১০:৫৯ এম
হরমুজ প্রণালি আর যুদ্ধের পূর্ববর্তী অবস্থায় কখনোই ফিরে যাবে না। ওমানের সঙ্গে প্রণালিটি নিয়ে আলোচনা চললেও এর অর্থ পুরনো অবস্থায় ফিরে যাওয়া নয়। বরং এর লক্ষ্য হচ্ছে, ওই অঞ্চলে নিরাপদ সামুদ্রিক চলাচল নিশ্চিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে পৌঁছানো। এ কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরানের সার্বভৌম অধিকার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ কোনও অবস্থাতেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না।
গতকাল রবিবার রাতে ইসমাইল বাঘাই এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়গুলো বলেন। তিনি জানান, ইরান ও ওমানের আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ এবং নতুন সামুদ্রিক নৌচলাচল কাঠামো গড়ে তোলা। হরমুজের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ইরানের সার্বভৌম অধিকার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ায় দুই বাংলাদেশিকে ৫ হাজার ডলারে বিক্রি করেছে মানবপাচারকারীরা
এই বিষয়টি নিয়ে তিনি জানান, যুদ্ধ বিরতির পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ওমান সফরের পরে এই আলোচনার গতি বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধ-সমাপ্তি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম ধারা অনুযায়ী, ওমানের সঙ্গে পরামর্শ করেই প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা হবে।
বাঘাই বলেন, ভবিষ্যতে বর্তমান উত্তর অথবা দক্ষিণ পথের পরিবর্তে নতুন একটি নৌপথ নির্ধারণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই প্রক্রিয়ায় কোনো তৃতীয় পক্ষ জড়িত হবে না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব কিছুই নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যগুলো ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ। কোনো চাপ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে তেহরানকে অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেনা।
গত ২৪ ঘণ্টায় বুলগেরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং ইউক্রেনের কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বাঘাই। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সহায়তা করে অথবা হামলাকারীদের ঘাঁটি ও রসদ দেয়, তবে তাদেরও এ জন্য ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ীই ইরান তার নীতি নির্ধারণ করবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব: এনএসইজেডের সমস্যা ৩ মাসে সমাধান হবে
উল্লেখ্য, ওমান এবং ইরান যথাক্রমে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ এবং উত্তর উপকূলে অবস্থিত। বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব অত্যন্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন