০৮:০৯ পি.এম
নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস, জুতা, মোজা ও ব্যাগ বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। শিক্ষার্থীপ্রতি বছরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৫০ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল ড্রেসের জন্য ৬০০ টাকা, ব্যাগের জন্য ৬০০ টাকা, জুতার জন্য ৭০০ টাকা এবং মোজার জন্য ৫০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দরপত্রের মাধ্যমে কেনাকাটা করার সময় ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পুষ্টির নিশ্চয়তা দিতে মিড-ডে মিল কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। আগামী বছর থেকে পর্যায়ক্রমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার। তবে প্রথম বছরে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব উপকরণ বিতরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। পরবর্তী বছরগুলোতে স্কুল খোলার সময় এসব উপকরণ বিতরণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যুগান্তরকে এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পোশাক ও অন্যান্য উপকরণের জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ১ হাজার ৯৫০ টাকা বরাদ্দের হিসাবটি এক বছরের জন্য। তবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) প্রকল্পের আওতায়। এটি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ব্যয়; প্রকৃত ব্যয় দরপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। পিইডিপি-৫ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: হাসিনার কাছে জানতে চাইলেন রিজভী
তিনি আরও জানান, স্কুল ড্রেসের মান, রং, কাপড় ও শিক্ষার্থীদের বয়স-শ্রেণি অনুযায়ী মাপ নির্ধারণের জন্য বিজিএমইএ, বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাইলট কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই লাখ ইউনিফর্ম সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি বাটা ও অ্যাপেক্সসহ বড় জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ হাজার জুতা দিয়েছে। এসব উপকরণের মান ও উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর জন্য একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাসিক সর্বোচ্চ বেতন ৫ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। পাঁচ বছরে এই খাতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চার থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের কাছ থেকে সব সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার সচেতনতা আশা করা যায় না। বিদ্যালয়ের শৌচাগার ও পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন। শিক্ষকদের দিয়ে বাথরুম পরিষ্কার করানো কিংবা শিক্ষার্থীদের অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার ব্যবহারে বাধ্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনীয়তা ও হিসাব বিবেচনা না করে এ ব্যয়কে অপচয় বলা ঠিক হবে না।
পিইডিপি-৫ প্রকল্পের ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথমে প্রকল্পটির ব্যয় ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ধরা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। পিইডিপি-৪ গত জুনে শেষ হয়েছে। এরপর জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি পিইডিপি-৫ চালুর পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্পের কিছু খাত বাদ দেওয়া এবং অন্য প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার কারণে ব্যয় কমেছে।
আগামী ২৪ ডিসেম্বর প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইও বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ফল নিতে এসে পরবর্তী বছরের বই নিয়ে যেতে পারবেন।
আরও পড়ুন: যশোরে রঞ্জন মন্ডলকে ইঞ্জেকশন পুশ করে হত্যা, মরদেহ নদীতে ফেলা
তবে ইউনিফর্ম, জুতা, ব্যাগসহ অন্যান্য উপকরণ একই সময়ে বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক কোটির বেশি শিক্ষার্থীর জন্য পোশাক ও জুতার মাপ, মানসহ নানা বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমবার এত বড় পরিসরে কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন। তারা তাড়াহুড়া করে ত্রুটিপূর্ণ উপকরণ দিতে চান না। আগামী বছর এগুলো সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৫০টিতে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতেও তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রান্না করা খাবার ও কুপনের মাধ্যমে খাবার দেওয়ার দুটি প্রস্তাব এসেছে। দেশব্যাপী চালুর আগে পদ্ধতি দুটি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। ফলাফল পর্যালোচনা করে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শুধু খাবার দেওয়া নয়, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য। বিদ্যালয়ের খাবার থেকে শিশুর দৈনিক পুষ্টির চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের চাহিদা বিবেচনায় খাবারের তালিকা করা হয়েছে। রান্না করা খাবারে স্থানীয় সবজি, মাছ, মাংস ও ডিম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: মাকে নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার স্বাগত মিছিল রাজবাড়ীতে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন