০৮:২২ পি.এম
যশোরের কেশবপুরের ঘের ব্যবসায়ী রঞ্জন মন্ডল (৬০) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রঞ্জনকে হত্যার পর তার মরদেহ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তবে হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদলিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মহিদিয়া মধ্যপাড়ার বিষ্ণুপদ ধরের ছেলে মিঠুন ধর এবং অন্যজন হলেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদলিয়া গ্রামের মৃত জব্বার গাজীর ছেলে মো. আব্দুল হান্নান গাজী।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক কপিল মন্ডলের মৃত্যু
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন জানান, গত ৭ নভেম্বর মনিরামপুর উপজেলার হেলারঘাট এলাকায় মুক্তেশ্বরী নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রঞ্জন মন্ডলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কেশবপুর উপজেলার কালিচরণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।
গত ৬ নভেম্বর রঞ্জন বাড়ি থেকে কাটাখালী বাজারের উদ্দেশে বের হন। এরপর রাতের দিকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা দেবাশীষ মন্ডল বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে সংস্থাটি।
এসআই দেলোয়ার হোসেন আরও জানান, নিহতের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে জানা যায়, ৬ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রঞ্জন মন্ডল কাটাখালী বাজারে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধরের চেম্বারে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে মিঠুনও নিখোঁজ ছিলেন।
তদন্তের প্রক্রিয়ায় জানা যায়, মিঠুন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদলিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই কাজে তাকে সহায়তা করছিলেন আব্দুল হান্নান গাজী। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকায় গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে নিহত জামশেদের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা সহায়তা
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মিঠুন জিজ্ঞাসাবাদে ইঞ্জেকশন পুশ করে রঞ্জনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ও আংটি এবং মরদেহ বহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ইঞ্জেকশনের পটও উদ্ধার করা হয়েছে।
কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন