রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৯ পি.এম
ঢাকার পল্লবী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিননামা জমা দিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
রোববার, ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে তিনি সশরীরে জামিননামা জমা দেন। জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার হওয়া এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, গাজী নজরুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন। আজ আদালতে তিনি জামিননামা জমা দেন।
অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জুলাই গাড়ি চালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম।
মামলার আসামিরা হলেন- গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজগার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগনির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগনির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওবায়দুর বলেন, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় ওবায়দুর স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার অধীনে, দেশের কার্যরত সব ফাইন্যান্স কোম্পানি পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য যোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্তগুলো পালন করা আবশ্যক।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৮ জুন জারি করা সার্কুলারের আওতায় দেশের কার্যরত সব ফাইন্যান্স কোম্পানি পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ জারি করা সার্কুলারের ১৪.৪.২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং একই বছরের ১২ নভেম্বর জারি করা সার্কুলারের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তগুলো পালন করতে হবে।
অর্থাৎ, পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বনির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত মেনে চলতে হবে। ফলে, পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত কাঠামো অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৮ জুন জারি করা সার্কুলারের ০৪-এর অন্যান্য নির্দেশনাও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। তাই, শুধুমাত্র পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করাই নয়, সংশ্লিষ্ট সার্কুলারে থাকা অন্যান্য নির্দেশনাগুলোও অংশগ্রহণকারী ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর ৪১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সিএমএসএমই খাত দেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ খাতের ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চলতি মূলধনের জোগান নিশ্চিত করা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে দেশের কার্যরত ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় আসার সুযোগ পাবে।
তবে, সার্কুলারে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মোট আকার, সুদের হার, ঋণগ্রহীতার জন্য নির্ধারিত সুদহার, পৃথক খাতে বরাদ্দ কিংবা কত অর্থ বিতরণ করা হবে—এসব বিষয়ে নতুন করে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। নির্দেশনার মূল বিষয় হলো, ৮ জুনের সার্কুলার নং-০৪-এর আওতায় ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর যোগ্যতা এবং অংশগ্রহণের শর্ত স্পষ্ট করা।
নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিতে ব্যাংকের পাশাপাশি ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগকে আরও স্পষ্ট করা হলো। ফলে, নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো এই কর্মসূচির আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হতে পারবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডায় বসবাসরত প্রবাসীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য দ্রুত সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কানাডার টরেন্টোতে ডানফোর্থ এলাকার বিডি ফিউশনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এ আহ্বানটি উত্থাপিত হয়। এই সেমিনারটি হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) কানাডা শাখার উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
এইচআরপিবির কানাডা শাখার সভাপতি আফিয়া বেগমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ শহীদ উদ্দিন, কানাডার ডিপ্লোম্যাটিক প্রটোকল কনসালটেন্ট রশিদ খান, কমিউনিটি নেতা ব্যারিস্টার আলমগীর, মন্ট্রিল এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ মোরসালিন, ক্লাইমেট চ্যানেল এর সিইও সঞ্জয় চাকি এবং কানাডার লিভারেল পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট এহসানুল হাফিজ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এইচআরপিবি কানাডা শাখার সেক্রেটারি সালমান আরেফিন।
সেমিনারে বক্তারা কানাডাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশে সম্পত্তিসহ অন্যান্য অধিকারের বিষয়ে আইনগত প্রতিকার সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং এজন্য বাংলাদেশ সরকারের নিকট প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশে একটি প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জানান।
বক্তারা এসময় বাংলাদেশি কমিউনিটির মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কানাডা সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইচআরপিবির প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, "বাংলাদেশে প্রবাসীরা সম্পত্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সমস্ত অনিয়মের সম্মুখীন হন এবং তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়, সে সকল ক্ষেত্রে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায়, প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রচলিত আইনগত প্রতিকারের দীর্ঘসূত্রিতা তাদের অধিকার বঞ্চিত করছে।
তিনি বলেন, "প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুত সমাধান প্রয়োজন এবং এ কারণেই আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন অতি দ্রুত বাংলাদেশে প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।" অন্যথায়, তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশে প্রবাসীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও রেমিটেন্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং এর ফলে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে আফিয়া বেগম বলেন, "কানাডায় বসবাসকারী প্রবাসীরা অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে তাদের সহায়-সম্পত্তি বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতার সম্মুখীন হন এবং তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।" তিনি বাংলাদেশে প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের একটি পরিত্যক্ত তেলের পাম্পে সুরমান আলী (৪৫) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে দিনেদুপুরে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
সুরমান আলী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের ভারচান্দা এলাকার আবু হানিফের পুত্র এবং গালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের পাশে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত পাম্পের সামনে সুরমান আলীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, ঘটনাস্থল থেকে ইউপি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও কারা জড়িত রয়েছে সে বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি সফল করার উদ্দেশ্যে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন শ্রমিক-কর্মচারী জোট ও সংগঠনের নেতাদের যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রামের বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বানে ৫ অক্টোবর দিনব্যাপী বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সুলতান আহমদ হলে জাতীয় ফেডারেশন ও বেসিক ইউনিয়নগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু।
সভায় শ্রমিক কর্মচারী নেতৃবৃন্দ জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক এবং স্পর্শকাতর গুরুত্বপূর্ণ প্রধান স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দীর্ঘ মেয়াদি ইজারা চুক্তিতে ছেড়ে দেওয়া হলে দেশের ও জাতির কী কী লাভ হবে এবং কী কী ক্ষতি হতে পারে সে সম্পর্কে যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি।
এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে সংলাপ প্রয়োজন বলে সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য শ্রমিক কর্মচারী নেতারা আহ্বান জানান।
আন্দোলনরত শ্রমিক কর্মচারি সংগঠনসমূহের নেতারা সভায় বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। তবে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলনকে সরকার দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করলে তা ভুল হবে।
তাহলে ভবিষ্যতে দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। প্রয়োজনে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অবরোধ ও হরতালের মতো কর্মসূচিও ঘোষণার কথা জানান তারা।
সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। বন্দরের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতি ও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের স্বার্থ জড়িত।
এই পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সভায় বক্তারা আগামী ৫ অক্টোবরের অবস্থান কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন জাতীয় ফেডারেশন, বেসিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়া হলে দেশের কী লাভ হবে, তা সরকারকে জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে হবে।
একইভাবে এনসিটি ইজারা দেওয়া হলে দেশের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়েও সরকারের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানান শ্রমিক নেতারা।
সভায় আলোচনায় অংশ নেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহ-সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজি, বিএফটিইউসির সভাপতি আনোয়ারুল হক হুনি, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ মিয়া, বন্দর উইঞ্চ ক্রেন অপারেটর সমিতির নেতা ইমাম হোসেন স্বপন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. পারভেজ, চট্টগ্রাম যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব হাসিবুর রহমান বিপ্লব, লুৎফুন্নাহার সোনিয়া, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির, ইমান আলী জানুসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে সর্বস্তরের শ্রমিক, জাতীয় ফেডারেশন, বেসিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরবচ্ছিন্ন লাভজনক, সচল এবং নিজস্ব টাকায় নির্মিত স্বয়ংসম্পূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটি এবং সিসিটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বানে গত ১৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন বারিক বিল্ডিং মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়া এর আগে থেকেই বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য জোট স্কপসহ বিভিন্ন জোট, রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের আহ্বানে সভা, সমাবেশ, প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল হয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ