০৪:২২ পি.এম
ঢাকায় গভীর রাত একসময় ছিল ছিনতাই, চুরি অথবা হামলার আতঙ্ক। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর ও কামরাঙ্গীরচরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চলাচল কমে যেত, এবং অপরাধের শঙ্কা বাড়ত। তবে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রাজধানীতে দেখা গেছে এক নতুন দৃশ্য। রাতের খেলা দেখতে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে, আর এর ফলে রাস্তার অপরাধও কমেছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি, হামলা এবং ডাকাতির অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিছু থানার কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, জুন মাসে তাদের এলাকায় ছিনতাই কিংবা ডাকাতির কোনো মামলা হয়নি।
বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অধিকাংশ সময় গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে। এসব স্থানে রাতভর মানুষের ভিড় রয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও টহল জোরদার করেছে। ফলে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে রাত ১২টার পর বের হতে ভয় লাগত। এখন দেখি ভোর ৪টা পর্যন্ত মানুষ চায়ের দোকানে, মাঠে বা বড় পর্দার সামনে খেলা দেখছে। রাস্তাও অনেক বেশি সচল মনে হয়।”
আদাবরের এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের সময় এলাকায় মানুষের আনাগোনা এত বেশি যে অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “অপরাধীরা সাধারণত নির্জন জায়গা খোঁজে। এখন রাতেও তেমন নির্জনতা নেই।”
আরো অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে শুধু দর্শকের ভিড়ই নয়, বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি নজরদারিও বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলা দেখার ভেন্যুগুলোতে এবং আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বেচ্ছায় নিরাপত্তা নজরদারিতে যুক্ত হচ্ছেন।
তবে এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতাও রয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অপরাধ কমার চিত্রটি বিশ্বকাপ-নির্ভর একটি সাময়িক প্রবণতা হয়ে থাকতে পারে। কারণ, সংঘবদ্ধ অপরাধীরা পরিস্থিতি বুঝে তাদের কার্যক্রমের সময় ও কৌশল পরিবর্তন করতে পারে।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক
একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “মানুষের উপস্থিতি এবং পুলিশের দৃশ্যমান টহল অপরাধ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশ্বকাপ সেটি প্রমাণ করেছে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর যদি একই মাত্রার নজরদারি ও জনসম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলে পুরোনো অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বকাপ চলাকালে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। জনসমাগম, কমিউনিটি নজরদারি এবং নিয়মিত টহল একসঙ্গে কাজ করলে নগর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভালো ফলাফল হতে পারে।
বিশ্বকাপের উন্মাদনা শেষ হলে অপরাধের চিত্র কেমন দাঁড়াবে, সেটি এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আপাতত ফুটবলের রাতগুলো রাজধানীর অনেক বাসিন্দার কাছে শুধুমাত্র বিনোদনের নয়, বরং নিরাপত্তার নতুন এক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন