মোঃ সাকিব দিনাজপুর (হিলি) প্রতিনিধি
১২:৪৪ এম
দিনাজপুরের হাকিমপুরে এক যুবককে অফিসের কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে অপহরণ, ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং জোরপূর্বক ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করেছে এবং এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে মামলার ৩ নম্বর আসামি মো. মেহেদী হাসান ওরফে মাহাদী হাসান অফিসের কাজের অজুহাতে বাদীর ছেলে জীবনান্দ সরকারকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যান। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করে হাকিমপুর পৌরসভার মধ্য বাসুদেবপুর (মাঠপাড়া) এলাকায় ৬ নম্বর আসামি মো. মন্তাজ ওরফে মুন্তাজ হোসেনের বাড়িতে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় অপহৃত যুবকের পরিবারের কাছে ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার কাছে থাকা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের ছয়টি নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও টিপসই নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে অপহৃত যুবককে হাকিমপুর পৌরসভার ধরন্দা গ্রামে হিলি চারমাথায় অবস্থিত ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার একটি অফিস কক্ষে আটকে রাখা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাদী হাকিমপুর থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধার করে এবং ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. ইউসুফ আলী (২৮), পিতা মো. ইউনুস আলী, থানা-পাঁচবিবি, জেলা-জয়পুরহাট (বর্তমানে বিরামপুর উপজেলার ইসলামপুরে ভাড়াটিয়া) এবং মো. মোজাম্মেল হোসেন মুকুল (৪৫), পিতা মৃত আব্দুস সাত্তার, সাং-ইসলামপাড়া, থানা-বিরামপুর, জেলা-দিনাজপুর।
এ ঘটনায় অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, অবৈধভাবে আটক, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণের অভিযোগে হাকিমপুর থানায় মামলা নং-০১/১৩৭, তারিখ ১ জুলাই ২০২৬, দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৪২ ও ৩৪ ধারায় রুজু হয়েছে।
মামলার তদন্ত করছেন হাকিমপুর থানার এসআই (নিঃ) মো. শামীম মিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের জিয়ানগরে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির কারণে দুইটি ফার্মেসিকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযানের আয়োজন বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে জিয়ানগর বাজারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মো. হাফিজুর রহমান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে মেসার্স আব্দুল্লাহ ফার্মেসির মালিক মো. সিরাজুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা এবং পরশমণি মেডিকেল হলের মালিক অমল কৃষ্ণ সাহাকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা ঔষধ প্রশাসন কার্যালয়ের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক সুশীল কুমার ঢালা এবং জিয়ানগর থানা পুলিশের সদস্যরা। তারা জানান, জনস্বার্থে এমন ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উরুগুয়ের বিপক্ষে স্বস্তির জয় সত্ত্বেও নকআউট ম্যাচে কিছুটা রদবদল আনলেন স্পেনের মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তে। আজ রাতের ম্যাচের জন্য যে স্প্যানিশ একাদশ ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
মিডফিল্ডে কৌশলগত কারণে মিকেল মেরিনোর জায়গায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার দানি ওলমোকে। একই সঙ্গে ডানপ্রান্তের রক্ষণভাগকে আরও নিশ্ছিদ্র করতেই মার্কোস ইয়োরেন্তের বদলে লা ফুয়েন্তে ভরসা রেখেছেন পেদ্রো পোরোর ওপর।
এদিকে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র নিকো উইলিয়ামস। তার অনুপস্থিতিতে বাম উইংয়ের আক্রমণভাগের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে তরুণ তুর্কি আলেক্স বায়েনার উপর।
তবে আজকের ম্যাচটি স্প্যানিশ শিবিরের জন্য বিশেষ একটি মাইলফলকও বটে। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক এমেরিক লাপোর্তে আজ জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৫০তম তথা ‘হাফ সেঞ্চুরি’র ম্যাচটি খেলতে নামছেন।
স্পেনের একাদশ:
উনাই সিমোন (গোলরক্ষক), পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, এমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, আলেক্স বায়েনা এবং মিকেল ওইয়ারসাবাল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করতে, অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার (পহেলা জুলাই) থেকে এসব আনসার সদস্যরা হাসপাতালে তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একজন আনসার কমান্ডারের নেতৃত্বে তারা তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এরমধ্যে সকালবেলা পাঁচজন, বিকালে দুইজন এবং রাতে দুইজন আনসার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ইতিমধ্যে ১০ জন আনসার সদস্য তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে যে, দেশের পাঁচশ'টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় পাঁচ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন। তাদের বেতন-ভাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশ্ববর্তী জনগুরুত্বপূর্ণ গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবনিযুক্ত আনসার কমান্ডার মো. নিজাম উদ্দিন তাদের বক্তব্যে বলেন, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবো। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নিয়মিত আমাদের তদারকি করবেন। একইভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে সেবা নিতে ও দিতে পারেন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ভবানন্দ বাড়ৈ কথা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজনের সমাগম ঘটে। আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও নির্বিঘ্ন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একইসাথে দালালচক্র, বিশৃঙ্খলা ও বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. তৌকীর আহমেদ বলেন, হাসপাতালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রোগীদের সেবার মান উন্নয়নে আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। অতীতে বিভিন্ন সময় বহিরাগতদের কারণে হাসপাতালের ভেতরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়ায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীরা নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পাবেন। জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সূত্রমতে, গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অতীতে কয়েক দফা বহিরাগতদের সংঘর্ষ, হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং হাসপাতালের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বহিরাগতদের বিরোধ হাসপাতালের ভেতর পর্যন্ত গড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্ব পাচ্ছিলো।
সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সে সময় তিনি হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, একটি আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপন এবং গয়নাঘাটার মা ও শিশু কেন্দ্র পুনরায় চালুর বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং রোগীরাও নির্বিঘ্নে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা, সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সারাদেশের মত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে ইসমাইল হোসেন ওরফে পিন্টু (৪২) নামে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সেনবাগ পূর্ব বাজার এলাকার সামছু মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত পিন্টু ফেনীর পশুরাম উপজেলার গুতমা গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিন্টু নিজের গ্রামের এলাকার মানুষের থেকে ঋণ ও প্রতারণা করে বেশ কিছু অর্থ হাতিয়ে নেয়। যে কারণে নিজেকে আড়াল করতে গত ১৫ জুন সেনবাগ পূর্ব বাজার এলাকায় সামছু মিয়ার একটি বাসা ভাড়া নেন। দুই দিন পর তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন। বাসার মালিক তার পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে পরে দেবেন বলে জানালেও আর জমা দেননি। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বাসার পাশের একটি হোটেলে খাবার খেয়ে বাসায় ফিরে আসেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসার মালিক ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে কাছে গিয়ে দেখেন তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোক করে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ