শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৮ পি.এম
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য বইয়ের বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি বই পড়ার জন্য উৎসাহিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগে ‘বইপড়া কর্মসূচির ১২ বছর’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকের ভবিষ্যৎ প্রজন্মই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদেরকে যোগ্য ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভালো বই পড়ার ওপর জোর দিতে হবে।’
মন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আনন্দময় ও সৃজনশীল করতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকার খেলাধুলা, সংস্কৃতি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং আনন্দময় শিক্ষাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব উদ্যোগ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করবে।
কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএসআর কার্যক্রম সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। আলোকিত ও সৃজনশীল মানুষ তৈরিতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় তরুণ সমাজকে মাদক ও ক্ষতিকর মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে ভালো বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি তাগিদ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার মো. আসাদুজ্জামান এবং বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিট পুলিশিং জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের চাপাইতি বাজারে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ , সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল মোছাব্বির ও বিট অফিসার এসআই নবী হোসেন।
মোঃ আব্দুল মোছাব্বিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আবুল কাশেম সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মধ্যনগর থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলাকার কোথাও মাদক ব্যবসা, জুয়া কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ বলেন, মাদক ও জুয়া একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহে চলন্ত অবস্থায় জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।আজ শুক্রবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ নগরীর সুতিয়াখালী এলাকায় পৌঁছানোর সময় চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটির একটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে জামালপুরগামী ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সুতিয়াখালী এলাকায় পৌঁছানোর পর ইঞ্জিনের সঙ্গে থাকা একটি বগি থেকে পেছনের সব বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর চালক ট্রেনটি আবার পেছনের দিকে নিয়ে যান। পরে ট্রেনের কর্মীরা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিচ্ছিন্ন বগিটি পুনরায় সংযুক্ত করেন।
বিচ্ছিন্ন বগিটি সংযুক্ত করার পর ট্রেনটি ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে থানার ওসি। বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে গত ৭ আগস্ট একই রেলপথে জামালপুর কমিউটার ট্রেনের পাওয়ারকারসহ সামনের অংশের ৪ থেকে ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছিল। ওই বগি লাইনচ্যুতির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে দীর্ঘ সাড়ে ৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছিল। সে সময় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিকল্প পথ ব্যবহার করে কিছু দূরপাল্লার ট্রেন পরিচালনা করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এক হুতি কমান্ডার।
ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির এই কমান্ডার নিহত হওয়ার খবরটি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা
জানাচ্ছে। সংঘর্ষটি দেশটির পশ্চিম উপকূলে সংঘটিত হয়, যেখানে হুতি নেতা মোহাম্মদ হারিথ আলি মুতলাক আল-আলাউই নিহত হন।
একদিন আগে, সরকারপন্থি ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস জানিয়েছিল যে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের পশ্চিমে আল-কাধা এলাকায় হুতির আরেক কমান্ডার কামেল খলিল নাসের আল-ওয়াজির এবং তার কয়েকজন সহযোগী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার, তাইজের পশ্চিমাঞ্চলে সরকারপন্থি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে নিহত হওয়ার স্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে তাইজে এটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য সংঘর্ষের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তার মধ্যেই ইয়েমেনে আবারও ব্যাপক সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুতি গোষ্ঠী রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য কয়েকটি শহর নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, সৌদি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্র বাহিনী দেশের দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা অভিযান শুরু করেছে, যার উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে ইরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। তবে ব্রাসেলসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের এই দাবির সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায়নি।
জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনে, যা উত্তর ক্যারোলিনার অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত হয়, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর জন্য তাদের অভিযানে ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে শামিল হয়েছে। তিনি ইউরোপীয় কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "বিশ্বব্যাপী এই বার্তা পরিষ্কার করা হচ্ছে যে, ইরানি সরকারের অর্থায়নের প্রতিটি উৎস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থামবে না।"
তবে ব্রাসেলসের প্রকাশিত নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইইউ মার্কিন এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও, সরাসরি অভিযানে অংশ নেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত ইইউ-এর বিবৃতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার তীব্র সমালোচনা করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ইইউ ইতোমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে এবং প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে ইইউ জানায়, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর মার্কিন প্রচেষ্টাকে তারা স্বাগত জানায়। তবে এই নথির কোথাও ইইউ নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা মার্কিন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এ সরাসরি যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়নি। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সমর্থন জানানো (Endorsement) এবং সরাসরি অংশগ্রহণ করার (Participation) মধ্যে বিশাল ফারাক বিদ্যমান। মার্কিন পরিচালিত এই অভিযানে প্রধান অস্ত্র হলো ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’—অর্থাৎ, যেসব দেশ বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান ইরানের সাথে ব্যবসা বজায় রাখবে, তাদের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নেমে আসবে।
ইইউ যদি এই অভিযানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিত, তবে তাদের নিজস্ব আইনে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর ওপরও একই ধরনের বিধিনিষেধ ও জরিমানা কার্যকর করতে হতো। তাছাড়া ইইউ-তে যেকোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা নীতি প্রণয়নে ২৭টি সদস্য দেশের সর্বসম্মত সম্মতির প্রয়োজন হয়। জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো, যারা এখনো ইরানের সাথে ইইউ-এর মোট বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের আর্থিক স্বার্থ এখানে সরাসরি জড়িত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইইউ মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি সোমবারের পূর্ববর্তী বিবৃতিটি উল্লেখ করা ছাড়া নতুন কোনো স্পষ্টীকরণ দেননি। ফলে ওয়াশিংটন যা দাবি করছে এবং ইউরোপ বাস্তবে যা করছে—তার মধ্যকার দূরত্ব এখনই ঘুচছে না। ইউরোপীয় ব্যাংক ও রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন অভিযানে ‘সমর্থন দেওয়া’ আর ‘সরাসরি যোগ দেওয়া’র মধ্যে পার্থক্যটি এখন জীবন-মরণের সমান। সূত্র: ইউরো নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ