০৪:০৭ পি.এম
ব্যাপারটি সিনেমার মতো মনে হচ্ছে। সিনেমাগুলোতে দেখা যায় কোনো সন্ত্রাসীচক্রের উত্থানের পেছনে থাকে পুলিশের অসৎ কর্মকর্তার ভূমিকা।
অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা গ্যাংকে সহায়তা করে অথবা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে যায়।
গুরু দণ্ডে পুলিশ সদস্য সেই সন্ত্রাসী গ্যাংকে দুষিত তথ্য প্রদান করে, অভিযানের খবর ফাঁস করে দেয় বা সন্ত্রাসীদের হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। বাস্তব জীবনে একটি এমন অসৎ পুলিশ কর্মকর্তার সন্ধান পাওয়া গেছে ভারতের পাঞ্জাবে, যার নাম গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ভরাডুবিতে ২০২৮ সালের নির্বাচনের হিসাব–নিকাশ বদলেছে
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রের সঙ্গে জড়িত হওয়ার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে। এর পর তাকে প্রথমে বদলি করা হয়। এরপর প্রাথমিক তদন্তের পর শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ ভারতের বহু অপরাধী চক্র যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অর্থ, অস্ত্র এবং মানবপাচারসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক চক্রটিকে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ একত্রে ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে একটি বিরল যৌথ অভিযান শুরু করে।
দীর্ঘসময় ধরে গোপনে এসব গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না: ইরান
গত ৭ জুলাই মার্কিন বিচার বিভাগ লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত থেকে ৩টি চার্জশিট প্রকাশ করেছে, যেখানে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগনামা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশসর্বত্র ৫০টিরও বেশি স্থানে এক বিশাল ক্র্যাকডাউন চালানো হয়।
অভিযানে ভারতভিত্তিক গ্যাংগুলোর ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাঞ্জাবের পুলিশ কর্মকর্তা গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা সেই ৩৭ জনের অন্যতম। অভিযোগ আসার সময় তিনি পাঞ্জাব রাজ্যের হোশিয়ারপুর জেলার টাণ্ডা থানার স্টেশন হাউস অফিসার হিসেবে কর্তব্য পালন করছিলেন।
অভিযোগ আসার পর প্রথমে তাকে হোশিয়ারপুরের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। শুক্রবার রাতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগে বলা হয়েছে, গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা পাঞ্জাব ভিত্তিক ‘জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’-এর সদস্য। গ্রুপের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করত। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ভীতি প্রদর্শন করে গুরিন্দরজিৎ টাকা আদায় করত।
আরও পড়ুন: গাজী নজরুল ও আমির হামজার ঘটনায় জামায়াত গুম হয়ে গেছে: রাশেদ খান
অভিযোগে বলা হয়, ভগবানপুরিয়া গ্যাংয়ের সদস্য গুরলাল সিং লস অ্যাঞ্জেলেসের এক ভুক্তভোগীর তথ্য নাগরার কাছে পাঠিয়েছিল।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, গত জানুয়ারি মাসে পাঞ্জাবের টাণ্ডা থানা এলাকায় বলউইন্দর সিং নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী খুন হন। সেই হত্যার তদন্তের সুযোগ নিয়ে নাগরা যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত একটি পরিবারের কাছে ৪ কোটি রুপি চাঁদা দাবি করেন।
গুরিন্দরজিৎ হুমকি দেন, যদি টাকা না দেওয়া হয়, তবে ভারতে থাকা তাদের আত্মীয়দের এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ফাঁসানো হবে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, গুরিন্দরজিৎ ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে ১৬ লাখ রুপি আদায় করে ফেলেছিল।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লবের চেতনা ও আজকের সংকট নিয়ে আলোচনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন