শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫১ পি.এম
ময়মনসিংহে চলন্ত অবস্থায় জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।আজ শুক্রবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ নগরীর সুতিয়াখালী এলাকায় পৌঁছানোর সময় চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটির একটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে জামালপুরগামী ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সুতিয়াখালী এলাকায় পৌঁছানোর পর ইঞ্জিনের সঙ্গে থাকা একটি বগি থেকে পেছনের সব বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর চালক ট্রেনটি আবার পেছনের দিকে নিয়ে যান। পরে ট্রেনের কর্মীরা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিচ্ছিন্ন বগিটি পুনরায় সংযুক্ত করেন।
বিচ্ছিন্ন বগিটি সংযুক্ত করার পর ট্রেনটি ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে থানার ওসি। বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে গত ৭ আগস্ট একই রেলপথে জামালপুর কমিউটার ট্রেনের পাওয়ারকারসহ সামনের অংশের ৪ থেকে ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছিল। ওই বগি লাইনচ্যুতির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে দীর্ঘ সাড়ে ৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছিল। সে সময় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিকল্প পথ ব্যবহার করে কিছু দূরপাল্লার ট্রেন পরিচালনা করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এক হুতি কমান্ডার।
ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির এই কমান্ডার নিহত হওয়ার খবরটি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা
জানাচ্ছে। সংঘর্ষটি দেশটির পশ্চিম উপকূলে সংঘটিত হয়, যেখানে হুতি নেতা মোহাম্মদ হারিথ আলি মুতলাক আল-আলাউই নিহত হন।
একদিন আগে, সরকারপন্থি ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস জানিয়েছিল যে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের পশ্চিমে আল-কাধা এলাকায় হুতির আরেক কমান্ডার কামেল খলিল নাসের আল-ওয়াজির এবং তার কয়েকজন সহযোগী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার, তাইজের পশ্চিমাঞ্চলে সরকারপন্থি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে নিহত হওয়ার স্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে তাইজে এটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য সংঘর্ষের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তার মধ্যেই ইয়েমেনে আবারও ব্যাপক সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুতি গোষ্ঠী রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য কয়েকটি শহর নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, সৌদি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্র বাহিনী দেশের দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা অভিযান শুরু করেছে, যার উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে ইরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। তবে ব্রাসেলসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের এই দাবির সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায়নি।
জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনে, যা উত্তর ক্যারোলিনার অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত হয়, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর জন্য তাদের অভিযানে ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে শামিল হয়েছে। তিনি ইউরোপীয় কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "বিশ্বব্যাপী এই বার্তা পরিষ্কার করা হচ্ছে যে, ইরানি সরকারের অর্থায়নের প্রতিটি উৎস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থামবে না।"
তবে ব্রাসেলসের প্রকাশিত নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইইউ মার্কিন এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও, সরাসরি অভিযানে অংশ নেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত ইইউ-এর বিবৃতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার তীব্র সমালোচনা করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ইইউ ইতোমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে এবং প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে ইইউ জানায়, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর মার্কিন প্রচেষ্টাকে তারা স্বাগত জানায়। তবে এই নথির কোথাও ইইউ নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা মার্কিন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এ সরাসরি যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়নি। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সমর্থন জানানো (Endorsement) এবং সরাসরি অংশগ্রহণ করার (Participation) মধ্যে বিশাল ফারাক বিদ্যমান। মার্কিন পরিচালিত এই অভিযানে প্রধান অস্ত্র হলো ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’—অর্থাৎ, যেসব দেশ বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান ইরানের সাথে ব্যবসা বজায় রাখবে, তাদের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নেমে আসবে।
ইইউ যদি এই অভিযানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিত, তবে তাদের নিজস্ব আইনে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর ওপরও একই ধরনের বিধিনিষেধ ও জরিমানা কার্যকর করতে হতো। তাছাড়া ইইউ-তে যেকোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা নীতি প্রণয়নে ২৭টি সদস্য দেশের সর্বসম্মত সম্মতির প্রয়োজন হয়। জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো, যারা এখনো ইরানের সাথে ইইউ-এর মোট বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের আর্থিক স্বার্থ এখানে সরাসরি জড়িত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইইউ মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি সোমবারের পূর্ববর্তী বিবৃতিটি উল্লেখ করা ছাড়া নতুন কোনো স্পষ্টীকরণ দেননি। ফলে ওয়াশিংটন যা দাবি করছে এবং ইউরোপ বাস্তবে যা করছে—তার মধ্যকার দূরত্ব এখনই ঘুচছে না। ইউরোপীয় ব্যাংক ও রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন অভিযানে ‘সমর্থন দেওয়া’ আর ‘সরাসরি যোগ দেওয়া’র মধ্যে পার্থক্যটি এখন জীবন-মরণের সমান। সূত্র: ইউরো নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে জমি নিয়ে বিরোধের ফলস্বরূপ সংঘর্ষের ঘটনায় নাজিমুদ্দিন (২৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষের ফলে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বুড়িশ্বর বাজারের নিকটবর্তী নাসিরনগর-সরাইল-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে সংঘর্ষটি ঘটে।নিহত নাজিমুদ্দিন বুড়িশ্বর গ্রামের আবদুল আউয়ালের পুত্র। সংঘর্ষের সময় তিনি মাথায় টেঁটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িশ্বর গ্রামের নয়াবাড়ির ফজলু হক এবং ডায়লাবাড়ির আবদুল আউয়ালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত আগস্ট মাসে আবদুল আউয়ালের পক্ষ থেকে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়।শুক্রবার সকালে ফজলু হকের পক্ষের লোকজন দাবি করেন, মামলায় উল্লেখিত পুকুরে তাদের জমি রয়েছে। এ নিয়ে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নাজিমুদ্দিন গুরুতর আহত হন।আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।বুড়িশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে সংঘর্ষের ফলস্বরূপ একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহান বলেন, ‘কী কারণে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। একজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় উত্তেজনা আরো বেড়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি হতে শুরু করেছে। তিস্তায় ভাঙনের ফলে সুন্দরগঞ্জের কাপাশিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।এছাড়া, ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও ২৫০ পরিবার।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদ ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩৩ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদ জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২০৫ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদ-নদীগুলোর মধ্যে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।গত বুধবার ভোর থেকে তিস্তা নদী এই এলাকায় তীব্র আক্রমণ চালায়। ওই সময় নদীগর্ভে ৮৩টি পরিবারের বসতভিটা হারিয়ে যায়।স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান, ভোরে হঠাৎ করেই ভোরের পাখি বিদ্যালয়ের উত্তরপাশে ভাঙন শুরু হয়। প্রথম দফায় ৫০টি এবং সকাল ৮টার মধ্যে অবশিষ্ট বসতবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়ে।শুক্রবার পর্যন্ত আরো ২০টি পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে আংশিক বিলীন হয়ে যায়। সব মিলিয়ে শতাধিক বাড়িভিটা পুরো ও আংশিক তিস্তায় বিলীন হয়ে গেছে।স্থানীয় আবদুল মান্নান জানান, অন্তত ১৫ পরিবার টিন, বাঁশ, আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী কিছুই সরাতে পারেনি। আংশিক ভেঙে পড়া বাড়ি থেকে বাকিরা কিছু মালপত্র সরিয়ে নিতে পেরেছেন। গাছপালা, গবাদি পশু হাঁস-মুরগি ভাঙনের তোড়ে ভেসে যায়।শুক্রবার দুপুরে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ওই এলাকায় ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো প্রায় আড়াই শ পরিবার। এসব পরিবারে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।সদর থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী এনজিওকর্মী বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে দফায় দফায় এই এলাকাটি ভাঙনের মুখে পড়ে। গত ১৮ আগস্ট নদীতে বিলীন হয় এখানকার চরের শিশুদের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত জুলাই থেকে পানি বাড়া-কমার মধ্যেই শতাধিক পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। গত ৮ আগস্ট পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ভোরের পাখি সরকারি বিদ্যালয়সহ ভাঙন এলাকার বসতভিটা রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। সময়মতো জিও ব্যাগ ফেলা হলে হয়তো এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত। কিন্তু পাউবো কালক্ষেপণ করেছে।কাপাশিয়া ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম বলেন, এই এলাকা ভাঙনপ্রবণ। ভাঙনের মুখে আরো পরিবার রয়েছে। পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ডাম্পিং করতে পারলে মানুষের আশ্রয়স্থল, বিদ্যালয়, গাছপালা, জমি রক্ষা করা সম্ভব। পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করেছে। এখন তাদের ওপর ভরসা রাখতেই হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে সহায়তা দেওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে পাউবো কাজ শুরু করেছে।গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুমতি প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওই এলাকায় পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ