ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আড়াল ভেঙে ফিরছেন বুবলী


আড়াল ভেঙে ফিরছেন বুবলী

মাতৃত্বের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ করে অভিনয়ের জগত থেকে দূরে ছিলেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। কন্যাসন্তানের জন্মের পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি।

ঈদে একাধিক সিনেমা মুক্তি পেলেও এই অভিনেত্রী প্রচারণা কিংবা জনসমক্ষে ছিলেন অনুপস্থিত।

তবে এখন জানা গেছে যে, বিরতি কাটিয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন: শাহরুখের ৬১তম জন্মদিনে ‘মান্নাত’-এ দেখা মিলবে না

যদি সবকিছু ঠিক থাকে, তাহলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার শুটিংয়ের মাধ্যমে অভিনয়ে ফিরবেন বুবলী। ছবিটি পরিচালনা করছেন জাহিদ হোসেন।

এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করবেন অভিনেতা আদর আজাদ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্মাতা জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘বুবলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা পরিবর্তন সাপেক্ষে সেপ্টেম্বরে শুটিংয়ে ফিরবেন বলে কথা দিয়েছেন বুবলী।’শাড়িতে নায়িকা বুবলীর আকর্ষণীয় সাতটি ছবি

পুরান ঢাকার ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনকে কেন্দ্র করে এই সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রধান অতিথি এম আকবর আলী

সিনেমাটিতে আদর আজাদের চরিত্র হবে একজন শিয়া যুবকের, অন্যদিকে বুবলী অভিনয় করবেন একজন সুন্নি তরুণীর ভূমিকায়। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁরা উর্দু ভাষায়ও সংলাপ বলতে দেখা যাবে।

নির্মাতা জানিয়েছেন, আপাতত বুবলী সন্তান ও নিজের শারীরিক সুস্থতার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। তাই তার অংশের শুটিং শুরু হওয়ার আগে ছবির অন্যান্য দৃশ্যের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ‘বুবলী যেহেতু এখন সন্তান ও নিজের পরিচর্যায় কিছুটা দিন সময় নেবেন, তাই আমরা এর মধ্যে অন্যান্য অংশের শুটিংগুলো শুরু করতে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য পুরান ঢাকাকে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা।’

নামের কারণে এটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র বলে মনে হলেও নির্মাতার পরিকল্পনা ভিন্ন।

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার: রিজভী

তার কথায়, ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ মূলত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে লক্ষ্য করেই নির্মিত হচ্ছে। পরে দেশের প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি দেওয়া হবে।Shobnom Bubly is a Bangladeshi newcomer movie actress. She was a news  presenter in Banglavision TV; https://t.co/R6s47aiF2E

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের দুই নেতা বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


জামায়াতের দুই নেতা বহিষ্কার

মুন্সীগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাওলানা মনির হোসেন এবং আমিনুল ইসলাম নাসির নামে দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কৃত দুই নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে মাওলানা মনির হোসেন সিরাজদিখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন ও সাবেক রশুনিয়া ইউনিয়ন আমির ছিলেন। অন্যদিকে, আমিনুল ইসলাম নাসির মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রুকন ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের কারণে জামায়াতের আমির তাদের সদস্য (রুকন) পদ বাতিল করে দিয়েছেন। এর ফলে, মাওলানা মনির হোসেন এবং আমিনুল ইসলাম নাসির বর্তমানে জামায়াতের কোনো পদের অধিকারী নন এবং তারা আর দলটির সদস্য হিসেবেও গণ্য হন না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নৈতিক স্খলন, দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে অশোভন আচরণের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মাওলানা মনির হোসেন দীর্ঘকাল ধরে সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, সিরাজদিখান উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং জামায়াতের রুকন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। গত বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়, ১৪ ডিসেম্বর তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহর হাতে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনে জামায়াতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা সেক্রেটারি একেএম ফখরুদ্দীন রাজি মন্তব্য করেন, নির্বাচনকালীন তার কর্মকাণ্ড সাংগঠনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় আমরা তাকে দায়িত্ব স্থগিত করে বিষয়টি কেন্দ্রকে জানিয়েছিলাম। সেই সময় থেকেই তিনি কার্যত দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ছিলেন না। এবং রোববার কেন্দ্রীয়ভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুধু মাওলানা মনির নন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য অভিযোগের শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুৎ খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে ফ্যাসিস্ট সরকার : বিদ্যুৎ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


বিদ্যুৎ খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে ফ্যাসিস্ট সরকার : বিদ্যুৎ মন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ বিষয়ক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির ভাষণে বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখেছে। পাশাপাশি নতুন দায়ও সরকারকে বহন করতে হচ্ছে, ফলে বাবদ প্রতি মাসে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ বিষয়ক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।

মন্ত্রী বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে গৃহীত বেশিরভাগ প্রকল্পে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর বর্তেছে।

তিনি বলেন, আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান সরকারকে অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পূর্ববর্তী সময়ে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির ফলে সরকারকে তুলনামূলক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি আমদানি ব্যয়ও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আরো দক্ষ, টেকসই ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তবে, কোনোভাবেই উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় বা উৎপাদনের অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

তিনি রুফটপ সোলার ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা করে পতিত জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে উৎপাদিত হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত সংরক্ষণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল শক্তি জনগণ। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বিপুল ঋণের বোঝা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি নাগরিক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলাউড়া পৌরসভার ৯৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


কুলাউড়া পৌরসভার ৯৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

কুলাউড়া পৌরসভার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯৮ কোটি ২৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। গত সোমবার কুলাউড়া পৌরসভা মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার। বাজেট ঘোষণার পর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শরদিন্দু রায়ের সঞ্চালনায় পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হীরেন্দ্র চন্দ্র পাল বাজেটের বিভিন্ন খাত উপস্থাপন করেন। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে কোন প্রকার নতুন কর আরোপ না করে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৪২ টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। সরকারি অনুদান হিসেবে ২ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। রাজস্ব উদ্ধৃত্ত উন্নয়ন তহবিলে স্থানান্তরিত হবে ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৪২ টাকা। কুলাউড়া পৌরসভা এ গ্রেডের হলেও গত ৫ বছরে কোনও নতুন কর আরোপ করা হয়নি। গৃহকর ও ভূমি করের ওপর জোর দেওয়া হলেও কর আদায়ের পরিমাণ খুবই নগন্য। ফলে বাজেটে পৌরবাসীর জন্য কোন চমক নেই এবং পৌরবাসী গতানুগতিকতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পৌরসভায় বাস্তবায়নাধীন আইইউজিআইপি প্রকল্পের কাজসমূহে স্বচ্ছতা নিয়ে উপস্থিত নাগরিকবৃন্দ প্রশ্ন তুলেন। তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। এর ফলে পৌরবাসীর ভোগান্তি ও যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাজেট অধিবেশনে পৌর প্রশাসক সানজিদা আক্তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, এটি একটি জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবসম্মত বাজেট। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক পৌরসভা গড়ে তোলা এবং জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে পৌরবাসী উপকার ভোগ করবেন। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, প্রভাষক সিপার উদ্দিন, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী কামরুল হাসান, হিসাব রক্ষক তাজুল ইসলামসহ পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী ও সুধীজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারিকেল গাছের চূড়াতেই যেন আহালুর রুটিরুজি কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়ান জেলা থেকে জেলায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ পি.এম


নারিকেল গাছের চূড়াতেই যেন আহালুর রুটিরুজি কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়ান জেলা থেকে জেলায়

ভোরের আলো ফুটতেই হাতে দা, কোমরে দড়ি আর কাঁধে প্রয়োজনীয় কয়েকটি সরঞ্জাম নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আহালু। দিনের গন্তব্য কখনো নকলার কোনো গ্রাম, কখনো পাশের উপজেলা, আবার কখনো জেলার সীমানা পেরিয়ে দূরের কোনো জনপদ। গন্তব্যে পৌঁছে মুহূর্তেই উঠে যান উঁচু নারিকেল গাছের মাথায়। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কাছে যা রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য, আহালুর কাছে সেটিই প্রতিদিনের কর্মজীবন। নারিকেল গাছের চূড়াই যেন তার রুটিরুজির ঠিকানা।

শেরপুরের নকলা উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের বাড়ইকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে ৪৭ বছর বয়সী আহালু। প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি পেশাদার গাছি হিসেবে নারিকেল গাছ পরিষ্কার, শুকনো ডাল অপসারণ ও পরিচর্যার কাজ করে আসছেন। জীবনের ঝুঁকি নেওয়া এই পেশাই তার পরিবারের প্রধান অবলম্বন।

আহালুর সংসারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে। দারিদ্রতার কারনে ছেলেরা কেউ লেখাপড়ায় বেশি দূর যেতে পারেনি। বড় ছেলে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। মেজ ছেলে কোরআনে হাফেজ। মেজ ও ছোট ছেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সবার ছোট মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ থেকে শুরু করে সংসারের প্রতিটি প্রয়োজন মেটানোর পেছনে রয়েছে আহালুর ঝুঁকিপূর্ণ এই পেশার ঘাম।

আহালু জানান, প্রায় দেড়যুগ ধরে বোরো ও আমন মৌসুমে ধান রোপণ ও কাটার কাজ করেন। আর বছরের বাকি সময় নারিকেল গাছ পরিষ্কার, শুকনো ডাল অপসারণ ও পরিচর্যার কাজ করেন। তিনি বলেন ‘আগের মতো প্রতিদিন এত গাছে উঠতে পারি না। তবু মাসে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। আগে যখন শরীরে বেশি শক্তি ও সাহস ছিল, তখন মাসে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেছি। শক্তি, সাহস ও সামর্থ কমে যাওয়ায় আয় দিন দিন কমছে।’

তার ভাষ্য, নকলা উপজেলার পূর্বাঞ্চলে নারিকেল গাছের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ওইসব এলাকায় কাজও বেশি মেলে। তবে এখন আর তিনি শুধু নকলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। স্থানীয় এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহালুর ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ছবি ও তার মোবাইল নম্বর প্রকাশ করার পরথেকে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকেও কাজের ডাক পান। বছরে অন্তত দুই থেকে তিন মাস জেলার বাইরে অবস্থান করে নারিকেল গাছ পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, নিজ জেলার বাহিরে কোনো এলাকায় গেলে সেখানে টানা ১০ থেকে ১২ দিন অবস্থান করে কাজ শেষ করেন। একটি গাছ পরিষ্কার করতে সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেন। তবে শহরাঞ্চলে বৈদ্যুতিক লাইনের পাশের কিংবা ময়লা-আবর্জনার মধ্যে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছে কাজ করলে গাছের মালিকরা স্বেচ্ছায় গাছপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকেন।

আহালুর দেয়া তথ্য মতে, নকলা উপজেলায় অন্তত ১২ থেকে ১৪ জন পেশাদার গাছি রয়েছেন। তাদের মধ্যে বাড়ইকান্দি গ্রামের কডা মিয়া, গফুর মিয়া ও ছাইফুল; গনপদ্দী ইউনিয়নের কিংকরপুর এলাকার ছাইদুল ইসলাম এবং মেদীরপাড়ার এলাকার হাকিম মিয়ার নাম উল্লেখযোগ্য। তাদের সবার জীবিকার প্রধান উৎস ঝুঁকিপূর্ণ এই পেশা।

স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম রেজা বলেন, ‘আহালুর সংসার ও সন্তানের পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য আয় সহজে আসে না। প্রতিটি গাছে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। তবু সংসারের প্রয়োজনে সেই ঝুঁকিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অনেকে। যদিও অনেকে এই পেশার পাশাপাশি অন্য পেশাকে বেছে নিয়েছেন।”

অন্য এক সাংবাদিক নূর হোসেন জানান, আগে নারিকেল গাছ ছিলো বেশি পক্ষান্তরে গাছির সংখ্যা ছিলো কম। স্বাভাবিক কারনেই সেসময় তাদের চাহিদা বেশি ও মজুরি বেশি ছিলো। এখন গাছ কমেছে, বেড়েছে গাছির সংখ্যা। তাই চাহিদা তুলনামূলকভাবে কমেছে, কমেছে তাদের আয়।’

গ্রামবাংলার এই গাছিদের জীবন খুব কমই আলোচনায় আসে। অথচ বাড়ির আঙিনার উঁচু নারিকেল গাছ নিরাপদ রাখা, শুকনো ডাল অপসারণ এবং ফলন ধরে রাখতে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা আর কঠোর পরিশ্রমকে সঙ্গী করেই তারা প্রতিদিন গাছের চূড়ায় ওঠেন। নিচে অপেক্ষা করে থাকে পরিবার, আর ওপরে থাকে জীবিকার সন্ধান।

ভূরদী কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্জ মো. ছায়েদুল হক জানান, আহালুর মতো নিম্ন আয়ের মানুষের এই গল্প শুধু একজন গাছির গল্প নয়; এটি গ্রামীণ বাংলাদেশের অসংখ্য নীরব শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, সাহস ও আত্মমর্যাদার গল্প। প্রতিটি গাছে ওঠার সঙ্গে তিনি যেন নতুন করে প্রমাণ করেন, জীবিকার জন্য মানুষের সাহস কতটা উঁচুতে পৌঁছাতে পারে। জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই তারা প্রতিদিন গাছের চূড়ায় ওঠেন। সেই ঝুঁকির বিনিময়েই চলে সংসার, এগিয়ে যায় সন্তানের পড়াশোনা, টিকে থাকে একেকটি পরিবার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ খান জানান, আহালুর মতো গাছিরা আছেন বলেই এখনো নারিকেল গাছ পরিষ্কার করা নিয়ে কৃষকরা চিন্তা করেন না। তানাহলে সময়মত গাছ পরিষ্কারের অভাবে ফলন কমে যেত। ফলশ্রুতিতে কৃষকরা নারিকেল গাছ রোপনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেতন। গাছিদের নিখুঁত হাতের স্পর্শে সময়মত নারিকেল গাছ যথাযথভাবে পরিষ্কারের কারনেই ফলন বাড়ছে এবং নিজেদের উৎপাদিত নারকেলে স্থানীয় চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%