ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কম ভাড়ায় নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে’ জাবি অধ্যাপকের বসবাস


কম ভাড়ায় নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে’ জাবি অধ্যাপকের বসবাস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। তিনি আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে একজন বিবাহিত শিক্ষককে সর্বোচ্চ ছয় মাস ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে, অধ্যাপক রাশিদুল আলম প্রায় দুই বছর ধরে সেখানে অবস্থান করছেন। যদিও তার জন্য প্রভোস্ট বাংলোতে বরাদ্দ রয়েছে, তিনি সেখানে উঠেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মঙ্গলবার জানান, প্রশাসনের অনেক সদস্য নির্ধারিত বাংলোয় না থেকে বাইরে অবস্থান করছেন, যা নিয়মের পরিপন্থী ও অনুচিত।

এস্টেট শাখার সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক রাশিদুল আলম ব্যাচেলরস কোয়ার্টারের ১৩ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, প্রভোস্টদের জন্য আবাসিক বাংলো বরাদ্দের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এক মাস পর অক্টোবরে প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পান।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে ওঠেন বলে জানা গেছে। তবে গত ৩০ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রক্টরের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পরও তিনি ওই কোয়ার্টারেই অবস্থান করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাচেলরস কোয়ার্টারের একটি ফ্ল্যাটে দুজন শিক্ষক থাকলে প্রত্যেকের মূল বেতনের ৯ শতাংশ হারে বাসাভাড়া কর্তন করা হয়। যদি কোনো শিক্ষক একা একটি ফ্ল্যাটে থাকেন, তবে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাসাভাড়া কর্তনের বিধান রয়েছে। বিবাহিত শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক কোয়ার্টারে বাসাভাড়া বাবদ মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কর্তনের বিধান রয়েছে।

অধ্যাপক রাশিদুল আলমের বেতন স্কেল অনুযায়ী, ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে তার মাসিক বাসাভাড়া ৬ হাজার ৮৮৪ টাকা। অন্যদিকে, প্রভোস্ট বাংলোয় থাকলে ৫০ শতাংশ হারে বাসাভাড়া বাবদ ৩৮ হাজার ২৪৫ টাকা কাটা হয়। ফলে, ব্যাচেলরস কোয়ার্টারের ভাড়া দেওয়ার কারণে প্রতি মাসে প্রায় ৩১ হাজার ৩৬১ টাকা কম কর্তন হচ্ছে। ভাড়া কম হওয়ার কারণে অধ্যাপক রাশিদুল আলম ব্যাচেলরস কোয়ার্টারেই অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এস্টেট অফিস সূত্রে জানা গেছে, জরুরি প্রয়োজনে একজন বিবাহিত শিক্ষক সর্বোচ্চ ছয় মাস ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে থাকতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি, অধ্যাপক রাশিদুল আলম ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ওই কোয়ার্টারে অবস্থান করছেন। এ কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, প্রভোস্ট বাংলোয় বসবাসের উপযোগী করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের আবেদনও অধ্যাপক রাশিদুল আলম করেননি বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

প্রভোস্ট হিসেবে বাংলো বরাদ্দ থাকার পরও ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে অবস্থানের কারণ জানতে অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার জন্য এক দিন পর যোগাযোগ করতে বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত কোয়ার্টারে থাকাই সঠিক। এভাবে নির্ধারিত বাসা খালি থাকলে সরকারের রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে।’

 

 

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থাভাবে থমকে যাওয়া শ্রমিক দল নেতার চিকিৎসায় পাশে রফিকুল ইসলাম রুবেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম। ভৈরব প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


অর্থাভাবে থমকে যাওয়া শ্রমিক দল নেতার চিকিৎসায় পাশে রফিকুল ইসলাম রুবেল

মো. শাহজাহান (৬৮) দীর্ঘদিন ধরে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল (বিএনপিপন্থী শ্রমিক সংগঠন) ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন শাখার সহ-সভাপতি। চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর কথা থাকলেও অর্থের অভাবে একপর্যায়ে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম থমকে যায়।

শাহজাহানের চিকিৎসা নিয়ে এমন পরিস্থিতির কথা জানার পর ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রুবেল তাঁর পাশে দাঁড়ান।

গত ২৪ আগস্ট রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন শ্রমিক দলের প্রচার সম্পাদক মো. হাবিব মিয়া বিষয়টি রফিকুল ইসলাম রুবেলকে জানান। এরপর ২৫ আগস্ট দুপুরে তিনি ভৈরব মাতৃকা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মুহাম্মদ কামাল হোসেন এবং মেঘনা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিমল বিশ্বাসের সঙ্গে আলোচনা করে শাহজাহানের চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এই সময় রফিকুল ইসলাম রুবেল নিজ অর্থায়নে শাহজাহানের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি তিনি শাহজাহানের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করেন।

শ্রমিক দল নেতাকর্মীরা জানান, রফিকুল ইসলাম রুবেল দীর্ঘদিন ধরে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করে আসছেন। অসুস্থ সহকর্মীর চিকিৎসায় তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

এদিকে, চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ায় মো. শাহজাহান ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে রফিকুল ইসলাম রুবেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

মানবিক এই উদ্যোগের ফলে অর্থাভাবে থমকে যাওয়া একজন শ্রমিক দল নেতার চিকিৎসা আবারও শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে ঈদে-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনাসভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


কুড়িগ্রামে ঈদে-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনাসভা

কুড়িগ্রামে পবিত্র ঈদে-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে মিলাদ শরীফ, কিয়াম শরীফ, ধর্মীয় আলোচনা, র‌্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আলোচনা ও মিলাদ শরীফের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হাসপাতালপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এর পর সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে আলহাজ্ব মো. কামরুল হুদার সভাপতিত্বে এবং আলহাজ্ব মো. আহসান শামীম যুন্নুরাইনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট খোশ বাজার দরবার শরীফের খলিফা আলহাজ্ব মাওলানা মো. রেজাউল ইসলাম নেছারী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জেলা আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াপতের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: আলহাজ্ব মুহাম্মদ বেলাল হোসেন, সাতদরগাহ মরহুম পীরসাহেব (রহ.)-এর সাহেবজাদা ও নাছিরিয়া দরবার শরীফ, উলিপুরের পীর সাহেব মাওলানা মো. মমতাজুল হাসান করিমী, বিশ্ববিখ্যাত ফুরফুরা দরবার শরীফের খলিফা ও উলিপুরের হাতিয়ার পীর সাহেব আলহাজ্ব মাওলানা মো. মোবাশ্বের রাশেদীন, আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. আশরাফুর রহমান, রাজারহাট উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ওমর ফারুক বিল্লাহ প্রমুখ।

বক্তারা পবিত্র ঈদে-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাৎপর্য এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনাদর্শ, মানবতা, নৈতিকতা, শান্তি ও সম্প্রীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমান, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি টাইগার সবুজ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


ময়মনসিংহে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি টাইগার সবুজ গ্রেফতার

ময়মনসিংহ, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ : জেলা পুলিশের মাদক মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. নাজমুল আলম, যিনি টাইগার সবুজ নামেও পরিচিত (৪০), গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আজ মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-১৪ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল ময়মনসিংহ নগরীর শম্ভুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি নাজমুল আলম, যিনি টাইগার সবুজ নামে পরিচিত, গ্রেফতার করা হয়। সংশ্লিষ্ট মামলায় ইতিমধ্যে এই আসামিকে কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া নাজমুল আলম, যিনি টাইগার সবুজ নামে পরিচিত, ময়মনসিংহ নগরীর কালীবাড়ীর চর এলাকার মৃত আলহাজ্ব নূরুল ইসলামের পুত্র। র‌্যাব আরো জানায়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, সাজা ওয়ারেন্ট তামিল, চাঞ্চল্যকর হত্যা এবং বিভিন্ন চোরাচালান ও অপরাধ দমনে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও হবে দেশের সম্পদ : ডিসি ফরিদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও হবে দেশের সম্পদ : ডিসি ফরিদা

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ : সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত সুযোগ পেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরাও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রতিবন্ধী শিশু উন্নয়ন সংগঠন ‘মায়ার বাঁধন’-এর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে খাবার ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ফরিদা খানম বলেন, প্রতিবন্ধকতা কখনোই মানুষের মেধা, প্রতিভা ও সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করতে পারে না। এর উজ্জ্বল উদাহরণ বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তিনি মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। তার জীবন আমাদের শেখায়, শারীরিক সীমাবদ্ধতা মানুষের মেধা ও স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই শিশুদের মধ্যেও অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা যদি তাদের সীমাবদ্ধতার পরিবর্তে সক্ষমতা ও প্রতিভাকে গুরুত্ব দিই এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করি, তাহলে তারাও একদিন পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য গর্বের কারণ হয়ে উঠবে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি করুণা নয়, প্রয়োজন সম্মান, ভালোবাসা ও সুযোগ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একটি শিশুর প্রতিবন্ধকতা তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না; বরং সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগই তার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

‘মায়ার বাঁধন’-এর এক দশকের কার্যক্রমের প্রশংসা করে ফরিদা খানম বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মমতা ও যত্নে আগলে রেখে সংগঠনটি যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব শিশুর পাশে থেকে সংগঠনটি শুধু সেবা নয়, তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার কাজও করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অনেক অভিভাবকের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা থাকে— তারা না থাকলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে। সেই উদ্বেগ দূর করতে ‘মায়ার বাঁধন’-এর স্থায়ী ও নিরাপদ আবাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামর্থ্যবান মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ সময় জেলা প্রশাসক, অটিস্টিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে আর্থিক অনুদান প্রদান এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে ‘মায়ার বাঁধন’-এর সভাপতি মোসা. ফওজিয়া ইয়াসমীন সভাপতিত্ব করেন। এতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিভাবক, সংগঠনের সদস্য ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে ৯৬ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন এতিম এবং ১১ জনের শুধু মা রয়েছেন। শিশুদের মাঝে খাবার ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

‘মায়ার বাঁধন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি একটি অরাজনৈতিক প্রতিবন্ধী শিশু উন্নয়ন সংগঠন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে গত এক দশক ধরে বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ‘মায়ার বাঁধন’-এর স্থায়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%