রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫৩ পি.এম
রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধুমাত্র মানবিক সমস্যা নয়, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘দীর্ঘকাল ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থান বাংলাদেশের ওপর যেমন একটি বড় চাপ সৃষ্টি করছে, তেমনই এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের কৌশল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেছে। এখন সংকট ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা যথেষ্ট নয়। রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন রয়েছে।
এ জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন কৌশল নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা সংকট যেন আড়ালে না পড়ে। জাতিসংঘসহ প্রভাবশালী দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এ বিষয়ে নজর রাখা উচিত।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো জোরদার করতে হবে। প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গাকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের চারটি জেলার মধ্যে সন্ধ্যার সময় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা প্রদান করেছে সংস্থাটি।
রবিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে জানানো হয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, পাবনা ও বগুড়া অঞ্চলে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শাস্তির সম্মুখীন হওয়া ২০ জন কর্মকর্তার দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়েছে। একইসাথে, বেশ কিছু কর্মকর্তাকে বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে করা আপিলের প্রেক্ষিতে এনবিআর এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ বাতিল করার পাশাপাশি দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ক্ষমা পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (উপকমিশনার) মো. শাহাদাত জামিল, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বশর, ঢাকা উত্তর কমিশনারেটের রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া এবং খুলনার কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এছাড়া, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রামের কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মো. জাকির হোসেন, একই কমিশনারেটের যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, গাজীপুরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আ.আ.ম. আমীমুল ইহসান খান এবং ঢাকা পশ্চিমের অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়মের বিরুদ্ধে লঘুদণ্ড বাতিল করে তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকার অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
দণ্ড মওকুফ পাওয়া কর কর্মকর্তাদের মধ্যে কর অঞ্চল-ময়মনসিংহের যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, কর অঞ্চল-যশোরের যুগ্ম কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া, কর অঞ্চল-গাজীপুরের অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, কর অঞ্চল-২২, ঢাকার অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) সুলতানা হাবীব, কর অঞ্চল-যশোরের অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান এবং ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের ঢাকার যুগ্ম কর কমিশনার মাসুমা খাতুন রয়েছেন।
এছাড়া, খুলনার উপ-কর কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান, কর অঞ্চল-২১, ঢাকার উপ-কর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল এবং কর অঞ্চল-দিনাজপুরের অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানার লঘুদণ্ড বাতিল ও বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর সংস্কার ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনে অংশগ্রহণ, কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। শাস্তির অংশ হিসেবে তাদের বেতন স্কেল ২ থেকে ৩ ধাপ অবনমিত করা হয়েছিল।
এরপর, দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজন রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করেন। রাষ্ট্রপতির কাছে আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দণ্ডাদেশ বাতিল এবং কয়েকজনকে বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতি দীর্ঘকাল ধরে দেশের জন্য একটি বড় চাপ সৃষ্টি করছে, পাশাপাশি এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে আর শুধুমাত্র একটি মানবিক বিষয় নয়।
আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটরিয়ামে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকটের উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানের কৌশল নিয়ে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেন রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে পারি, সে জন্য আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক রাডারে রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন ফোকাসড থাকে এবং অন্য কোনো ইস্যুতে চাপা পড়ে না যায়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে জাতিসংঘের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর যারা কাজ করছেন, তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মানের সঙ্গে তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা দ্রুত করতে হবে।
এই জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি জরুরি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষি অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল দিনাজপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এলএসটিডি প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়িত প্রযুক্তি, ধান ক্ষেত ও কৃষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের দু’দিনব্যাপী পরিদর্শন করেছে।
আজ রোববার ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনের শেষ দিনে, কৃষি অধিদপ্তরের টিম সদর উপজেলার তিনটি গ্রাম উলিপুর, মহব্বতপুর ও আউলিয়াপুরে উন্নত জাতের ফলনশীল ধানক্ষেত পরিদর্শন করে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপ-সচিব মো. মনিরুজ্জামান, এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং পরিকল্পনা-৩ শাখার গবেষণা অনুসন্ধানী মো. শফিকুল আলম ধান ক্ষেতের উৎপাদিত ফসলের গুণগত মান ও কৃষকদের পরিচর্যা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর কৃষকদের অধিক ফলন উৎপাদনে করণীয় বিষয়ে দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এ সময় সারা দেশে জনশ্রুতি অতিরিক্ত খাদ্যে উৎপাদন জেলা হিসেবে দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষির সম্ভাবনা, ধানের নতুন জাত নির্বাচন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয় নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেন এই কর্মকর্তারা।
পরবর্তীতে এলএসটিডি প্রকল্পের আয়োজনে ‘আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তি’ শীর্ষক একটি কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপ-সচিব কৃষিবিদ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে বের হয়ে কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে চাষাবাদ সম্পর্কে অবহিত করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।" তিনি উল্লেখ করেন যে, অর্জিত প্রশিক্ষণের জ্ঞান কাজে লাগানোর পাশাপাশি জমিতে অতিরিক্ত সার ব্যবহার না করে, পরিমিত সার প্রয়োগ করতে হবে। তবেই আশানুরূপ ধানের ফলন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ব্রি কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ জাহিদ হাসানের উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার এবং ব্রি দিনাজপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোছা. সেলিমা জাহান।
প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, "প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুগন্ধি ধান, বাসমতি, জেসমিন ও আঠালো ধানের আধুনিক জাতগুলো কৃষক পর্যায়ে পরিচিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে এসব উন্নত জাতের সুগন্ধি ধান চাষ দিনাজপুর অঞ্চলে ব্যাপকভাবে কৃষকদের উৎপাদনের লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "আশা করছি আগামীতে কৃষি বিভাগের পরিকল্পনা খাদ্যের জেলা দিনাজপুরে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে।" এসব ধান চাষ ও উৎপাদন সফল করার মাধ্যমে সফলতা অর্জিত হবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ