মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২২ এম
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে ১৫ জন এবং অর্নুগ্রাম বহির্ভূত ২৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে নতুন করে এক কর্মকর্তার পদোন্নতি বোর্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পদোন্নতির জন্য পূর্বের পদে চার বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন থাকলেও নতুন পদে যোগদানের তিন মাসের মাথায় ফের পদোন্নতির জন্য বোর্ড পেয়েছেন কর্মকর্তা ড. রোকনুজ্জামান।
প্রতিবেদকের হাতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি সূত্রে জানা যায়, রোকনুজ্জামান ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর সেকশন অফিসার গ্রেড-১ পদে নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি জুনিয়র রিসার্চ অফিসার পদে অস্থায়ী নিয়োগ পান। পরে ৩৫তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে তাঁর অস্থায়ী পদের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। ২০১৪ সালের ২৩ মে অনুষ্ঠিত ৪০তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে স্থায়ী রিসার্চ অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর পদোন্নতি পেয়ে ২০২৬ সালের জুনে সিনিয়র রিসার্চ অফিসার পদে যোগ দেন রোকনুজ্জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার থেকে প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতির জন্য চার বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তবে যোগদানের প্রায় তিন মাসের মাথায় গত ৪ আগস্ট তাঁকে প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতির জন্য ফের বোর্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।এছাড়া তাকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিন্ডিকেট সভায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে তাকে ফের পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তারা।
এ নিয়ে ড. রোকনুজ্জামানের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করে আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে ফোন করা হলে তিনি আর সাড়া দেননি।
পদোন্নতি বোর্ডের সদস্য কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “কমিটির সদস্য হিসেবে এ পর্যায়ে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, “এই কমিটিতে আমি নেই। তাই আমি কিছু বলতে পারছি না।তবে তিনি ১৫-১৬ বছর ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত বলে আমাকে জানানো হয়েছিল ।”
তবে একাধিক শিক্ষক দাবি করেছেন, অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম এই পদোন্নতি বোর্ডের সদস্য ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় রোকনুজ্জামান ২০২৪ সালে একসঙ্গে দুটি পদোন্নতির আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে তাঁকে একটি সিনিয়র রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
উপাচার্যের দাবি, “তিনি দেরিতে যোগদান করেছেন। তবে তাঁর পদোন্নতির এক বছর পার হয়েছে এবং দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকায় তাকে ফের পদোন্নতি বোর্ড দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ এবং ওষুধ তৈরির উপাদানে শুল্কছাড় প্রদান করেছে। এই সুবিধা বিরল ও জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধসহ ২০টি দেশের পণ্যে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি র প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তালিকার ভিত্তিতে, বিরল রোগ, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা, কোষভিত্তিক থেরাপি এবং জিন থেরাপির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ওষুধ শূন্য শুল্কের আওতায় থাকবে। এই ওষুধগুলো তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোও এই সুবিধার আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও শূন্য শুল্ক হারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য দেশগুলো হলো- ভারত, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ব্রিটেন এবং ভিয়েতনাম।
বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইনের ২৩২ ধারা অনুযায়ী, ওষুধ এবং ওষুধের কাঁচামালের আমদানি সমন্বয়ের জন্য ট্রাম্পের এপ্রিল মাসের ঘোষণার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই শুল্কছাড় দেওয়া হয়েছে। ঘোষণাপত্রে নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ঔষধ এবং কাঁচামালের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই শুল্ক ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
তবে কিছু নির্দিষ্ট পেটেন্ট করা ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি চলছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বা আসন্ন বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তিতে এই শুল্কছাড় প্রদান করা হয়েছে।
বাণিজ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জেনেরিক ঔষধ এবং এর সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো ধারা ২৩২-এর আওতাভুক্ত নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে মূল ঘোষণাপত্রটিতে কিছু প্রযুক্তিগত সংশোধনও করা হয়েছে, যার মধ্যে ‘জেনেরিক ঔষধ সামগ্রী’র সংজ্ঞা সংশোধন করে বিশেষভাবে পেটেন্টবিহীন পশু স্বাস্থ্য পণ্যগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, ‘ঔষধ সামগ্রী’-এর সংজ্ঞার মধ্যে শুধুমাত্র প্রস্তুতকৃত ঔষধ, সেগুলোর সক্রিয় ঔষধীয় উপাদান এবং এই জাতীয় উপাদানগুলোর মূল কাঁচামাল অন্তর্ভুক্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের প্রতি আবারও জোরালো সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে, এ বিষয়ে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
ল্যাভরভ উল্লেখ করেন যে, গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির পক্ষে তারা এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ভারত ও ব্রাজিলের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন করেন। তবে নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানি বা জাপানের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত আসন না দেওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন তিনি। তিনি দাবি করেন যে, এই দেশগুলো বর্তমানে সামরিকবাদ ও প্রতিশোধপরায়ণতার পথে হাঁটছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের যেকোনো সংস্কারে বিদ্যমান স্থায়ী সদস্যদের মূল ক্ষমতা বা ভেটো অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে কেবল রাশিয়াই নয়, মরিশাসও সমর্থন জানিয়েছে। মরিশাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধনঞ্জয় রামফুল তার ভাষণে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভারতের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে এই দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।
বর্তমানে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য (চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র) ছাড়াও ১০টি অস্থায়ী সদস্য রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট এবং পাঁচটি স্থায়ী সদস্যসহ দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদন প্রয়োজন। রাশিয়ার সমর্থন থাকলেও এবং অন্যান্য স্থায়ী সদস্যদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের তীব্র বিরোধিতার কারণে এই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল মাঠে ট্যাকল, ফাউল কিংবা হাতাহাতির কারণে লাল কার্ড দেখা একটি সাধারণ ঘটনা। তবে, প্রতিপক্ষ ফুটবলারের চুল ধরে টান দেওয়ার অপরাধে পরপর দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ড দেখার ঘটনা সম্ভবত ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটেছে। অদ্ভুত এই কাণ্ডটি কনকাকাফ নেশন্স লিগের ম্যাচে অ্যানগুইলা ও অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডার মধ্যে ঘটে।
ম্যাচের সময় অ্যানগুইলা ৫-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল। যখন হার নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছিল, তখন ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে প্রবেশ করেন অ্যানগুইলার মিডফিল্ডার এইডান সিপিও। মাঠে প্রবেশ করার সাথে সাথে তিনি নিজের লম্বা চুলের কারণে পুরো খেলার পরিস্থিতি বদলে দেন।
সিপিওর ড্রেডলক স্টাইলের চুল এতটাই দীর্ঘ যে তা প্রায় তার গোড়ালি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সাধারণত, তিনি মাঠে খেলার সুবিধার্থে চুলগুলো কোমর দিয়ে বেঁধে রাখেন। কিন্তু মাঠে নামার মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যে বিপত্তি ঘটে। অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডার ফুটবলার কেওন গ্রিন পেছন থেকে সিমিওর ঝুলন্ত চুল ধরে টান মেরে বসেন। রেফারি বিষয়টি সরাসরি দেখার পর কোনো দ্বিধা ছাড়াই গ্রিনকে ডিরেক্ট লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।
এখনও বিস্ময়ের শেষ হয়নি! সতীর্থের এমন কাণ্ড থেকে শিক্ষা না নিয়ে অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডার আরেক খেলোয়াড়ও একইভাবে সিমিওর চুল ধরে টান দেন। এর ফলস্বরূপ, রেফারি তাকেও তাৎক্ষণিক লাল কার্ড দেখিয়ে ড্রেসিংরুমে পাঠান। ফলে, ৩ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি লাল কার্ড পেয়ে ৯ জনের দলে পরিণত হয় অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডা।
ম্যাচটি দলটি জিততে না পারলেও চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে বদলি নেমে মাথার চুল দিয়ে প্রতিপক্ষকে এভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার ট্রল এখন বিশ্ব ফুটবলাঙ্গনে চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে সরকার নিবন্ধন, জোনভিত্তিক চলাচল এবং জিপিএস নজরদারির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদি এই পরিকল্পনা কার্যকর হয়, তাহলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চারটি করে মোট আটটি জোনে ভাগ করা হবে। প্রতিটি জোনে নির্ধারিতসংখ্যক রিকশা চলাচল করবে এবং এক জোনের রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রাথমিকভাবে দুই সিটির ফিডার সড়কে মোট আট লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা অনুমোদনের প্রস্তাব রয়েছে।
এক প্রতিবেদনে কালবেলা জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘ই-মোবিলিটি ও ব্যাটারি সোয়াপিং সিস্টেম রোল-আউট পরিকল্পনা (ঢাকা শহর)’ শীর্ষক নথিতে এসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে। গত ১৩ ও ৩০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুটি সভায় নিবন্ধন, রুট, চালকের লাইসেন্স, উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও চার্জিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে, যেগুলোর নিবন্ধন নেই। ঢাকার বাইরেও রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ। অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে রাজধানীতে যানজট ও দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ২৫০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ সিটির ১ হাজার ১৭০ কিলোমিটার ফিডার সড়কে চার লাখ করে মোট আট লাখ রিকশা চলাচলের অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। প্রধান সড়কে এসব রিকশার চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
জোনভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অনলাইনে জিপিএস ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি অফলাইনে রিকশার গায়ে আলাদা রং ও নম্বরপ্লেটে জোনভিত্তিক কোড ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকার বাইরে রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
পরিকল্পনায় বুয়েট অনুমোদিত নতুন ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধনের পর সড়কে নামানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির মাধ্যমে পুরোনো রিকশা বদলে নতুন রিকশা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পুরনো গাড়ির মূল্য নতুন গাড়ির দামের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। বাকি অর্থ মালিক নিজে বা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।
দেশীয় দুই সিটের রিকশার সম্ভাব্য দাম ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। পুরনো গাড়ির মূল্য সমন্বয়ের পর নতুন রিকশা কিনতে প্রায় দেড় লাখ থেকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।
খসড়া সিদ্ধান্তে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বাধিক পাঁচটি রিকশার নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিটি রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে নিবন্ধন বাতিল করা হবে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় দুই সিটের রিকশার জন্য এককালীন ১০ হাজার টাকা নিবন্ধন ফি এবং বছরে ৩ হাজার টাকা নবায়ন ফি প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নাগরিকরা জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ৫০০ টাকা ফি দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য চালকের লাইসেন্স পাবেন। লাইসেন্সধারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
অবৈধ চার্জিং বন্ধে নির্দিষ্ট চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রচলিত চার্জিংয়ের পরিবর্তে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ব্যাটারি সোয়াপিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। এতে এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে ব্যবহৃত ব্যাটারির বদলে চার্জ করা ব্যাটারি বসিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চার লাখ রিকশার জন্য স্টেশনের সক্ষমতা অনুযায়ী এক হাজার থেকে ছয় হাজার ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিটি স্টেশন স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগ ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। অর্থায়নে গ্রিন ফান্ড থেকে ৭০ শতাংশ, সরকারি প্রণোদনা ২০ শতাংশ এবং উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ ১০ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ