ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের জন্য পিকেএসএফ-এর ২,৫০০ কোটি টাকা বিতরণ


নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের জন্য পিকেএসএফ-এর ২,৫০০ কোটি টাকা বিতরণ

ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

‘কুটির শিল্প ও মাইক্রো খাতের উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য বিশেষ তহবিল (সোপান)’ কর্মসূচির অধীনে পিকেএসএফ ১০১টি সহযোগী সংস্থার জন্য এই অর্থ ছাড় করেছে। মাঠপর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মধ্যে ১ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। উপকারভোগীদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ নারী।

এই কর্মসূচিটি দেশের ৬৪ জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঋণ প্রদান করা হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন, সেবা এবং ভ্যালু চেইন অর্থায়ন—এই চারটি উপখাতে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং বিদ্যমান ক্ষুদ্র উদ্যোগের সম্প্রসারণের পাশাপাশি উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে অর্থায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভোলার সুপারি বাগান থেকে সেলিমের মরদেহ উদ্ধার

গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগণের মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরি, নারী ও তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং কৃষিভিত্তিক ও অকৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। একইসাথে ক্ষুদ্র উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থার ব্যবসা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক পিকেএসএফের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ অনুমোদন করেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকাসহ এ পর্যন্ত তিন ধাপে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পাওয়ার কথা রয়েছে।

পিকেএসএফ জানিয়েছে, অনুমোদিত পুরো অর্থ আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে উদ্যোক্তা পর্যায়ে বিতরণ করা হবে। ঋণ বিতরণের

আরও পড়ুন: নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অধিকার নিশ্চিতের জন্য ৫ দফা দাবি উত্থাপন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেবিদ্বারে বিএনপির পাল্টাপাল্টি সভা, এমপি রাশেদা বেগম হীরার গাড়িবহরে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ পি.এম


দেবিদ্বারে বিএনপির পাল্টাপাল্টি সভা, এমপি রাশেদা বেগম হীরার গাড়িবহরে হামলা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কুমিল্লার দেবিদ্বারে উপজেলা বিএনপি এবং বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পাল্টাপাল্টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দেবিদ্বারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি রাশেদা বেগম হীরার গাড়িবহরে হামলা এবং এক বিএনপি নেতার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

বিএনপির সভায় কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন, তবে মঞ্জুরুলের সভায় তৃণমূলের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। সভা শেষে ফেরার পথে এমপি রাশেদা বেগম হীরার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে এবং বিএনপি নেতার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

রোববার বিকেলে দেবিদ্বার পৌর এলাকার রেয়াজ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় মাঠ ও রহমানিয়া সুপার মার্কেটের সামনে পৃথকভাবে দুটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুই সভায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। উপজেলা বিএনপির সভায় কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকলেও তৃণমূলের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলক কম। অন্যদিকে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ডাকে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

এদিকে, সভা শেষে ফেরার পথে দেবিদ্বারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় গুলশান থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল খানের গাড়ির সামনের গ্লাস ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।

উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন, গুলশান থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল খান, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসেম, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনসহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ডাকে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাগম ঘটে। এতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ব্যারিস্টার রেজভীউল আহসান মুন্সী, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সদস্য মাজেদা আহসান মুন্সী, সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী, সদ্য অব্যাহতি পাওয়া দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, সাবেক আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন, সদস্যসচিব কাজী মাসুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আলোচনা সভা শেষে মিছিল নিয়ে ফেরার পথে মঞ্জু ভাইসহ আমরা সবার পেছনে ছিলাম। সামনে কী হয়েছে, তা বলতে পারি না।

গুলশান থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল খান বলেন, ‘অনুষ্ঠান শেষে ঢাকায় ফেরার পথে পৌর এলাকার চান্দিনা রোডের সামনে আমার গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা করা হয়, এতে আমার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেন্দ্র থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি দলের নির্দেশে থানায় মামলা দায়ের করব।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সময় আমি উপস্থিত থাকলেও কোনোভাবে উত্তেজিত যুবকদের আটকানো যায়নি, কেউ একজন থাপ্পড় দিয়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে ফেলে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে নিহত জামশেদের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা সহায়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ পি.এম


ঢাকায় গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে নিহত জামশেদের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা সহায়তা

ঢাকায় অনুষ্ঠিত গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে নিহত জামশেদ আলীর পরিবারকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দেওয়া হয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী নিহত জামশেদের স্ত্রীর হাতে এই অর্থ তুলে দেন।

জামশেদ আলী বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানীপাড়া ইউনিয়নের দফাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের প্রবেশপথে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সারাদেশের গ্রাম পুলিশের সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মহাসমাবেশে যোগ দিতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বদরগঞ্জ উপজেলা থেকে ৮৪ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তাদের মধ্যে জামশেদ আলীও ছিলেন।

শনিবার সকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। এ সময় প্রবেশপথের কাছাকাছি পৌঁছালে জামশেদ আলী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জামশেদ আলীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামপুলিশসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক কপিল মন্ডলের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৯ পি.এম


ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক কপিল মন্ডলের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় বাসের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে, যার নাম কপিল মন্ডল (৪০)। রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মৃত কপিল মন্ডল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার আগদিয়া গ্রামের বাসিন্দা কালিপদ মন্ডলের পুত্র।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সূত্রে জানা যায়, কপিল মন্ডল মোটরসাইকেল চালিয়ে ভাঙ্গা থেকে তার নিজ বাড়ি মুকসুদপুরের আগদিয়া গ্রামে ফিরছিলেন। বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছানোর পর, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাতপরিচয় বাস তার মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এই সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং কপিল মন্ডল গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাসটির পরিচয় শনাক্তের জন্য চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে বিএনপি নেতা নাসিমের উদ্যোগে ২৩ বছর পর মুক্তি পেলেন চা-শ্রমিক রাজু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ পি.এম


সিলেটে বিএনপি নেতা নাসিমের উদ্যোগে ২৩ বছর পর মুক্তি পেলেন চা-শ্রমিক রাজু

সিলেটে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চা-শ্রমিক নাইটু রাজু মুণ্ডার (৫০) হত্যার মামলায় দণ্ডিত হয়ে ছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন। তার ২৩টি বছর কারাগারের চার দেয়ালে কেটে গেছে। সম্প্রতি সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে তার কারাদণ্ড মওকুফ হয়। তবে মুক্তির পথে ৫০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তার পরিবারের পক্ষে এই অর্থ পরিশোধের সামর্থ্য ছিল না।

দীর্ঘ সময় কারাভোগের পরও মুক্তির পথে ৫০ হাজার টাকার বাধা উঠে আসে জেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা তৈমুর হোসেন চৌধুরী সভায় বিষয়টি তুলে ধরেন। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থদণ্ডের ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। তার দেওয়া টাকায় রাজুর মুক্তির পথ খুলে যায়। নাসিম হোসাইনের মানবিক উদ্যোগ জনমনে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রাজু আজ রবিবার (৮ নভেম্বর) সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে মুক্তি পান। দীর্ঘ ২৩ বছর পর কারাগারের ফটক পেরিয়ে বাইরের পৃথিবীতে পা রাখার মুহূর্তটি তার জীবনে নতুন এক অধ্যায়। মুক্তির পর প্রবেশন কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেল সুপারের উপস্থিতিতে রাজু আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি নাসিম হোসাইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলেননি।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক জানান, নাইটু মুণ্ডা রাজু ২০০৩ সাল থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন। জেল কোডের ৫৬৯ বিধান অনুযায়ী, ২০ বছর সাজা ভোগ করলে মানবিক দিক বিবেচনায় সাধারণ মুক্তির সুযোগ রয়েছে। সেই অনুযায়ী আবেদন করার পর রাজুর মুক্তির আদেশ আসে। তবে অর্থদণ্ডের ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ না হওয়ায় তার মুক্তি আটকে ছিল। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি অর্থের সংস্থান করতে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন।

অবশেষে অর্থদণ্ড পরিশোধের ব্যবস্থা হওয়ায় রাজুকে মুক্তি দেওয়া হয়। প্রবেশন কর্মকর্তা তৈমুর হোসেন চৌধুরী জানান, মানবিক কারণে রাজুর জন্য তিনি একজন দাতা খুঁজছিলেন। জেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে নাসিম হোসাইন ৫০ হাজার টাকা দিতে সম্মত হন। সভা শেষে টাকা পাঠিয়ে দ্রুত রাজুর মুক্তির ব্যবস্থা করতে বলেন। তিনি আরও জানান, নাসিম হোসাইনকে কারাগারের ফটকে আসার অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সেখানে আসতে চাননি। তার কথা ছিল, দ্রুত যেন রাজুর মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। মুক্তির পর রাজুকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং রাজুও তার সঙ্গে কথা বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বাসিন্দা রাজু মুণ্ডা স্থানীয় একটি চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বিয়ে করেননি। দীর্ঘ কারাবাসে জীবনের অনেক স্মৃতি এখন ঝাপসা হয়ে গেছে। যে হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার সাজা হয়েছিল, সেই ঘটনার কথাও অনেকটা ভুলে গেছেন রাজু। মুক্তির পর নিজের অতীত নিয়ে আক্ষেপের চেয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা দেখা গেছে রাজুর কণ্ঠে।

রাজু বলেন, ‘ভুলের মাশুল তো জেল খাটলাম। পাপ মুছেছে। এখন সামনের দিনটা ভালো করে কাটাতে চাই।’ চা-শ্রমিকের কাজ করবেন কি-না, জানতে চাইলে তিনি কিছুটা হতাশার সুরে বলেন, ‘সঙ্গীসাথি কেউ তো আর নাই। জেলে যে কাজ (বাবুর্চি) করছি, সেইটাই করার চেষ্টা করমু।’ ২৩ বছরের বন্দিজীবন শেষে রাজু মুক্তি পেয়েছেন। তার জন্য অপেক্ষায় নেই আপনজন, নেই ফিরে যাওয়ার মতো কোনো পারিবারিক আশ্রয়। কারাগারের বাইরে তার জীবন কতটা সহজ হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

রাজুর এই অসহায়ত্বের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রবেশন কর্মকর্তা তৈমুর হোসেন চৌধুরী বলেন, রাজু বাবুর্চির কাজ করতে চাইলে কোনো হোটেল বা রেস্তোরাঁয় কাজ দেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। কারণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তার কর্মসংস্থান জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%