বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৩৬ এম
মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টগুলো ইরানকে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে সহায়তা করছে বলে সতর্ক করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। এই কারণে, অঞ্চলটিতে মোতায়েন কিছু সেনার কাছ থেকে মোবাইল ফোন জমা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রয়টার্স।
রয়টার্সের হাতে আসা একটি চিঠিতে কুপার সেনাদের অপারেশনাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সেনাদের প্রকাশ করা ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে ইরান হামলার সফলতা অথবা ব্যর্থতা দ্রুত মূল্যায়ন করতে সক্ষম হচ্ছে।
চিঠির মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন, উন্মুক্ত তথ্যের মাধ্যমে ইরান কার্যত হামলার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে হামলার পরিকল্পনায় কাজে লাগতে পারে।
কুপার ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলার সময়ের একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। সে সময়ে এক মার্কিন সেনা স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে সেটি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তার অবস্থান ও আশ্রয় নেওয়ার স্থানও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।
রয়টার্সের দুটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে মোতায়েন কয়েকজন মার্কিন সেনাকে শিগগিরই মোবাইল ফোন জমা দিতে বলা হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থা পুরো অঞ্চলে কার্যকর করা হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
সোর্স: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে সর্বভারতীয় নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা নজিরবিহীন ছাত্র-যুব আন্দোলনের মুখে, দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই আন্দোলনের প্রকৃত প্রভাব একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে সীমাবদ্ধ নয়। বরং, এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ‘অপরাজেয়’ ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, মোদির ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক অপূর্বানন্দের লেখা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারতের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সে কারণে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের চেয়ে মোদির রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। টানা এক দশকের বেশি সময় ধরে মোদিকে ঘিরে যে ‘অলৌকিক’ এবং ‘অধরা’ ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল, তরুণদের প্রতিবাদ, ব্যঙ্গচিত্র এবং উপহাসে তা ভেঙে পড়তে শুরু করেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ ও প্রতিবাদের নতুন ভাষা
বিশ্লেষণে বলা হয়, আন্দোলনের পেছনে শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম নয়, তরুণদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও সামাজিক অবমূল্যায়নও কাজ করেছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির বেকার তরুণদের ‘কাকরোচ’ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে করা মন্তব্যের জবাবে আন্দোলনকারীরা ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) গড়ে তোলেন। তারা হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড, পিচবোর্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মিমের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ভাঙল ভয়
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, মূলধারার গণমাধ্যম যখন সরকারের প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন সাধারণ তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই তাদের প্রধান রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করেন। ২০ জুলাই, পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করলেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেনি। পরে, প্রধানমন্ত্রী মোদি তরুণদের ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করলে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জবাব দেন, ‘আমরা আপনার বন্ধু নই।’ বিশ্লেষণে বলা হয়, এই প্রতিক্রিয়াই মোদিকে ঘিরে তৈরি কর্তৃত্বের ভাবমূর্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।
ভারতের রাজনীতিতে নতুন বার্তা
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে জনগণের ভয় এবং অন্ধ আনুগত্যের ওপর। দিল্লির যন্তর মন্তরে তরুণদের আন্দোলন সেই ভয় ভাঙার প্রতীক হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছেড়ে গেলেও তারা যে প্রতিবাদের ভাষা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরী করেছে, তা সহজে মুছে যাওয়ার নয়। বিশ্লেষণের মতে, ভারতের তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে, শাসক যত শক্তিশালীই হোক, জনগণের সোচ্চার কণ্ঠের কাছে শেষ পর্যন্ত তাকে জবাবদিহি করতেই হয়।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার, তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত সার্জিও গর। কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে সফরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান এবং ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, সফরের প্রথম দিনে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়েরও সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের শেষ দিনে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন।
কূটনৈতিক সূত্র মতে, সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান অগ্রাধিকার, চীন, ভারত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোচনা করা হবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেতে পারে।
জেনেভায় জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ সুফিউর রহমান মন্তব্য করেন, নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অভিমুখ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতেই সার্জিও গরের এই সফর। তাঁর মূল্যায়ন হবে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশ নিয়ে একটি প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, বিশেষ দূত হিসেবে সার্জিও গরের প্রথম বাংলাদেশ সফর দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা সার্জিও গরকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ওই পদে নিয়োগের পর থেকেই তিনি ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এ বছরের জানুয়ারিতে তিনি দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ শুরু করেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এই বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর নিয়োগকে অর্থনৈতিক অংশীদারি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামের কামরুজ্জামান। ২০২৪ সালে ১৫ লাখ টাকায় তাঁকে ইতালি পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু তার পরিণতি ছিল এক ভয়াবহ মানব পাচারকারী চক্রের হাত থেকে জিম্মি হওয়া।
পাচারকারী চক্রের হাতে কামরুজ্জামানকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে জিম্মি করে আদায় করা হয় আরো ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ। সম্প্রূক্তিপণসহ সব মিলিয়ে ওই চক্র থেকে তাঁর কাছে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্বপ্নের দেশ ইতালিতে পৌঁছানোর সুযোগ আর হয়নি।
একইভাবে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা ইমরান হোসেনও মানব পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়তেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাচারকারী চক্র তাঁকে প্রথমে বিমানে কুয়েতে পাঠায়, পরে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। পাচারকারীদের হাতে তিনি প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। পরে তাঁকে লিবিয়ায় জিম্মি করে পা ফুটো করার মতো নির্যাতন করে আদায় করা হয় ১৯ লাখ টাকা।
জিম্মি দশায় এক বছর নির্যাতনের পর আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাহায্যে দেশে ফিরতে সক্ষম হন ইমরান। কামরুজ্জামান বা ইমরান হোসেনের মতো হাজারো যুবক মানব পাচার চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে। একটি গবেষণা অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৩০ হাজার যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাচারকারীরা লিবিয়ায় নিয়ে যায়। হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণ বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
সম্প্রতি ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জার্মানির ‘রবার্ট বোশ স্টিফটুং’ ফাউন্ডেশন 'মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টার (এমএমসি)' আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে লিবিয়া হয়ে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ইতালি যাওয়ার পেছনে গা-ভর্তি অর্থের লেনদেনের তথ্য তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ১৪ হাজার বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছান। পাচারকারী চক্র দ্বারা আদায় করা অর্থের মূল্য ছিল ১৬০ থেকে ১৯০ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের মতে, প্রতিবছর গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় যাবার চেষ্টা করে। তাঁদের মধ্যে কিছু অংশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালি পৌঁছান, বাকিরা লিবিয়ায় জিম্মি থেকে দেশে ফিরে আসেন।
লিবিয়ার বন্দি বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সম্প্রতি তারা ১৭৪ জন বন্দিকে দেশে ফিরিয়ে আনে। এছাড়া এমএমসির তথ্যানুযায়ী, পাচারকারী চক্র আরো বেশি সংগঠিত হয়ে উঠেছে। তারা সামাজিক অনুষ্ঠান বা চায়ের দোকানে নির্দিষ্ট লোকদের টার্গেট করে সখ্য গড়ে তোলে।
পাচারকারী চক্র নানা ধরনের ‘প্যাকেজ’ অফার করে, যেমন স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজ এবং অল-ইনক্লুসিভ প্যাকেজ। কিন্তু বাস্তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও লিবিয়ায় জিম্মি হতে হয়। বিগত সময়ে যে যুবকরা ইতালির উদ্দেশে দেশ ছাড়ছেন, তাঁদের মাত্র ৩০ শতাংশ সফল হয়ে ইতালি পৌঁছান।
এমএমসির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কিছু সুপারিশ রয়েছে, যেমন মানব পাচারকারী রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে যারা পাচার বিজ্ঞাপন দেয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখায় পাচারচক্র ভাঙার উদ্যোগ নেয়া।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মানবপাচার রোধে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতালিতে মানব পাচার কমেছে এবং আরো কমানোর চেষ্টা চলছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কওমি মাদ্রাসা-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, ফ্যাক্ট-চেক, তদারকি কার্যক্রম জোরদার এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশেষ হটলাইন চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ থেকে এসেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে ‘কওমি মাদ্রাসা বিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আল-হাইআতুল উলয়ার করণীয়’ শীর্ষক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ প্রসঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু. অছিউর রহমানের পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সভাটি আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশক্রমে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান, বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা সাজিদুর রহমান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক চরিত্র গঠন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে কওমি মাদরাসার দীর্ঘদিনের অবদান আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সমগ্র কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং কওমি মাদরাসা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে বলে সভা থেকে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে।
সভায় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয় যে, কোনো সংবাদ, ভিডিও, বক্তব্য অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রহণ বা প্রচার করা উচিত নয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ এবং তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানানো হয়ে।
সভায় বক্তারা বলেন যে, কোনো অপরাধ, অনিয়ম কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা উদ্বেগের আশঙ্কা প্রকাশ করে।
এই সভায় কওমি মাদরাসা-সংক্রান্ত অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট গ্রহণের জন্য ০১৭০০-৭৬৩১৭৮ নম্বরে (হোয়াটসঅ্যাপ) একটি বিশেষ হটলাইন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ নম্বরের মাধ্যমে মেসেজ, ভয়েস কল, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠানো যাবে।
সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি বোর্ডের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি বোর্ড নিজ নিজ অধিভুক্ত মাদরাসাসমূহের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথক ‘মাদরাসা মনিটরিং সেল’ গঠন করবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাদরাসা পরিদর্শন ও মনিটরিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কওমি মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদান ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি ‘লিগ্যাল প্যানেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গঠিত কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’র সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আল্লামা সাজিদুর রহমান, আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা মুহসিন শরীফ এবং মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ