০৬:১৭ এম
গভীর বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশ-ভুটান সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি শেষ হয়েছে। এই আয়োজন ১৪ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত চলেছিল এবং এতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১১ জন শিল্পী এবং সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবসহ একটি উচ্চপর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে।
১৪ আগস্ট বাংলাদেশ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত মালেকা পারভীনের দেওয়া স্বাগত নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত নৈশভোজে ভুটান সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ আগস্ট ভুটানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্কৃতি ও জংখা উন্নয়ন বিভাগে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব দ্য পারফর্মিং আর্টসে অধ্যক্ষ স্বাগত বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আগে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মালেকা পারভীন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, "পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বাণিজ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভুটানের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২০ আগস্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের মিলনায়তনে বাংলাদেশ ও ভুটানের শিল্পীদের যৌথ পরিবেশনার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়নপো ডিএন ধুংগেল। এতে ভুটানের সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, স্থানীয় অতিথি এবং বাংলাদেশি প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ভুটান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, "বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ ছিল ভুটান।"
বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাবেয়া বেগম বলেন, "সংস্কৃতি এমন একটি সর্বজনীন ভাষা, যা দেশের সীমানা পেরিয়ে মানুষকে একত্রিত করে।" তিনি তরুণ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই সাংস্কৃতিক বিনিময় ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও যৌথ প্রদর্শনী, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার পথ তৈরি করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন