ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে নিয়োগের পর নতুন শর্তে বঞ্চিত করা যাবে না : হাইকোর্ট


এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে নিয়োগের পর নতুন শর্তে বঞ্চিত করা যাবে না : হাইকোর্ট

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকালীন বিধিমালা উপেক্ষা করে নতুন কোনো শর্ত বা বিধি অতীত থেকে বলবৎ দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না, মর্মে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এমপিও সংক্রান্ত চার শিক্ষকের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে এমন যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মো. আবু হানিফ ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য শীর্ষক মামলায় হাইকোর্ট এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর জড়িত: প্রসিকিউশন

গত ৩০ জুন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। ওই মামলার মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি উর্মী রহমান।

রায় প্রদানের সময় আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আতাউর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম অলি ও মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রবিধান (রেগুলেশন ২০১৫) অনুসরণ করে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রভাষক (তৃতীয় শিক্ষক) পদে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগ পান মো. আবু হানিফসহ চারজন শিক্ষক। নিয়োগের পরদিন ৩০ ডিসেম্বর তারা প্রভাষক পদে যোগদান করেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন : হুমায়ুন কবীর

পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তারিখের এনটিআরসিএ পরিপত্রের পূর্বে বিজ্ঞপ্তিপ্রাপ্ত এবং ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক প্রকাশিত ৭২৬ জন শিক্ষকের তালিকায় তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে অনলাইন প্রক্রিয়ায় তাদের এমপিও আবেদন এই অজুহাতে নামঞ্জুর করা হয় যে, তাদের ‘NTRCA সনদ নেই’। পরে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই চার শিক্ষক উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রয়োজনে চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জনের এখতিয়ার রয়েছে, তবে তা কোনোভাবেই এর আগে চাকরিতে যোগদানকারী কর্মচারীর অর্জিত অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে না।

রায়ে নিয়োগকালীন প্রবিধানের প্রাধান্য পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত বলেছেন, ২০১৫ সালে যখন এই চার শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদের কোনো শর্ত ছিল না। ডিগ্রি (পাস) পর্যায়ের কলেজ শিক্ষকদের জন্য এই সনদের বাধ্যবাধকতা ২০১৯ সালের প্রবিধানে প্রথম জারি করা হয়।

আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে টেক সিটি গড়তে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

আদালত আরো বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ তৃতীয় শিক্ষক পদটি জনবল কাঠামোতে নেই বলে দাবি করলেও সরকার নিজেই একাধিক পরিপত্রের মাধ্যমে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

আদালত বলেন, এমপিও মঞ্জুর করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও, তা যদি যুক্তিসঙ্গত আইনি ভিত্তি ছাড়া খেয়ালখুশিমতো বা স্বেচ্ছাচারী উপায়ে করা হয়, তবে তা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

চূড়ান্ত রায়ে হাইকোর্ট এনটিআরসিএ সনদ না থাকার অজুহাতে চার প্রভাষকের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যানের অনলাইন সিদ্ধান্তকে বাতিল করে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে রিটকারী চারজনের নাম মান্থলি পে অর্ডার (এমপিও) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

রায়ে আদেশের অনুলিপি প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য সব বকেয়াসহ আর্থিক সুবিধাদি চার রিটকারীকে পরিশোধ করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জবাইয়ের চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২৯ পি.এম


ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জবাইয়ের চেষ্টা

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় সালেহ আহমেদ (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল করিম দোলন। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বরলা উত্তরপাড়া এলাকার ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সালেহ আহমেদ ওই এলাকার মৃত ছেরাজুল হকের ছেলে। তিনি পেশায় স-মিলের মিস্ত্রি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সালেহ আহমেদের গলায় আঘাত করে। এতে তার গলায় গুরুতর জখম হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

পরিবারের দাবি, রাতে একজন চোর ঘরে ঢুকে সালেহ আহমেদকে জবাইয়ের চেষ্টা করে। তবে ঘর থেকে কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল করিম দোলন আরও বলেন বলেন, আমি জেলা শহর মাইজদীতে ছিলাম। এখন আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।  

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩২ পি.এম


কুমিল্লায় পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামে হাসি বেগম নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মোসলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। রবিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসি বেগম (৩৫) ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মৃত আবদুল খালেক ভূঁইয়ার কন্যা। স্বামী মোসলেহ উদ্দিনকে পুলিশ আটক করেছে এবং তাকে থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। মোসলেহ উদ্দিন (৪৫) ওই গ্রামের মৃত রেনু মিয়ের ছেলে। তিনি গত ৩৩ বছর ধরে কুয়েতে ছিলেন, এবং ৬ মাস আগে দেশে ফিরে আসেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে, সাইমন হোসেন (১৯) এবং খাদিজা আক্তার (১৬)। সাইমন মিরপুরে জাপানি ভাষা শিখছেন, এবং খাদিজা স্থানীয় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নিহতের পরিবার জানিয়েছেন, মোসলেহ উদ্দিন প্রায়ই হাসি বেগমের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতেন, যেটি পরকীয়া এবং পারিবারিক কলহের কারণে হত। প্রতিবেশী এবং সন্তানদের বাধা দিয়েও তিনি আচরণ পরিবর্তন করতেন না। উল্লেখ্য, মারধর ও নির্যাতনের কারণে কয়েক দফা বিচার-সালিশ হয়েছে। ঘটনার দিন, দুপুরে অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন হাসি বেগমকে মারধর করে। তার মেয়ে খাদিজা স্কুল থেকে ফিরে এসে মাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

স্থানীয়রা হাসি বেগমকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসি বেগমের মেয়ে খাদিজা আক্তার বলেছিলেন, ‘আমার বাবা-মা প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ করত। বাবা মাকে মারধর করতেন, আমরা বাধা দিলেও তিনি শুনতেন না। আজকে আমি স্কুল থেকে এসে দেখি মা ঘরে পড়ে আছে। ঘরের আসবাবপত্র ওলট-পালট হয়ে আছে। মায়ের ঠোট ও মুখে রক্তের দাগ। মা মারা যাওয়ার আগে আমাকে বলেছে, আমারে খালি ঘরে পেয়ে তোর বাবা মারছে। আমি মরে গেলে তোর নানার বাড়িতে আমারে দাফন করবি। এরপর আর কিছু বলতে পারেনি। পরে প্রতিবেশীরা তাকে ধরে দেবিদ্বার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

হাসি বেগমের ছেলে সায়মন হোসেন জানিয়েছেন, ‘প্রতিবেশী কুলসুম বেগমের সঙ্গে আমার বাবার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে ঘরে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হত। কুলসুম বেগম যা বলে আমার বাবা ঘরে এসে তা-ই করে। এই কুলসুম বেগমের সঙ্গে পরকীয়ার কারণে মা বাধা দেওয়ায় মাকে মারধর করছে। আমি ঢাকায় থাকি। দুপুরে মা আমাকে ফোন করে মারধরের কথা জানালে আমি আমার এক বন্ধুকে বাড়িতে পাঠাই। সে এসে আমাকে জানায় মাকে নাকি হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আমি আসতে আসতে আমার মা মারা যায়।’

হাসি বেগমের ভাই শাহ পরান বলেছেন, ‘আমরা খবর পেয়ে বোনের বাড়িতে এসে দেখি গায়ের মারধরের দাগ। গলা ঠোট ফোলা, চোখের কোনায় রক্তের দাগ। আমার বোনকে নির্যাতন করে মারছে এটা স্পষ্ট বোঝা যায়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

অপরদিকে, অভিযুক্ত স্বামী মোসলেহ উদ্দিন মন্তব্য করেছেন, ‘দুপুরে আমার গায়ের গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই একটা চর-থাপ্পর দিয়েছি এটা সত্য কিন্তু এই চরথাপ্পরে তো আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার কথা না। আমার এই মারধরে যদি আমার স্ত্রী মারা যায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি এমন তথ্য আসে তাহলে আমার যে শাস্তি হয় আমি মাথা পেতে নেব।’

তিনি পরকিয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বলেছেন, ‘পুরো গ্রামে খবর নেন, আমার কারো সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক আছে কিনা। আমি ছয় মাস আগে কুয়েত থেকে এসেছি। আমি ৩৩ বছর কুয়েতে ছিলাম। পরকীয়ার অভিযোগ মিথ্যা।’

এদিকে, দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, ‘প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে নিহত হাসি বেগমের চোখের কোনায় ও গায়ে কিছু মারধরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহতের স্বামী মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে খুবই আন্তরিক আলোচনা হয়েছে: ভারতীয় হাইকমিশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩৮ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে খুবই আন্তরিক আলোচনা হয়েছে: ভারতীয় হাইকমিশনার

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ শেষে এ কথা ব্যক্ত করেন তিনি।

ত্রিবেদী জানান, গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন ধরনের ইস্যু থাকবে এবং ইস্যু আসবে যা সমাধান করতে হবে।

ভারতের জনগণ চায় দুদেশের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন হবে, আর আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও চান সুন্দর সম্পর্ক। ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খুব ভালো লাগলো। আলোচনা ছিল অত্যন্ত আন্তরিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪১ পি.এম


‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা’

‘‘বড় ছাওয়ালটা সাত বছর আগে চলে গেছে, এবং মেজো ছাওয়ালটি দুই বছর আগে চলে গেছে। কখনোই তারা ছুটিতে আসেনি।

ছাওয়ালটা ফোনে বলেছিল, ‘মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করব’। বাবার আর বাড়ি ফেরার সুযোগ হলো না। কি সর্বনাশ হলো বাবা আমার।’’ এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত সুমন এবং মোহনদের মা ময়না খাতুন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে মোহন ও সুমনদের বাড়িতে শোকের মাতম বইছে। এর আগে রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টায় সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই ভাই নিহত হয়েছে। পাশাপাশি, এই গ্রামের আরো দুজনও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

ময়না খাতুন বলেন, ‘‘গতকাল সকালে আমি মেজো ব্যাটার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। সে বলেছিল, ‘ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও। তুমি সুস্থ থাকো। ভাই মাল দিতে গেছে, মাল দিয়ে আসবে’। কিন্তু যখন আগুন লাগছে, তখন ফায়ার সার্ভিস আসছিল না।

তখন ছাওয়াল ভয়েস মেসেজ পাঠায়। সে বলেছিল, ‘মাগো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।’’’

তিনি আরো বলেন, ‘হামার দুই বাবা হামার বুকে আনা দেও বাবা। আমার বাবাকোক দেখে আমি কলিজা শান্তি করমু বাবা। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে এনে দে বাবা রে...। মোহন বলছিল, ‘এসে বিয়া করমু মা। মেয়া-টিয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু মা।’

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের রিয়াদের ওই সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন- বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের গাফফফার প্রামাণিকের ছেলে মহন প্রামানিক ও সুমন প্রামাণিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) ও ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%