ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বড় আশা নিয়ে গিয়েও ফিরতে হলো খালি হাতে


বড় আশা নিয়ে গিয়েও ফিরতে হলো খালি হাতে

 

স্পেনের উত্তর আফ্রিকীয় ছিটমহল সেউতার সীমান্তে গত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটে বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করলে সীমান্তে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজবের জেরে এই বিশাল জনস্রোত তৈরি হয়েছিল।

মরক্কো থেকে সেউতা অভিমুখে এই আকস্মিক অভিবাসী যাত্রার পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল সামাজিক মাধ্যমের কিছু ভুল বার্তা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে বহু মানুষ সাঁতার কেটে কিংবা মরক্কোর দিক থেকে বিভিন্ন যানবাহনে চেপে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। অনেকের মধ্যে অনেকে মাস ধরে সাঁতার শিখেছিলেন এবং ফেসবুকে সাঁতারের পোশাক বা ফ্লিপার বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। এমনকি গুগল ম্যাপের স্ক্রিনশট এবং আরবি ভাষায় সমুদ্রের অবস্থার বিবরণ শেয়ার করে সেউতার তরাইয়াল সৈকতে পৌঁছানোর দিকনির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রবল স্রোত এবং হঠাৎ তৈরি হওয়া এই বিশাল জনস্রোতের কারণে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ে অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে। মরক্কো ও সেউতার মধ্যকার সরাসরি সমুদ্রপথটি খুব একটা দীর্ঘ নয়, তথাপি প্রবল স্রোত, দীর্ঘ সময় ধরে পানিতে থাকার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বহু মানুষ চরম বিপদে পড়েন।

অভিবাসীরা যখন সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বা স্থলপথে সেউতার অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পৌঁছান, তখন তারা সেখানে চরম অব্যবস্থাপনা দেখতে পান। খাদ্য সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আশায় আসা মানুষগুলো দেখতে পায় যে অভ্যর্থনা কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। কোনো ধরনের সহায়তা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ার কারণে সেউতা জুড়ে বৃহস্পতি ও শুক্রবার তুমুল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে শত শত মানুষ পায়ে হেঁটে, গাড়িতে কিংবা বড় বড় যানে চড়ে এমনভাবে প্রবেশ করেন যে সেখানে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিজেই পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে সেউতা সফর করেন এবং এই পুরো সংকটের জন্য মানব পাচারকারী চক্রগুলোকে তীব্রভাবে দায়ী করেন।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, গত জুনে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের অত্যন্ত স্বার্থপর ও ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিয়েছিল পাচারকারীরা, যা দাবানলের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জুনের সেই রায়ে বলা হয়েছিল যে মেলিলা বা সেউতাে পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সাগরে আটক অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।

আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

তবে এই ঘটনার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেউতার এই অভিবাসী সংকটের জেরে ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্ডার-মুক্ত শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, স্পেনের পক্ষ থেকে ইইউ-এর কিছু সদস্য রাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত স্বার্থপর, মেরুকরণকারী এবং বেআইনি বলে নিন্দা জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিই ভবিষ্যৎ: প্রিন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ পি.এম


টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিই ভবিষ্যৎ: প্রিন্স

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি-এই তিনটি বিষয় বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে অত্যন্ত গভীরভাবে সম্পর্কিত। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় সৌরশক্তিই হতে পারে সর্বাধিক কার্যকর এবং সম্ভাবনাময় জ্বালানির উৎস।

তিনি শনিবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে সৌর পাম্প-চালিত সেচ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা : হাওর অঞ্চলে বোরো ধান চাষের ওপর একটি কেস স্টাডি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এমরান সালেহ প্রিন্স আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য হাওর অঞ্চলের বোরো ধান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ডিজেলনির্ভর সেচ ব্যবস্থার কারণে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সৌর পাম্প-চালিত সেচ ব্যবস্থা হাওর অঞ্চলে বোরো ধান চাষে অসাধারণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যার প্রধান সুফল হলো জ্বালানি খরচ কমানো, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাবে, ডিজেলের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করবে, কার্বন নিঃসরণ কমাবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াবে। একইসঙ্গে এটি কৃষকের লাভজনকতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। এ অবস্থায় সৌর পাম্প-চালিত সেচ ব্যবস্থা কৃষির জন্য একটি যুগোপযোগী, পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে। তবে উচ্চ স্থাপন খরচ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং পর্যাপ্ত আলোর ঘাটতির মতো কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি তেলের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেচ ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের জন্য প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে ব্যয় করা হয়। অথচ আমাদের দেশে বছরের অধিকাংশ সময় পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। যদি আমরা এই প্রাকৃতিক সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং একটি পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সৌরশক্তির প্রসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিনিয়োগ, সহজ অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে সৌর পাম্পভিত্তিক সেচ ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, টেকসই কৃষি এবং মানবিক উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। গবেষণালব্ধ তথ্য ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা গেলে হাওর অঞ্চলের কৃষি আরও লাভজনক, উৎপাদনশীল এবং পরিবেশবান্ধব হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ মানেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষির আধুনিকায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগ।

এদিকে, আজ সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ময়মনসিংহ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জেলা রেড ক্রিসেন্টের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন।

এ ছাড়া দুপুরে ময়মনসিংহ সুইমিংপুলে জন অ্যামোস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন এমরান সালেহ প্রিন্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতান্ত্রিক সরকারের ব্যর্থতায় ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারে: অধ্যাপক নার্গিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


গণতান্ত্রিক সরকারের ব্যর্থতায় ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারে: অধ্যাপক নার্গিস

জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তবে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন, আজ তাদের দেখা যাচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন এবং অশালীন বক্তব্য দিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) যশোরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত ‘অপপ্রচার ও শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতিবিরোধী যুব সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশের আয়োজন করে জেলা যুবদল।

অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, তারেক রহমান ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও শূন্য রাজকোষের দায়িত্ব নিয়ে জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। কিন্তু কিছু ব্যক্তি শুরু থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য ও হুংকার দিচ্ছেন। তারা ফ্যাসিস্ট ও অর্থপাচারকারীদের বিচার নিশ্চিতের কথা বলছেন না। বিএনপির দীর্ঘ লড়াই ও ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি নেতাকর্মীদের সব ধরনের বিভ্রান্তি ও অরাজকতা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানার পরিচালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শামসুজ্জোহা সুমন এবং স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বস্তির আড়ালেও গাজায় কাটছে না আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


স্বস্তির আড়ালেও গাজায় কাটছে না আতঙ্ক

গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মাঝে হামাসের সম্ভাব্য নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, হামাস একটি নতুন রোডম্যাপের আওতায় নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে। এই বিষয়ে হামাসও সম্মতির কথা জানিয়েছে।

 

তবে গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সাথে সাথে রয়েছে একটি গভীর সংশয়। তাদের আশঙ্কা হল, হামাস অস্ত্র পরিত্যাগ করলেও ইসরায়েল হয়তো তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং সংঘাতের অবসানও ঘটবে না।

 

গাজার বাসিন্দারা বলছেন, তারা আগেও বহুবার যুদ্ধ বন্ধের এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। কিন্তু বাস্তবে, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও স্থায়ী শান্তির দিকে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বহু মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় শরণার্থী শিবির বা অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে। খাদ্য ও ওষুধের সংকটের পাশাপাশি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগবালাই শ্রীদ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

 

একজন আহত গাজাবাসী এপিকে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক আলোচনা বা অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের চাইতে, তাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে নিরাপত্তা, খাদ্য এবং চিকিৎসা। মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি না হলে, কোনো চুক্তিই তাদের কাছে অর্থবহ হবে না।

 

নতুন প্রস্তাবিত রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে, হামাসের অস্ত্র একটি নতুন টেকনোক্র্যাটিক সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এতে উল্লেখ রয়েছে যে, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকবে না এবং এই পুরো প্রক্রিয়া চলাকালে ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে হবে, যাতে পুনর্গঠন এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়।

 

তবে গাজার অনেক বাসিন্দা মনে করছেন, হামাস এবং ইসরায়েল উভয় পক্ষই অতীতে চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও কেউ কেউ হামাসের অস্ত্র একসময় পরিত্যাগের পক্ষে মত দিয়েছেন, তবুও তারা বিশ্বাস করেন যে, এটি সহজে বাস্তবায়ন হবে না।

 

অন্যদিকে, অনেক ফিলিস্তিনি মনে করেন, ইসরায়েল গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার নীতি থেকে সরে আসবে না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নতুন নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ করেছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা খালি করে সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ফলে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছে না।

 

ইসরায়েল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন রোডম্যাপ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবটির কিছু বিষয় ইসরায়েলের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে গাজার নির্দিষ্ট নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং বহু মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়। এরপর শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানকে সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য মনে করে, তবে নিহতদের মধ্যে বেসামরিক এবং যোদ্ধাদের আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।

 

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েও গাজার অনেক মানুষের একটাই স্বপ্ন, একদিন তারা নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়া সম্ভব করবে। বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেলেও তারা বিশ্বাস করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে নতুন করে জীবন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এএসআই পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা, গ্রেফতার ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ পি.এম


এএসআই পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা, গ্রেফতার ৪

রংপুর জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে ক্যাডেট এএসआई (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী এবং রংপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালকসহ দালাল চক্রের ৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রংপুর জেলা ডিবি পুলিশ মহানগরীর হনুমানতলা এবং জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী ও দালাল চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করে। অভিযানের সময় পুলিশ তাদের হেফাজতে থাকা ভুয়া প্রবেশপত্র, অর্থের লেনদেনের বিভিন্ন স্ক্রিনশট এবং বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করে।

শনিবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত ৪ জনের মধ্যে তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার মো. আশরাফুল ইসলাম (২১), রংপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮), দিনাজপুর বোচাগঞ্জের মো. তাজমিলুর রহমান (১৯), এবং নীলফামারী সদরের মো. নুরুল ইসলাম (৪৬)। এর মধ্যে নুরুল ইসলামকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং রবিবার আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার মো. আশরাফুল ইসলামকে ১টি জাল প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের ফেইস ডিটেকশন পয়েন্টে প্রবেশ করার সময় সন্দেহ হলে যাচাই-বাচাই করার জন্য তাকে পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজের একাডেমিক ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে প্রবেশপত্রটি ভুয়া এবং তার সাথে আরও ৩ জন জড়িত রয়েছে। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ পলাতক ৩ জনকে গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মেট্রোপলিটনে একটি মামলা করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানায় মামলা করেছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি নাজমুল কাদের জানান, তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজাতে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা থেকে গ্রেফতার নুরুল ইসলামকে সন্ধ্যায় হস্তান্তর করায় তাকে রবিবার আদালতে পাঠানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%