০৫:৪২ পি.এম
আগামী বন্যার পানি থেকে চলনবিল অঞ্চলের কৃষকদের ফসল রক্ষার জন্য সিরাজগঞ্জে নির্মাণ করা হচ্ছে স্বল্প উচ্চতার একটি ফসল রক্ষা রিং বাঁধ। এই নির্মাণের ফলে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার বিশাল ফসলের মাঠ বন্যার কবলে পড়া থেকে রক্ষা পাবে।
সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বর্তমানে সোনালী ধানের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। এটি চলনবিল বেষ্টিত সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর অঞ্চলের কৃষকদের সারা বছরের শ্রমের ফল। প্রতিবছর আগাম বন্যার আতঙ্কে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় থাকেন। সেই উদ্বেগ কমাতে, শাহজাদপুর উপজেলার রাউতারায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্মাণ করছে এক হাজার ২৫০ মিটার দীর্ঘ এই অস্থায়ী রিং বাঁধ।
বড়াল নদীর ওপর নির্মিত বালি দিয়ে তৈরি এই বাঁধটি মূলত চলনবিলের ৯টি উপজেলার প্রায় ৭২ হাজার হেক্টর জমির ফসল রক্ষায় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এই বাঁধ নির্মাণে মোট ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুই কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধ ধসে মানুষের চরম দুর্ভোগ
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মমিন বলেন, ‘এই বাঁধটি না থাকলে আগাম বন্যার পানিতে মাঠের পাকা ধান এক নিমিষেই তলিয়ে যেত।’ তিনি বাঁধের নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা এখন ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় আছি।’
একজন খামারি রহমত আলী জানান, প্রতি বছর এই বাঁধ নির্মাণের কারণে এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকের জন্য এটি একটি বড় আশীর্বাদ হিসেবে প্রতিস্থাপন হয়েছে। তিনি আরো বলে, ‘যেভাবে কৃষকেরা এই বাঁধ থেকে উপকার পাচ্ছেন, তেমনি আমরা যারা গবাদি পশু পালন করি তারাও উপকৃত হচ্ছি। দ্রুত বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি আমাদের সকলের।’
শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, এই বাঁধের ফলে কৃষকের ধান আগাম বন্যার জলধারার হাত থেকে রক্ষা পাবে। তবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে জমির অন্তত ৮০ ভাগ ধান পাকলে তা দ্রুত কেটে ফেলতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহিন রেজা বলেন, ‘বাঁধটি সময়মতো নির্মাণ শেষ করার জন্য আমরা কাজ করছি, যাতে অঞ্চলের কৃষকরা নিরাপদে তাদের ধান ঘরে তুলতে পারেন।’
আরও পড়ুন: ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলনের দাবি জানাল ৫০০ জনের মানববন্ধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন