মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৪ পি.এম
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি উল্লেখ করেছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা এবং খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা আবশ্যক।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধুমাত্র সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এই কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে আরও ব্যাপকভাবে চালাতে হবে।
আজ মঙ্গলবার, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কারণ, একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে তারা কী ধরনের খাদ্য গ্রহণ করছে তার ওপর। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা করে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকে আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। প্যাকেটজাত বিভিন্ন খাবার ও পানীয় সম্পর্কে মানুষের সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে এবং খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দিতে হবে। বর্তমানে দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে যে আটটি মোবাইল ল্যাব রয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় মোবাইল ল্যাবের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে দ্রুত খাদ্যপণ্যের প্রাথমিক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, ল্যাবরেটরিতে খাদ্যপণ্যের পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য খাদ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক। পর্যায়ক্রমে এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিদেশে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সুযোগ দিচ্ছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।
মতবিনিময় সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে অনেক বিষয় অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। তবে এজন্য বসে থাকলে চলবে না; দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপদ রাখতে কর্তৃপক্ষের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সচিব শ্রাবস্তী রায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় কর্মকর্তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন- তায়েফ আলী ও কর্মচারীদের পক্ষে বক্তব্য দেন নূরন নবী। সভায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে খাদ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মিনি ল্যাব (মোবাইল ভ্যান) ও ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ল্যাব অপারেটররা মন্ত্রীকে মিনি ল্যাব ও ল্যাবরেটরির কার্যক্রম এবং খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার শেরপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দই উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে, লেবেল না থাকা এবং লাইসেন্স না নেওয়ার কারণে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এই জরিমানা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। অভিযানে বিএসটিআইয়ের প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কার্যালয় বগুড়ার ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. শাহানূর হোসেন খান। সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন সহকারী পরিচালক (সিএম) মো. দেলোয়ার হোসেন।
অভিযান চলাকালে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার ধুনট মোড়ে হোটেল আখিমনিকে ৫০ হাজার টাকা এবং মা-মনি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড এলাকার শম্পা দধি ভান্ডারকে ১০ হাজার, চৈতি দধি ভান্ডারকে ২৫ হাজার এবং সাউদিয়া ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিএসটিআইয়ের সংশ্লিষ্ট আইনের ধারায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানের সময় কিছু প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে দই তৈরি ও বিক্রির পাশাপাশি লেবেলবিহীন পণ্য বিক্রির অনিয়মও ধরা পড়ে। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় লাইসেন্সও ছিল না।
বিএসটিআইয়ের বগুড়ার ফিল্ড অফিসার মো. শাহানূর হোসেন খান মন্তব্য করেন, অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাত দিনের মধ্যে ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করার এবং লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলামের মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের চেতনায় আলোকিত হওয়ার জন্য।
আজ নজরুল বর্ষ উপলক্ষে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত হবে নজরুলচর্চার মাধ্যমে। তিনি উল্লেখ করেন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ একটি আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরুল বর্ষ ঘোষণার মাধ্যমে সারা দেশে নজরুলচর্চাকে নতুন মাত্রা প্রদান করেছেন।
তিনি জানান, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ভিকারুননিসা নূনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দেশ গঠনে মেধাবী ও সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরো বলেন, নজরুল ইসলামের ইসলামী সংগীত ও শ্যামাসংগীত রচনার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কবির রচনায় আরবি, ফারসি, উর্দু ও বিভিন্ন বিদেশি শব্দের সৃজনশীল ব্যবহার বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের ফলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও নজরুল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা থেকে ‘মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরি,আর হাতে রণ-তূর্য’ ও ‘গাহি সাম্যের গান’ থেকে কয়েকটি চরণ আবৃত্তি করে কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা তুলে ধরেন এবং আবৃত্তির মাধ্যমে প্রেম ও দ্রোহের যুগল রূপে কবিকে ব্যাখ্যা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দখলীকৃত জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ১৫০ জনেরও বেশি চরমপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পাহাড়ায় অনুপ্রবেশ করেছে। এই তথ্য ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফা (WAFA) জেরুজালেম গভর্নরেটের উদ্ধৃতি দিয়ে নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬৯ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী একটি দল 'বাব আল-মাগারিবা' (মরোক্কান গেট) দিয়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। এরপর তারা প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরে গিয়ে তালমুদিক প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শুরু করে।
১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক 'স্ট্যাটাস কো' (Status Quo) চুক্তি অনুসারে, অমুসলিমরা আল-আকসা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করতে পারলেও সেখানে তাদের কোনো প্রকার প্রার্থনা বা ধর্মীয় আচার পালন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই প্রথা ভেঙে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রার্থনা করা ঐতিহাসিক চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ইহুদি নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারী দলগুলো তাদের সমর্থকদের আল-আকসায় ব্যাপকভাবে জড়ো হওয়ার এবং প্রবেশের আহ্বান জানাচ্ছে। ওয়াফা আরও জানায়, ইহুদি ধর্মীয় উৎসবগুলোকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রায়শই রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয় এবং জেরুজালেমসহ পুরো দখলীকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ