প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি-এই তিনটি বিষয় বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে অত্যন্ত গভীরভাবে সম্পর্কিত। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় সৌরশক্তিই হতে পারে সর্বাধিক কার্যকর এবং সম্ভাবনাময় জ্বালানির উৎস।
তিনি শনিবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে সৌর পাম্প-চালিত সেচ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা : হাওর অঞ্চলে বোরো ধান চাষের ওপর একটি কেস স্টাডি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এমরান সালেহ প্রিন্স আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য হাওর অঞ্চলের বোরো ধান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ডিজেলনির্ভর সেচ ব্যবস্থার কারণে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সৌর পাম্প-চালিত সেচ ব্যবস্থা হাওর অঞ্চলে বোরো ধান চাষে অসাধারণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যার প্রধান সুফল হলো জ্বালানি খরচ কমানো, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাবে, ডিজেলের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করবে, কার্বন নিঃসরণ কমাবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াবে। একইসঙ্গে এটি কৃষকের লাভজনকতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। এ অবস্থায় সৌর পাম্প-চালিত সেচ ব্যবস্থা কৃষির জন্য একটি যুগোপযোগী, পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে। তবে উচ্চ স্থাপন খরচ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং পর্যাপ্ত আলোর ঘাটতির মতো কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি তেলের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেচ ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের জন্য প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে ব্যয় করা হয়। অথচ আমাদের দেশে বছরের অধিকাংশ সময় পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। যদি আমরা এই প্রাকৃতিক সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং একটি পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সৌরশক্তির প্রসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিনিয়োগ, সহজ অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে সৌর পাম্পভিত্তিক সেচ ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, টেকসই কৃষি এবং মানবিক উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। গবেষণালব্ধ তথ্য ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা গেলে হাওর অঞ্চলের কৃষি আরও লাভজনক, উৎপাদনশীল এবং পরিবেশবান্ধব হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ মানেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষির আধুনিকায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগ।
এদিকে, আজ সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ময়মনসিংহ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জেলা রেড ক্রিসেন্টের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন।
এ ছাড়া দুপুরে ময়মনসিংহ সুইমিংপুলে জন অ্যামোস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন এমরান সালেহ প্রিন্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন