বিস্তারের ফলে নগদের বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, পরিবহন, সরকারি সেবা ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে কার্ডের ব্যবহার বিস্তৃত হচ্ছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সীমিত ডিজিটাল অবকাঠামো, আর্থিক জ্ঞানের ঘাটতি, সাইবার নিরাপত্তা ও প্রতারণা নিয়ে উদ্বেগ, ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর আস্থার ঘাটতি, নগদনির্ভর সংস্কৃতি ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, তুলনামূলক বেশি লেনদেন ব্যয় এবং স্মার্টফোন ব্যবহারের সীমিত সুযোগকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কার্ড ব্যবহারের বিস্তার অব্যাহত রাখতে নিরাপত্তা ও প্রতারণা প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি গ্রাহকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে নগদনির্ভরতা কমানোর প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ নগদবিহীন লেনদেন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ব্যবস্থা আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে পানিতে ডুবে ৬ বছরের শি'শুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নড়াইল প্রতিনিধি

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


নড়াইলে পানিতে ডুবে ৬ বছরের শি

নানা বাড়ি বেড়াতে এসে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের দীননাথপাড়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে ছয় বছরের শিশুকন্যা আফসানার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নানাবাড়ির পুকুরে গোসল করতে নেমে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আফসানা পাশের শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আল আমিনের মেয়ে।

লাহুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মান্নান শেখ জানান, প্রায় পাঁচদিন আগে আফসানা নানাবাড়ি বেড়াতে আসে। বুধবার সমবয়সীদের সঙ্গে পুকুরে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আফসানার পরিবারসহ নানাবাড়িতে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

নড়াইলের লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া জানান, আফসানা নানা বাড়িতে আসার পর বুধবার দুপুরে কয়েকজন সমবয়সী শিশুর সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে যায়। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে তার মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেন নানাবাড়ির লোকজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%