প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করতে, অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার (পহেলা জুলাই) থেকে এসব আনসার সদস্যরা হাসপাতালে তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একজন আনসার কমান্ডারের নেতৃত্বে তারা তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এরমধ্যে সকালবেলা পাঁচজন, বিকালে দুইজন এবং রাতে দুইজন আনসার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ইতিমধ্যে ১০ জন আনসার সদস্য তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে যে, দেশের পাঁচশ'টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় পাঁচ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন। তাদের বেতন-ভাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশ্ববর্তী জনগুরুত্বপূর্ণ গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবনিযুক্ত আনসার কমান্ডার মো. নিজাম উদ্দিন তাদের বক্তব্যে বলেন, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবো। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নিয়মিত আমাদের তদারকি করবেন। একইভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে সেবা নিতে ও দিতে পারেন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ভবানন্দ বাড়ৈ কথা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজনের সমাগম ঘটে। আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও নির্বিঘ্ন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একইসাথে দালালচক্র, বিশৃঙ্খলা ও বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. তৌকীর আহমেদ বলেন, হাসপাতালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রোগীদের সেবার মান উন্নয়নে আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। অতীতে বিভিন্ন সময় বহিরাগতদের কারণে হাসপাতালের ভেতরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়ায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীরা নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পাবেন। জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সূত্রমতে, গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অতীতে কয়েক দফা বহিরাগতদের সংঘর্ষ, হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং হাসপাতালের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বহিরাগতদের বিরোধ হাসপাতালের ভেতর পর্যন্ত গড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্ব পাচ্ছিলো।
সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সে সময় তিনি হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, একটি আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপন এবং গয়নাঘাটার মা ও শিশু কেন্দ্র পুনরায় চালুর বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং রোগীরাও নির্বিঘ্নে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা, সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সারাদেশের মত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন